সিলেট নগরীর ২৫ নম্বর ওয়ার্ডের বরইকান্দি এলাকায় প্রবাসীর পরিবারের ওপর হামলা, ভয়ভীতি প্রদর্শন ও সম্পত্তি দখলের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় কয়েকজনের বিরুদ্ধে। ভুক্তভোগী পরিবার চরম নিরাপত্তাহীনতায় দিন কাটাচ্ছে। রোববার সিলেট প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে এ অভিযোগ করেন প্রবাসী সুলতান আহমদের ছেলে হাফিজ মাওলানা আব্দুল কাইয়ুম জাকির। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, তাদের প্রতিবেশী আব্দুর রহমান সাব্বির (সুরমা মার্কেটের বীজ ব্যবসায়ী) এবং তার পুত্র এডভোকেট ওয়াজি উদ্দিন তারেক দীর্ঘদিন ধরে তাদের পরিবারসহ এলাকার সাধারণ মানুষের ওপর সন্ত্রাসী কার্যক্রম, ভয়ভীতি প্রদর্শন, মিথ্যা মামলা এবং জোরপূর্বক সম্পত্তি দখলের মতো কর্মকাণ্ড চালিয়ে আসছে।
তাদের অত্যাচারে ইতিমধ্যে একাধিক পরিবার ভিটেমাটি ছেড়ে যেতে বাধ্য হয়েছে। লিখিত বক্তব্যে তিনি জানান, গত ৬ই এপ্রিল সাব্বির ও তার সহযোগীরা তাদের বাড়ির সামনের অংশ জোরপূর্বক দখলের উদ্দেশ্যে অনধিকার প্রবেশ করে। এতে বাধা দিলে এডভোকেট ওয়াজি উদ্দিন তারেকের নেতৃত্বে সশস্ত্র সন্ত্রাসীরা দেশীয় অস্ত্র নিয়ে তাদের ওপর হামলা চালায়। এতে তিনি গুরুতর আহত হন এবং দক্ষিণ সুরমা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা গ্রহণ করেন। একই সময় তাদের পৈতৃক সম্পত্তির একটি অংশ অবৈধভাবে দখল করা হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি। তিনি আরও জানান, ঘটনার পর দক্ষিণ সুরমা থানাকে অবহিত করা হলে অভিযুক্তরা আরও ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে।
এরই ধারাবাহিকতায় ৮ই এপ্রিল ওয়াজি উদ্দিন তারেকের নেতৃত্বে আদিল, আকিয়ার, শাকিরসহ অজ্ঞাতনামা কয়েকজন তার ছোট ভাই হাফিজ মাওলানা আব্দুল মুমিন জুনেদের ওপর প্রাণনাশের উদ্দেশ্যে হামলা চালায়। এতে ধারালো অস্ত্র দিয়ে তার মাথাসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর আঘাত করা হয়। পরে স্থানীয়দের সহায়তায় তাকে উদ্ধার করে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
বর্তমানে এ ঘটনায় মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে বলে জানান ভুক্তভোগী। তবে অভিযুক্তরা মামলা না করার জন্য তাদের পরিবারকে বিভিন্নভাবে হুমকি দিচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। লিখিত বক্তব্যে আরও উল্লেখ করা হয়, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে এলাকায় ত্রাসের রাজত্ব কায়েমের অভিযোগ রয়েছে। এমনকি স্থানীয় ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানও তাদের অপকর্ম থেকে রক্ষা পায়নি। সাব্বির মিয়া ঐতিহ্যবাহী মিস্তরী জামে মসজিদের সম্পদ লুণ্ঠনের উদ্দেশ্যে মিথ্যা মামলা দায়েরের চেষ্টা করলেও এলাকাবাসীর প্রতিরোধের মুখে তা ব্যর্থ হয়। এ ছাড়া তাদের বিরুদ্ধে পরসম্পদের লোভে ২০২০ সালে রিনি বেগম নামে এক নারীকে বসতভিটা থেকে উচ্ছেদের অভিযোগও আনা হয়।
