সাঁথিয়ায় ছাত্রদের ‘হেয়ার স্টাইল’ নির্ধারণী নোটিশ

ফন্ট সাইজ:

সাঁথিয়া উপজেলা পরিষদ উচ্চ বিদ্যালয়ে চুলের নির্দিষ্ট কাটিং বা ‘হেয়ার স্টাইল’ নির্ধারণ করে নোটিশ জারি করা হয়েছে। তবে এই উদ্যোগকে কেন্দ্র করে অভিভাবক ও স্থানীয়দের মধ্যে দেখা দিয়েছে মিশ্র প্রতিক্রিয়া। শিক্ষার্থীদের মাঝে শৃঙ্খলা, পরিচ্ছন্নতা এবং সমতার চর্চা গড়ে তুলতে ব্যতিক্রমী এই উদ্যোগকে অনেকে সাধুবাদ জানিয়েছেন। শিক্ষা শুধু বইয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, নৈতিকতা, নিয়ম মেনে চলা এবং ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্নতার অভ্যাস গড়ে তোলাও শিক্ষার গুরুত্বপূর্ণ অংশ, এই ভাবনা থেকেই নেয়া হয়েছে এমন সিদ্ধান্ত জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
ইতিমধ্যে বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে শুরু হয়েছে আলোচনা-সমালোচনা। তবে সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এটি কোনো চাপ সৃষ্টি করার উদ্যোগ নয়; বরং শিক্ষার্থীদের মধ্যে শৃঙ্খলাবোধ, আত্মনিয়ন্ত্রণ এবং সমতার মূল্যবোধ গড়ে তোলার একটি ইতিবাচক প্রয়াস। গত ৯ই এপ্রিল পাবনার সাঁথিয়া উপজেলা পরিষদ উচ্চ বিদ্যালয়ে জারি করা হয়েছে একটি বিশেষ নির্দেশনা। নোটিশে একটি নির্দিষ্ট হেয়ার কাটিংয়ের ছবি যুক্ত করা হয়েছে, যা অনেকটা ‘আর্মি কাট’-এর মতো। একইসঙ্গে সতর্ক করে বলা হয়েছে, নির্দেশনা অমান্য করলে সংশ্লিষ্ট শিক্ষার্থীদের প্রাতিষ্ঠানিক শৃঙ্খলা ভঙ্গের দায়ে শাস্তির আওতায় আনা হবে। বিদ্যালয়ের নোটিশে বলা হয়েছে, আগামী ১৫ই এপ্রিল থেকে শিক্ষার্থীদের নির্ধারিত নিয়মে চুল কেটে, হাত-পায়ের নখ পরিপাটি করে বিদ্যালয়ে আসতে হবে। অন্যথায় তা শৃঙ্খলা ভঙ্গ হিসেবে গণ্য হবে। নোটিশটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি নিয়ে শুরু হয় নানা আলোচনা-সমালোচনা।
পাবনার সিনিয়র রিপোর্টার হাবিবুর রহমান স্বপন বলেন, শৃঙ্খলা অবশ্যই প্রয়োজন, তবে বিষয়টি যেন শিক্ষার্থীদের জন্য চাপের কারণ না হয় সেটাও খেয়াল রাখা দরকার।
স্কুলের শিক্ষকরা বলছেন, এটি কোনো চাপ সৃষ্টি নয়; বরং শিক্ষার্থীদের মাঝে সমতা, পরিচ্ছন্নতা ও নিয়মতান্ত্রিক জীবনযাপন শেখানোর একটি উদ্যোগ। প্রধান শিক্ষক মো. লিটন উদ্দিন জানান, বিদ্যালয়ের শিক্ষার পরিবেশ বজায় রাখা এবং শিক্ষার্থীদের মাঝে শৃঙ্খলাবোধ গড়ে তোলাই আমাদের লক্ষ্য। এটি প্রশাসনিক নির্দেশনারই একটি অংশ।
সাঁথিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, রিজু তামান্না বলেন, এটি মূলত শিক্ষার্থীদের পরিচ্ছন্নতা, শৃঙ্খলা ও নিয়ম মেনে চলার অভ্যাস গড়ে তোলার উদ্যোগ। ছোট চুল, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা এসবই একটি সুস্থ শিক্ষাজীবনের অংশ। বিশিষ্ট চিকিৎসক ও শিক্ষানুরাগী ক্যাপ্টেন (অব.) ডা. সরোয়ার জাহান ফয়েজ বলেন, ছোটবেলা থেকেই নিয়ম-শৃঙ্খলা ও পরিচ্ছন্নতার অভ্যাস গড়ে উঠলে তা ভবিষ্যৎ জীবনে ইতিবাচক প্রভাব ফেলে। সমতা ও একরূপতার মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের মধ্যে ভেদাভেদ কমিয়ে আনার পাশাপাশি, একটি সুশৃঙ্খল পরিবেশ তৈরিতেও এ ধরনের উদ্যোগ ভূমিকা রাখতে পারে। সবমিলিয়ে, শৃঙ্খলা ও নৈতিক শিক্ষার চর্চাকে গুরুত্ব দিয়ে নেয়া এই উদ্যোগকে ইতিবাচকভাবে দেখার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন