গরু চুরির মামলায় বিএনপি নেতা গ্রেপ্তার

ফন্ট সাইজ:

জয়পুরহাটের কালাই উপজেলায় গরু চুরির একটি মামলায় পুনট ইউনিয়নের দেওগ্রামের বাসিন্দা ফিরোজ আহম্মেদ মণ্ডল (৪৭) কে গত শনিবার ভোররাতে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তিনি একই এলাকার মৃত মোহাতাব আলীর ছেলে এবং পুনট ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপি’র সভাপতি।

স্থানীয়দের দাবি, এতদিন তার ভয়ে কেউ মুখ খুলতে সাহস পাননি। তবে গ্রেপ্তারের পর তার বিরুদ্ধে একের পর এক অভিযোগ সামনে আসছে। এলাকাবাসীর ভাষ্য, তিনি শুধু একটি গরু চুরির ঘটনার সঙ্গে জড়িত নন বরং দীর্ঘদিন ধরে চুরি, মাদক কারবার ও চাঁদাবাজির সঙ্গে সম্পৃক্ত একটি চক্রের সঙ্গে যুক্ত থেকে এলাকায় প্রভাব বিস্তার করে আসছিলেন। পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ৩০শে নভেম্বর বেগুনগ্রামের এক গৃহবধূর গোয়ালঘর থেকে তিনটি গরু চুরির ঘটনায় দায়ের হওয়া মামলার তদন্তে আগে গ্রেপ্তার হওয়া আসামিদের জবানবন্দিতে ফিরোজের নাম উঠে আসে। তাদের স্বীকারোক্তি অনুযায়ী, ১ লাখ ৮০ হাজার টাকা মূল্যের একটি গর্ভবতী গাভী শিবগঞ্জের একটি পরিত্যক্ত পাম্পে লুকিয়ে রেখে পরে বগুড়ার সোনাতলার ডাকুমারা হাটে ৬৮ হাজার টাকায় বিক্রি করা হয়। বিক্রির অর্থ ভাগাভাগির সময় ফিরোজকে ৬০ হাজার টাকা দেয়া হয়। এসব তথ্যের ভিত্তিতে তাকে নিজ বাড়ি থেকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ এবং একই দিন আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়।

গ্রেপ্তারের পর দেওগ্রাম ও আশপাশের এলাকার বাসিন্দারা অভিযোগ করেন, ফিরোজের নেতৃত্বে একটি সক্রিয় চোরচক্র এলাকায় বিভিন্ন স্থানে চুরি সংঘটিত করতো। শুধু গরু নয়- ধান, কৃষিপণ্য ও সেচযন্ত্রের যন্ত্রাংশ চুরির ঘটনাতেও তার সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ রয়েছে। পাশাপাশি এলাকায় মাদক সরবরাহের ক্ষেত্রেও তিনি জড়িত ছিলেন বলে দাবি করেন স্থানীয়রা। তাদের ভাষায় মাদক ও চুরির অর্থের জোরে এলাকায় প্রভাব তৈরি করে তিনি ভয়ভীতি দেখিয়ে চলাফেরা করতেন।

চাঁদাবাজির অভিযোগও উঠেছে তার বিরুদ্ধে। স্থানীয় ব্যবসায়ী ও কৃষকদের অভিযোগ, বিভিন্ন অজুহাতে তাদের কাছ থেকে নিয়মিত টাকা আদায় করা হতো। কেউ দিতে অস্বীকৃতি জানালে তাকে ভয় দেখানো বা হয়রানির শিকার হতে হতো। ফলে দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় এক ধরনের আতঙ্ক বিরাজ করছিল।

এ বিষয়ে কালাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রফিকুল ইসলাম বলেন, পূর্বে গ্রেপ্তার হওয়া আসামিদের তথ্য ও স্বীকারোক্তির ভিত্তিতে ফিরোজ আহম্মেদ মণ্ডলকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাকে আদালতে পাঠানো হয়েছে এবং মামলার তদন্ত চলমান রয়েছে। তার বিরুদ্ধে ওঠা অন্যান্য অভিযোগও যাচাই করা হচ্ছে বলে তিনি জানান।

কালাই উপজেলা বিএনপি’র আহ্বায়ক ইব্রাহিম হোসেন মণ্ডল বলেন, ফিরোজের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ প্রমাণিত হলে দল তার দায় নেবে না। বিএনপি’র নাম ব্যবহার করে কোনো ধরনের অপরাধ বরদাশত করা হবে না এবং প্রয়োজন হলে তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেয়া হবে।

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন