কলাপাড়ায় আওয়ামী লীগ অফিসের তালা ভেঙে দখল

কলাপাড়ায় আওয়ামী লীগ অফিসের তালা ভেঙে দখল

ফন্ট সাইজ:

পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলা আওয়ামী লীগ অফিসের তালা ভেঙে দখলে নেয়ার পর গুদাম ঘর হিসেবে ব্যবহার করছেন মহিলা দল নেত্রীর স্বামী মিলন বেপারী। সোশ্যাল মিডিয়ায় ছবিসহ বিষয়টি ছড়িয়ে পড়ার পর প্রতিবাদে সরব হয়ে ওঠে রাজনৈতিক কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকা আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা। আর বিএনপি’র পক্ষ থেকে স্পষ্ট বলা হয়, বিএনপি এটিকে কোনোভাবেই সমর্থন করে না। এটা মহিলাদল নেত্রীর ব্যক্তিগত দায়-দায়িত্ব। তবে উপজেলা মহিলাদল সভানেত্রী সালমা বেগম লিলি ও তার স্বামী মিলন বেপারীর দাবি, এটা তাদের ভূসম্পত্তি। জোরপূর্বক ফলজ গাছ কেটে আ’লীগের দলীয় কার্যালয় নির্মাণ করেন প্রয়াত পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী মো. মাহবুবুর রহমান।
সূত্র জানায়, ২০২৪ সালের ৫ই আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর উপজেলা আওয়ামী লীগের দলীয় কার্যালয়ে কয়েক দফা হামলা চালায় দুর্বৃত্তরা। এ সময় দলীয় কার্যালয়ের এসি, সিলিং ফ্যানসহ মূল্যবান আসবাবপত্র ভাঙচুর করা হয়। এরপর বৃহস্পতিবার সকালে দলীয় কার্যালয়ের তালা ভেঙে কার্যালয়ের ভেতরে নিজেদের রান্নাঘরের লাকড়ি সহ মালামাল রেখে গুদামঘর হিসেবে ব্যবহার শুরু করেন উপজেলা মহিলাদলের সভানেত্রী সালমা বেগম লিলির স্বামী মিলন বেপারী। ঘটনার পরপরই এ সংক্রান্ত ভিডিও ফুটেজ ও স্থিরচিত্র ছড়িয়ে পড়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। প্রতিবাদে সরব হয়ে ওঠে রাজনৈতিক কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকা আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীরা। রাজনৈতিক কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকা আওয়ামী লীগের একাধিক সূত্র জানায়, সরকারের কাছ থেকে যথাযথ নিয়ম অনুসরণ করে এবং সম্মানজনক সালামী দিয়ে ৯৯ বছরের জন্য ওই দুই শতক খাস জমি দলীয় কার্যালয়ের জন্য আ্থ’লীগ সম্পাদকের নামে বন্দোবস্ত নেয়া হয়। এরপর পৌরসভা থেকে ভবনের নকশা অনুমোদন নিয়ে দ্বিতল ভবনটি নির্মাণ করা হয়। বর্তমানে ক্ষমতার দাপটে দলীয় কার্যালয়ের তালা ভেঙে দখল করে নিয়েছেন মহিলাদল নেত্রী। এ বিষয়ে মহিলাদল নেত্রী সালমা বেগম লিলির স্বামী মিলন বেপারীর সঙ্গে মুঠোফোনে কথা হয় তিনি বলেন, আমি কোনো তালা ভাঙিনি, ওটা খোলা ছিল। আমার বাসার কয়েকটি গাছ ঝড়ের আঘাতে পড়ে যাওয়ায় সেগুলো কেটে ওখানে রেখেছি।’ মিলন বেপারী আরও বলেন, ওই জায়গা আমার। এতদিন আওয়ামী লীগ ক্ষমতার দাপটে দখল করে রেখেছিল। আমার যথাযথ কাগজপত্র আছে। এ বিষয় নিয়ে আমি সংবাদ সম্মেলন করে বিস্তারিত জানাবো। উপজেলা বিএনপি’র সম্পাদক এডভোকেট মো. হাফিজুর রহমান চুন্নু বলেন, এটি আমার নলেজে নেই। বিএনপি এ ধরনের কোনো কর্মকাণ্ড সমর্থন করে না। এটা আমার দলের সভাপতি হাজী হুমায়ূন সিকদার কিংবা এমপিও প্রশ্রয় দেবেন না। এটা লিলি বেগমের সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত দায়-দায়িত্ব, দল এর কোনো দায় নেবে না।

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন