আমরা কোথায় যাবো, কোথায় থাকবো, ঝড় উঠলে ছেলেমেয়ে নিয়ে পলিথিন জড়িয়ে রাত কাটাতে হয়- এমন কথাই বলছিলেন আবাসন থেকে উচ্ছেদ হওয়া পরিবারগুলো। খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলার আশ্রয়ণ প্রকল্প-২ এর অধীনে নির্মিত ঘরে বসবাসকারীরা উচ্ছেদ হয়ে এখন দিশাহারা। সঙ্গে কালবৈশাখী ঝড়ের আতঙ্কে দিন কাটছে তাদের। সরজমিন উপজেলার চুকনগর আবাসন এলাকায় গেলে এমনই দৃশ্য চোখে পড়ে। তথ্য নিয়ে জানা যায়, আবাসন প্রকল্প-২ এর অধীনে উপজেলায় সহস্রাধিক ঘর নির্মাণ করা হয়। আবাসনের এই সকল ঘর নির্মাণের ক্ষেত্রে মানা হয়নি কোনো ধরনের নিয়ম। যদিও নিয়মে বলা হয়েছে, প্রতিটি ঘরের জমি নির্বাচন করার জন্য নিষ্কণ্টক খাস জমি হতে হবে। নিষ্কণ্টক জমি না পাওয়া গেলে সেক্ষেত্রে জমি ক্রয় করার জন্য বলা হলেও কোনো ধরনের নিয়মের তোয়াক্কা না করে কোনো কোনো ক্ষেত্রে নদী ও খাল জমির শ্রেণি পরিবর্তন করে নির্মাণ করা হয়েছে এই আবাসনের ঘর। অন্যদিকে, রাষ্ট্রের কোটি কোটি টাকা এখন নদীর বুকে বিলীন। প্রত্যেকটি ঘরের জন্য বরাদ্দ করা হয়েছিল ২ লাখ ৮৫ হাজার ৫০০ টাকা। জানা যায়, বিগত সরকারের আমলে চুকনগরের ভদ্রা নদীর তীরে ভূমিহীনদের জন্য নির্মাণ করা হয়েছিল আশ্রয়ণ প্রকল্প-২ এর অধীনে ১৪৫টি ঘর। প্রত্যেকটা ভূমিহীন পরিবারকে দেয়া হয়েছিল ২ শতক জমি সহ একটি বাড়ি। ইতিমধ্যে জলাবদ্ধতা নিরসনের জন্য আপার ভদ্রাসহ মোট ছয়টি নদী খননের কাজ চলমান রয়েছে। সেই ভদ্রা নদী খননের ডিজাইন অনুযায়ী আবাসনের ঘরগুলো নদীর আওতায় পড়েছে।
এই সকল ঘরের লোকেরা এখন চুকনগর ফুটবল খেলার মাঠে কোনো রকম ছাবড়া টানিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছে। এখন এই সব পরিবারের লোকেরা মাথা গোঁজার ঠাঁই খুঁজছে। কোথায় পাবে সেই জায়গা, কে দেবে থাকার মতো একটু জায়গা। প্রত্যেকটি অসহায় মানুষের এমন প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে। কথা বললে কালবৈশাখী ঝড় ও বৃষ্টি এলে কোনো রকমে স্বামী-স্ত্রী বাচ্চা নিয়ে পলিথিন জড়িয়ে রাত পার করে বলেও জানায় এই অসহায় পরিবারগুলো। শহিদুল ইসলাম নামের একজন বলেন, ঝড়-বৃষ্টির মধ্যে আমরা কোথায় যাবো।
সরকারের পক্ষ থেকেও কোনো খোঁজ নেয় না। আমাদের রান্না করারও জায়গা নেই। তথ্য নিলে আরও জানা যায়, কপোতাক্ষ নদ ও তৎসংলগ্ন জলাবদ্ধতা নিরসনের (২য় পর্যায়) (১ম সংশোধনী) প্রকল্পের অধীনে ছয়টি নদী খননের কাজ চলমান রয়েছে। তার জন্য বরাদ্দ করা হয়েছে ১৪০ কোটি টাকা। কথা বললে পাউবি নির্বাহী প্রকৌশলী পলাশ কুমার ব্যানার্জী বলেন, ডিজাইনে নদীর জায়গা দিয়ে নদী খনন করা হচ্ছে এটা বলতে পারি। বিষয়টি নিয়ে কথা বললে খুলনা জেলা প্রশাসক হুরে জান্নাত মানবজমিনকে বলেন, খোঁজ নিয়ে পরবর্তীতে ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।
