মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধবিধি লঙ্ঘন বন্ধের আহ্বান জাতিসংঘ সংস্থাগুলোর

ফন্ট সাইজ:

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধে আন্তর্জাতিক আইন ও যুদ্ধবিধির ব্যাপক লঙ্ঘনের ঘটনায় দায়মুক্তির সংস্কৃতি বন্ধের আহ্বান জানিয়েছে একাধিক জাতিসংঘ সংস্থা। শনিবার দেয়া এক যৌথ বিবৃতিতে জাতিসংঘের বিভিন্ন সংস্থার প্রধানরা বলেন, যুদ্ধের নিয়ম আছে এবং সেই নিয়ম অবশ্যই মানতে হবে। বিবৃতিতে তারা বলেন, এই অঞ্চলে চলমান সংঘাতে যুদ্ধের নিয়ম ও আন্তর্জাতিক মানবিক আইনের ধারাবাহিক লঙ্ঘন নিয়ে তারা গভীরভাবে উদ্বিগ্ন। এই যৌথ বিবৃতিটি তৈরি করেন জাতিসংঘের মানবিক সহায়তা বিষয়ক প্রধান টম ফ্লেচার। এতে অংশ নেন মানবাধিকার, স্বাস্থ্য, খাদ্য, শরণার্থী ও শিশু বিষয়ক সংস্থার প্রধানরা। এ খবর দিয়েছে বার্তা সংস্থা এএফপি। বিবৃতিতে বলা হয়, ২৮শে ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে মধ্যপ্রাচ্য জুড়ে হাজার হাজার বেসামরিক মানুষ নিহত ও আহত হয়েছেন। লক্ষাধিক মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন, অনেকেই একাধিকবার। তারা আরও বলেন, সংখ্যা প্রতিনিয়ত বাড়ছে এবং জরুরি সেবাগুলোতে প্রবেশ আরও কঠিন হয়ে পড়ছে। বিবৃতিতে অভিযোগ করা হয় যে, স্বাস্থ্যকর্মী, হাসপাতাল ও এম্বুলেন্সও হামলার শিকার হয়েছে। স্কুল, আবাসিক ভবন, সেতু, ঘরবাড়ি, পানি সরবরাহ ব্যবস্থা এবং বিদ্যুৎ কেন্দ্রসহ বেসামরিক অবকাঠামো ধ্বংস হয়েছে। জাতিসংঘ সংস্থাগুলো বিশেষভাবে নারী ও শিশুদের ওপর এই যুদ্ধের প্রভাব নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। একই সঙ্গে বৈশ্বিক সরবরাহ শৃঙ্খলেও চাপ সৃষ্টি হয়েছে বলে জানানো হয়, যার ফলে খাদ্য ও জ্বালানির দাম বাড়ছে। বিবৃতিতে আরও বলা হয়, মানবিক সহায়তাকর্মীরাও সরাসরি সংঘাতে আক্রান্ত হচ্ছেন। এতে উল্লেখ করা হয়, শুধু এই বছরই ফিলিস্তিনের অধিকৃত অঞ্চলে ১৪ জন, ইরানে ৮ জন এবং লেবাননে ৫ জন সহায়তাকর্মী নিহত বা আহত হয়েছেন। জাতিসংঘ সংস্থাগুলো বলেছে, আমরা বেসামরিক নাগরিক, মানবিক সহায়তাকর্মী এবং বেসামরিক অবকাঠামোর ওপর সব ধরনের হামলার কঠোর নিন্দা জানাই। তারা সব পক্ষ- রাষ্ট্র হোক বা সশস্ত্র গোষ্ঠী- সবার প্রতি আন্তর্জাতিক আইনের বাধ্যবাধকতা মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছে। বিবৃতির শেষাংশে বলা হয়, সব ধরনের লঙ্ঘনের জন্য অবশ্যই জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে।

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন