মার্কিন যুদ্ধজাহাজের হরমুজ প্রণালি অতিক্রমের দাবি নাকচ ইরানের

মার্কিন যুদ্ধজাহাজের হরমুজ প্রণালি অতিক্রমের দাবি নাকচ ইরানের

ফন্ট সাইজ:

যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনীর দুটি যুদ্ধজাহাজ হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করার যে দাবি করা হয়েছে তা জোড়ালোভাবে প্রত্যাখ্যান করেছে ইরান। একই সঙ্গে দেশটির বিপ্লবী গার্ড সতর্ক করে বলেছে, কৌশলগত এই জলপথে কোনো সামরিক জাহাজ প্রবেশের চেষ্টা করলে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে। এ খবর দিয়েছে এনডিটিভি।

এতে বলা হয়, শনিবার যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড জানায়, মার্কিন নৌবাহিনীর দুটি যুদ্ধজাহাজ হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করে ইরানের পেতে রাখা মাইন অপসারণের কাজ শুরু করেছে। তবে ইরান এই দাবি সম্পূর্ণভাবে নাকচ করে দিয়েছে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প সামাজিক মাধ্যমে জানান, যুক্তরাষ্ট্র হরমুজ প্রণালি ‘পরিষ্কার করার’ কাজ শুরু করেছে। তিনি বলেন, খুব শিগগিরই একটি নিরাপদ পথ তৈরি করা হবে, যাতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক করা যায়।

মার্কিন বাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়, অভিযানে অংশ নেয়া জাহাজ দুটি হলো ইউএসএস ফ্র্যাঙ্ক ই. পিটারসন এবং ইউএসএস মাইকেল মারফি। ভবিষ্যতে আরও বাহিনী, এমনকি পানির নিচে চলাচলকারী ড্রোনও এই অভিযানে যুক্ত হতে পারে।

তবে ইরানের সামরিক মুখপাত্র ইব্রাহিম জোলফাঘারি রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের এই দাবি ‘সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন’। তিনি জোর দিয়ে বলেন, হরমুজ প্রণালি দিয়ে কোনো জাহাজ চলাচলের সিদ্ধান্ত নেয়ার ক্ষমতা শুধুমাত্র ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর।

এদিকে ইরানের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম জানায়, বিপ্লবী গার্ডের নৌবাহিনী হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছে, হরমুজ প্রণালি দিয়ে কোনো সামরিক জাহাজ প্রবেশের চেষ্টা করলে কঠোরভাবে মোকাবিলা করা হবে। তারা আরও জানায়, নির্দিষ্ট শর্তে কেবল বেসামরিক জাহাজ চলাচলের অনুমতি দেয়া হবে।

ট্রাম্প আরও দাবি করেন, বিশ্বের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ অপরিশোধিত তেল এই প্রণালী দিয়ে পরিবাহিত হয় এবং বর্তমানে সেখানে ইরানের পেতে রাখা মাইন এখনও হুমকি হিসেবে রয়ে গেছে। তিনি বলেন, এই উদ্যোগ চীন, জাপান ও ফ্রান্সের মতো দেশগুলোর জন্যও সহায়ক হবে।

উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের হামলার পর থেকে হরমুজ প্রণালি কার্যত করে দিয়েছে ইরান। যদিও চলতি সপ্তাহে হওয়া নড়বড়ে যুদ্ধবিরতির একটি শর্ত ছিল এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ আবার চালু করা।

এ পরিস্থিতিতে যুদ্ধ বন্ধের লক্ষ্যে পাকিস্তানে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সরাসরি আলোচনা অনুষ্ঠিত হলেও তাতে কোনো লাভ হয়নি। উভয় পক্ষই জানিয়েছে, কোনোরকম চুক্তি ছাড়াই আলোচনা শেষ করেছে তারা। সুতরাং মধ্যপ্রাচ্য সংকট আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন