সদ্য সমাপ্ত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ফলাফল নিয়ে চুলচেরা হিসাব কষছে জামায়াত। নির্বাচনী ফল ঘোষণার আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি না হতেই জরুরি বৈঠকে বসেছেন দলটির সর্বোচ্চ নীতি-নির্ধারণী ফোরাম কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ। শুক্রবার বিকালে রাজধানীর মগবাজারে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে বসে এই বৈঠক। এরপরই বসে ১১ দলীয় নির্বাচনী জোটের বৈঠক। দুই বৈঠকের মূল আলোচ্য বিষয় ছিল- ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের ফলাফল। জামায়াতের দায়িত্বশীল সূত্রমতে, নির্বাচনী ফলাফলে কিছু ত্রুটি-বিচ্যুতি ও অনিয়মের অভিযোগ থাকলেও সামগ্রিক পরিবেশ ছিল অভূতপূর্ব। নির্বাচনী ফলাফলে জামায়াত কাঙ্ক্ষিত সংখ্যায় আসন না পেলেও তাতে তেমন সংক্ষুব্ধ নন তারা। সূত্রমতে, স্বাধীনতার পর এই প্রথমবারের মতো দেশের প্রধান বিরোধী দলের আসনে বসছে জামায়াত। ২০০৮ সালে নির্বাচনে মাত্র ২ আসনে জয়ী হয় জামায়াত। প্রায় ১৭ বছর প্রতিকূল পরিস্থিতি মোকাবিলা করে ২০২৬ সালে ৬৮ আসনে বিজয়ী হওয়াকে যথেষ্ট ইতিবাচক হিসেবে দেখছে দলের নীতি-নির্ধারণী মহল।
জামায়াতের নির্বাচনী ইতিহাস পর্যালোচনায় দেখা হয়। ১৯৯১ সালে দলটি ১৮ আসনে জয় লাভ করে। ১৯৯৬ সালে সেই সংখ্যা নেমে আসে তিনে। তবে ২০০১ সালে বিএনপি’র সঙ্গে জোটবদ্ধ নির্বাচন করে ১৭ আসন পায়। পরবর্তীতে ২০০৮ সালে মাত্র দু’টি আসন নিয়ে তারা সংসদে যান। এরপর দীর্ঘ সময় তাদের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড আদালতের রায়, দমন-পীড়ন এবং রাজনৈতিক প্রতিকূলতায় দলটি অস্তিত্বের সংকটে পড়ে। সেই প্রেক্ষাপটে এবারের নির্বাচন তাদের আসনের সংখ্যা আগের সব রেকর্ডকে ছাড়িয়েছে।
জামায়াত আমীর ডা. শফিকুর রহমানসহ রাজধানীর ছয়টি আসনে দলীয় প্রার্থীদের বিজয়ী হওয়াকেও অনেক বড় সাফল্য হিসেবে দেখছে দলটি। এছাড়া সারা দেশের ৫৩টি আসনে অল্প ভোটের ব্যবধানে দলীয় প্রার্থীদের পরাজয়কেও ইতিবাচক মনে করছে জামায়াত।
জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এবং প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের প্রধান এডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের বলেন, নির্বাচন অবাধ শান্তিপূর্ণ হয়েছে এতে কোনো সন্দেহ নেই। কিন্তু নির্বাচনী ফলাফল ঘোষণায় যথেষ্ট ত্রুটি-বিচ্যুতি, অনিয়ম আছে। অনেক আসনে জামায়াতসহ ১১ দলীয় জোটের প্রার্থীদের পরিকল্পিতভাবে হারানো হয়েছে। আমরা মাঠপর্যায় থেকে এসব অভিযোগের প্রমাণ সংগ্রহ করছি। এরপর আইনি পদক্ষেপ নেয়া হবে।
এর আগে শুক্রবার ভোর ৪টার দিকে রাজধানীর আগারগাঁওয়ের নির্বাচন ভবনে যান এহসানুল মাহবুব জুবায়ের। এ সময় তিনি বলেন, ভোট গণনার কাজে নির্বাচন কমিশনের যারা জড়িত আছেন রিটার্নিং কর্মকর্তা, সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা এবং ইসি’র সদস্যরা, তারা নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার ক্ষেত্রে অস্বাভাবিকভাবে বিলম্ব করেছেন। ১১ দলীয় জোটের শীর্ষ নেতৃবৃন্দের আসনগুলোতে দায়িত্বরত এজেন্টদের কাছ থেকে পাওয়া শিট অনুযায়ী রাত ৮টা থেকে ৯টার মধ্যে ফলাফল ঘোষণা করার কথা ছিল, কিন্তু তা হয়নি। তিনি দাবি করেন, কিছু আসনে প্রথমে যে শিটে নির্বাচন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা স্বাক্ষর করেছেন কিছু সময় পর সেটি পরিবর্তন করা হয়েছে। তার অভিযোগ, ঢাকা-১৭ আসনে এ ধরনের ঘটনা ঘটেছে এবং কমপক্ষে আটটি আসনে একইভাবে পরিবর্তন আনা হয়েছে।
তিনি অভিযোগ করেন, কেন্দ্রগুলোতে তাদের এজেন্টদের কথা বলতে দেয়া হয়নি। এ বিষয়ে ইতিমধ্যে তারা প্রেস কনফারেন্স করেছেন এবং পদক্ষেপ নেয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
শুক্রবার সকাল সাড়ে আটটায় দলের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজ থেকে পোস্টের মাধ্যমে জানানো হয়। প্রিয় দেশবাসী, সারা দিন অত্যন্ত ইতিবাচক ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে বিপুল সংখ্যায় ভোট প্রদান করার জন্য আমরা আপনাদের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। তবে নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার প্রক্রিয়া নিয়ে আমরা সন্তুষ্ট নই।

Binte
৫ মাস আগেবাস্তবতা বুঝতে হবে।