গফরগাঁওয়ের পাগলায় স্কুলছাত্রীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের মামলার আসামিরা রাজনৈতিক প্রভাবে প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এ ছাড়া আসামিদের অব্যাহত হুমকি ও চাপে ভিকটিম পরিবার এখন চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে।
শনিবার ময়মনসিংহ প্রেস ক্লাব মিলনায়তনে এক সংবাদ সম্মেলনে ভিকটিমের বড় বোন এসব অভিযোগ করেন। সংবাদ সম্মেলনে তিনি জানান, গত বছরের ২১শে ডিসেম্বর গফরগাঁওয়ের পাগলা থানার ডুবাইল এলাকায় যুবদল নেতা মোশাররফ হোসেন মানিকের নেতৃত্বে তার বোন সংঘবদ্ধ ধর্ষণের শিকার হয়। ঘটনার পরপরই থানায় মামলা করতে গেলে পুলিশ অভিযোগ নিতে অস্বীকৃতি জানায়। পরে বাধ্য হয়ে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে মামলা দায়ের করেন তারা। পরে গত ৭ই মার্চ পাগলা থানায় মামলাটি রুজু হয়।
প্রাথমিক তদন্তে ঘটনার সত্যতা পাওয়ার পর পুলিশ প্রধান আসামিকে গ্রেপ্তার করলেও অন্য আসামিরা এখনো প্রকাশ্যে ঘোরাফেরা করছে। কিন্তু পুলিশ বলছে- আসামিদের খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করা হয়, গ্রেপ্তারের পর থেকেই বাকি আসামি ও তাদের সহযোগীরা মামলা তুলে নিতে ভিকটিমের পরিবারের ওপর চাপ সৃষ্টি করছে। তাদের বাড়ি থেকে বের হতে বাধা দিচ্ছেন তারা।
এমনকি প্রাণনাশের হুমকিও দেয়া হচ্ছে। শুধু তাই নয়, সংবাদ সম্মেলন করতে ভিকটিম পরিবারকে রাতের আঁধারে গোপনে ময়মনসিংহে আসতে হয়েছে। তিনি বলেন, আসামিদের হুমকির কারণে ধর্ষণের শিকার কিশোরীর স্কুলে যাওয়া বন্ধ হয়ে গেছে। চলতি বছর তার এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেয়ার কথা থাকলেও নিরাপত্তাহীনতার কারণে তা এখন অনিশ্চিত। জানা গেছে, মামলার প্রধান আসামি মোশাররফ হোসেন মানিক গফরগাঁও উপজেলা বিএনপি’র সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও পাগলা থানা বিএনপি’র সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক শেখ মোহাম্মদ ইসহাকের ভাতিজা এবং পাগলা থানা বিএনপি’র সাবেক সদস্য শেখ মোহাম্মদ ইসমতের ছেলে। এ বিষয়ে পাগলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আমিনুল ইসলাম বলেন, ভিকটিম পরিবারকে হুমকি দেয়ার বিষয়টি পুলিশ অবগত রয়েছে। পলাতক আসামিদের দ্রুত গ্রেপ্তার করতে চেষ্টা চলছে।
