ইটনায় সাইনবোর্ড টাঙিয়ে কলেজের পুকুর ও জায়গা দখল

ইটনায় সাইনবোর্ড টাঙিয়ে কলেজের পুকুর ও জায়গা দখল

ফন্ট সাইজ:

কিশোরগঞ্জের ইটনা সরকারি কলেজের ভোগদখল করা পুকুর ও জমিকে নিজের দাবি করে মাহমুদুল হাসান মাজহারুল নামে একজন আইনজীবী সাইনবোর্ড স্থাপন করেছেন। ঈদ উপলক্ষে কলেজ ছুটি থাকার সময়ে গত ২৩শে মার্চ সাইনবোর্ড দিয়ে জায়গা ও পুকুর দখল করার পর গত ৮ই এপ্রিল জায়গাটিতে সিমেন্টের পিলার দিয়ে বেষ্টনী তৈরি করে তিনি দখল কায়েম করেছেন। এডভোকেট মাহমুদুল হাসান মাজহারুল সম্পর্কে ইটনা উপজেলা বিএনপি’র সভাপতি এসএম কামাল হোসেনের ভাতিজা। এই সম্পর্কের সূত্র ধরে বিএনপি নেতা কামাল হোসেনের বিরুদ্ধে কলেজের পুকুর ও জায়গা দখলের অভিযোগ করে বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশ করা হয়। বিষয়টিকে উদ্দেশ্যমূলক অপপ্রচার আখ্যা দিয়ে সংবাদ সম্মেলন করেছেন ইটনা উপজেলা বিএনপি’র সভাপতি এসএম কামাল হোসেন। রোববার দুপুরে কিশোরগঞ্জ জেলা শহরের একটি প্রতিষ্ঠানে অনুষ্ঠিত এ সংবাদ সম্মেলনে পুকুর ও জায়গা দখলে নিজের বিন্দুমাত্র সম্পৃক্ততা নেই দাবি করে এসএম কামাল হোসেন বলেন, আমার অবস্থান কলেজের পক্ষে। কলেজের কোনো ক্ষতি হোক আমি তা চাই না। কলেজের এক ইঞ্চি জায়গাও যেন কেউ বেআইনিভাবে দখল করতে না পারে, সেটি আমি চাই। কলেজের জায়গা জমি রক্ষায় যেকোনো উদ্যোগের সঙ্গে আমি ভূমিকা রাখতে রাজি আছি।
লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ সরকারের পতন হলেও তাদের সুবিধাভোগী একটি গোষ্ঠী নানা অবস্থানে এখনো সক্রিয় রয়েছে। তারাই আমাকে জনস্বার্থ-সংশ্লিষ্ট একটি বিষয়ে জড়িয়ে এই অপপ্রচারে ইন্ধন জোগাচ্ছে। প্রকৃতপক্ষে আমি ব্যক্তিগতভাবে ও বিএনপি’র নেতাকর্মীরা কেউ কলেজের জায়গা ও পুকুর দখলের সঙ্গে জড়িত নয়।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন- ইটনা উপজেলা বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক সিদ্দিকুজ্জামান ঠাকুর স্বপন, জেলা মৎস্যজীবী দলের সাধারণ সম্পাদক শ্যামল মিল্কী, ইটনা সদর ইউনিয়ন বিএনপি সভাপতি এম.এ ছালেক, সহ-সভাপতি মেজান মিয়া, সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার বেপারী, সাংগঠনিক সম্পাদক আলীউর মিয়া, উপজেলা জাসাসের সভাপতি ইউসুফ কবীর তোতা, উপজেলা মৎস্যজীবী দলের আহ্বায়ক আব্দুল কুদ্দুছ প্রমুখ।
এদিকে কলেজ সূত্র জানিয়েছে, প্রত্যন্ত হাওর উপজেলা ইটনায় কোনো কলেজ না থাকায় এখানকার ছাত্রছাত্রীদের উচ্চ শিক্ষা লাভের সুযোগ তৈরির জন্য ১৯৯৮ সালে স্থানীয় প্রচেষ্টায় ইটনা মহাবিদ্যালয় যাত্রা শুরু করে। কলেজ প্রতিষ্ঠার সময় স্থানীয় বিদ্যোৎসাহী ব্যক্তিবর্গ প্রতিষ্ঠানটির জন্য জমি দান করেন। এরপর থেকে দান হিসেবে পাওয়া জায়গাতেই কলেজটির অবকাঠামো নির্মাণের মাধ্যমে শিক্ষা কার্যক্রম চলে আসছে। ২০১৬ সালে কলেজটি সরকারিকরণ করা হয়। কলেজটির জায়গার একটি অংশে একটি বিশাল আয়তনের পুকুর রয়েছে। পুকুরটি লিজ দেয়ার মাধ্যমে কলেজটি এ থেকে আর্থিকভাবে উপকৃত হয়ে আসছে। বর্তমানে শাহীন মিয়া নামে এক ব্যক্তি পুকুরটি লিজ নিয়ে মাছ চাষ করেছেন। এ রকম পরিস্থিতিতে বিগত ঈদুল ফিতরের ছুটিতে কলেজ বন্ধ থাকার সময়ে গত ২৩শে মার্চ পুকুরটির বেশির ভাগ অংশে বেষ্টনী তৈরি করে এবং পুকুরের পাড়ে সাইনবোর্ড স্থাপন করে অন্তত এক একরের মতো জায়গা দখলে নেন এডভোকেট মাহমুদুল হাসান মাজহারুল। সাইনবোর্ডটিতে লেখা রয়েছে, পৈতৃক সূত্রে নিম্ন তফসিল বর্ণিত সম্পত্তির মালিক এডভোকেট মাহমুদুল হাসান (মাজহারুল) গং। লেখার নিচের অংশে সম্পত্তির তফসিল, জমির পরিমাণ ৪১ শতাংশ ++ এবং মোবাইল নম্বর দেয়া হয়েছে।
বিষয়টি নিয়ে কলেজের অধ্যক্ষের দায়িত্বে থাকা ব্যবস্থাপনা বিভাগের প্রভাষক মো. কামরুজ্জামান বলেন, আমি কলেজটির প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে কর্মরত আছি। বিদ্যমান সম্পত্তি কলেজকে ভোগদখল করতে দেখে আসছি। এখন কলেজের পুকুরের বেশির ভাগ অংশ নিজেদের দাবি করে এডভোকেট মাহমুদুল হাসান মাজহারুল গংয়ের নামে সাইনবোর্ড টানানো হয়েছে। এর ফলে কলেজের স্বার্থ ক্ষুণ্ন্ন হচ্ছে। এ ব্যাপারে এডভোকেট মাহমুদুল হাসান মাজহারুল সাংবাদিকদের বলেন, এই জায়গার প্রকৃত মালিক আমরা। এখানে কলেজের বিন্দুমাত্র জায়গা নেই। আমার জায়গাতেই আমি সাইনবোর্ড টাঙিয়েছি।

