দিপালীর বাড়িতে শোকের মাতম

দিপালীর বাড়িতে শোকের মাতম

ফন্ট সাইজ:

লেবাননের বৈরুত শহরে গত বুধবার ইসরাইলি ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় নিহত ফরিদপুরের গৃহকর্মী দিপালীর বাড়িতে চলছে শোকের মাতম। পরিবারের সদস্যদের দাবি তার লাশ যেন দ্রুত দেশের মাটিতে ফিরিয়ে আনা হয়। তবে দিপালীর লাশ দ্রুত আনার ব্যাপারে প্রশাসন তৎপর রয়েছে বলে জানা যায়।

দিপালীর বোন লাইজু আক্তার জানান, গত ৮ই এপ্রির বিকাল ৪টার সময় বোনের সঙ্গে তার শেষ কথা হয়। আধাঘণ্টা কথা বলার পর তাদের লাইন কেটে গেলে তিনি আর দিপালীর সঙ্গে যোগাযোগ করে লাইন পান নাই। অগত্যা দিপালী যে বাড়িতে কাজ করতো সেই বাড়ির মালিকের সঙ্গে মেয়ের মোবাইলে কথা বলার চেষ্টা করে তাকেও পাওয়া যায় নাই।
গত বৃহস্পতিবার অজানা একটা মোবাইলের মাধ্যমে মেসেজে হাই লেখা আসে সেই মোবাইল থেকেই ১০ই এপ্রিল তার বোনের খোঁজ নেয়ার কথা বলে। পরে মালিকের বড় ছেলে স্ত্রীকে মোবাইল করে নিশ্চিত হন তাদের বোনের মৃত্যুর খবর।

এরপর থেকে ফরিদপুরের চরভদ্রাসনের দিপালী আক্তারের গ্রামের বাড়ি চরহরিরামপুর ইউনিয়নের পূর্ব সালেপুর গ্রামের চলছে শোকের মাতম। দিপালীর পিতা শেখ মোফাজ্জেল বলেন, আমি আমার মেয়ের লাশ দ্রুত দেশে এনে কবর দিতে চাই। এটাই আমার একমাত্র ইচ্ছা। একই কথা বলেছেন তার পরিবারের অন্য সদস্যরা। প্রবাসী কল্যাণ বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের ওয়েজ আর্নার্স বোর্ডের ফরিদপুরের সহকারী পরিচালক আশিক সিদ্দিকী জানান, আমরা মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে ইতিমধ্যে যোগাযোগ করেছি, আশা করছি দ্রুত সময়ের মধ্যে লাশ আনতে সক্ষম হবো। তবে যেহেতু যুদ্ধগ্রস্ত দেশ নানা প্রতিকূলতার মধ্যে পড়তে হতে পারে। চরভদ্রাসন উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা সুরাইয়া মমতাজ বলেন, খবর পেয়ে আমি তাৎক্ষণিক ১০ হাজার টাকা ও শুকনা খাবার দিয়েছি। পরবর্তীতে আবেদনের আলোকে তাদের প্রাপ্তিতা দেয়া হবে। জেলার চরভদ্রাসনের উপজেলার সালেহপুর এলাকার দুর্গম এলাকার দরিদ্র কৃষক শেখ মোফাজ্জেলের সংসারের অভাব ঘোচাতে ২০১৫ সাল থেকে প্রবাস জীবন কাটাচ্ছিলেন দিপালী আক্তার। সর্বশেষ ২০২৩ সালের শেষের দিকে এসে আবার দ্বিতীয় দফায় ২৪ সালের এপ্রিল মাসে লেবাননে যান। নিয়তির পরিহাস দরিদ্র পিতার অভাব ঘোচাতে যে স্বপ্ন দেখেছিলেন দিপালী তা স্বপ্ন স্বপ্নই রয়ে গেল। এখন পরিবারটির সামনে আছে কেবল অনিশ্চিত ভবিষ্যৎ এমনটাই বলছেন এলাকাবাসী।

Buddha

২ মাস আগে

GORIB MANUSH ER SHANTI KOHAO NEI .

মন্তব্য করুন