এস,এম,হাফিজুর রহমান

২ মাস আগে

কলেজ সৃষ্টি হওয়ার পূর্ব হতেই পুকুরটি মরহুম এস এম হারুন অর রশিদের মালিকানাধীন ও দখলীয় ছিল। কলেজ সৃষ্টির পর কতিপয় ব্যক্তি অতিউৎসাহী হয়ে বেআইনী ভাবে বাহুবল প্রয়োগ করে সংলগ্ন নতুন বাজারের দখলীয় পুকুরের সাথে বিরোধীয় পুকুরটিকে একাকার করে কলেজের দখলে দিয়েছে। তখন হতেই বিরোধ ও মোকদ্দমার উদ্ভব হয়। কলেজ কর্তৃপক্ষ কর্তৃক উপজেলা নির্বাহী অফিসার মহোদয়ের নিকট দাখিলকৃত অভিযোগপত্রটি আমলে নিয়ে দ্রুত তদন্তক্রমে ন্যায়বিচারের মাধ্যমে বিষয়টি নিষ্পত্তি করার জন্য এলাকাবাসীর দাবী। এ বিষয়ে মাননীয় সাংসদ এড. মো: ফজলুর রহমানের দৃষ্টি আকর্ষণ করছে এলাকাবাসী।

মন্তব্য করুন