প্রথম আলো
‘বিরোধীদলের আপত্তি: মানবাধিকার কমিশন অধ্যাদেশ বাতিল, ফিরছে পুরোনো আইন’-এটি দৈনিক প্রথম আলোর প্রধান শিরোনাম। খবরে বলা হয়, জাতীয় মানবাধিকার কমিশনকে শক্তিশালী করতে অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে যে অধ্যাদেশ জারি করা হয়েছিল, তা বাতিল করেছে জাতীয় সংসদ। বিরোধী দলের আপত্তি নাকচ করে ওই অধ্যাদেশ বাতিল এবং আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ২০০৯ সালে করা ‘জাতীয় মানবাধিকার কমিশন আইন’ আবার চালু করতে বিল পাস করেছে সংসদ।
গতকাল বৃহস্পতিবার সংসদে জাতীয় মানবাধিকার কমিশন (রহিতকরণ ও পুনঃপ্রচলন) বিল কণ্ঠভোটে পাস হয়। বিলটি অবিলম্বে কার্যকর হবে বলে বিলে উল্লেখ করা হয়েছে। এ ক্ষেত্রে রাষ্ট্রপতির অনুমোদন সাপেক্ষে গেজেট প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গে এটি কার্যকর হবে।
এতে মানবাধিকার কমিশন–সম্পর্কিত পৃথক তিনটি অধ্যাদেশ বাতিল হচ্ছে এবং আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ২০০৯ সালের আইন আবার চালু হচ্ছে। অধ্যাদেশ রহিত করা হলেও এর অধীনে নেওয়া ব্যবস্থাগুলোকে বৈধতা দেওয়া হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, আগের আইনে ফেরার মধ্য দিয়ে মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান ও সদস্য নিয়োগের বাছাই কমিটিতে আবার সরকারের প্রভাব বাড়বে। আইনশৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের বিরুদ্ধে কমিশন তদন্ত করার ক্ষমতা হারাবে। কিছু ক্ষেত্রে কমিশনের স্বাধীনতা কমবে এবং মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের ক্ষমতা কমবে।
গতকাল জাতীয় মানবাধিকার কমিশন (রহিতকরণ ও পুনঃপ্রচলন) বিল পাসের আপত্তি জানিয়ে বিরোধী দলের পক্ষ থেকে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়, এর মধ্য দিয়ে মানবাধিকার কমিশনকে অতীতের রাজনৈতিক দমন-পীড়নের অস্ত্র হিসেবে ব্যবহারের পথ খুলছে।
অন্যদিকে আইনমন্ত্রী আসাদুজ্জামান বলেন, এই অধ্যাদেশে দুর্বলতা রয়েছে। অংশীজনের সঙ্গে পরামর্শ করে এবং আরও যাচাই-বাছাইয়ের মাধ্যমে পরে নতুন করে আইন করা হবে। এর মধ্যবর্তী সময়ে বাংলাদেশ যাতে মানবাধিকার কমিশন শূন্য না হয়, সে জন্য ২০০৯ সালের আইন পুনঃপ্রচলন করা হচ্ছে।
যে পরিবর্তন এনেছিল অন্তর্বর্তী সরকার
২০০৯ সালের আইনে মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান ও সদস্য বাছাইয়ে কমিটিতে সরকারি দলের প্রাধান্য ছিল। বাছাই কমিটি ছিল স্পিকারের সভাপতিত্বে। কমিটিতে আইনমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, আইন কমিশনের চেয়ারম্যান, মন্ত্রিপরিষদ সচিব এবং সরকারি ও বিরোধী দলের একজন করে সদস্য থাকার বিধান আছে।
নিয়োগের জন্য বাছাই কমিটিতে পরিবর্তন এনেছিল অন্তর্বর্তী সরকার। অধ্যাদেশে বলা ছিল, বাছাই কমিটির সভাপতি হবেন প্রধান বিচারপতির মনোনীত আপিল বিভাগের একজন বিচারক। সদস্যদের মধ্যে থাকবেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব, সরকারি দলের একজন সংসদ সদস্য, বিরোধী দলের একজন সংসদ সদস্য, একজন বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক, একজন নাগরিক প্রতিনিধি, একজন সাংবাদিক প্রতিনিধি এবং একজন ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর প্রতিনিধি।
গতকাল সংসদে বিল পাস হওয়ায় এখন কমিশনে নিয়োগের ক্ষেত্রে আবার সরকারের নিয়ন্ত্রণ বাড়বে।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী–সংক্রান্ত তদন্তের ক্ষমতা
২০০৯ সালের আইনেশৃ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিরুদ্ধে মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগের ক্ষেত্রে অনুসরণীয় পদ্ধতি উল্লেখ করা ছিল। সেখানে তাদের বিরুদ্ধে তদন্ত ও ব্যবস্থা নেওয়ার ক্ষমতা কমিশনের ছিল না। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বা এর সদস্যের বিরুদ্ধে মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগের ক্ষেত্রে কমিশন নিজ উদ্যোগে বা কোনো দরখাস্তের ভিত্তিতে সরকারের কাছে প্রতিবেদন চাইতে পারে। সরকারের দেওয়া প্রতিবেদনে কমিশন সন্তুষ্ট হলে এ বিষয়ে আর কোনো উদ্যোগ গ্রহণ করবে না; আর প্রয়োজন মনে করলে সংশ্লিষ্ট বিষয়ে করণীয় সম্পর্কে সরকারের কাছে সুপারিশ দিতে পারবে।
অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে করা অধ্যাদেশে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিরুদ্ধেও অভিযোগ তদন্ত করার ক্ষমতা দেওয়া হয় কমিশনকে। সেখানে তদন্তের বিষয়ে বলা হয়, কোনো অভিযোগ পেলে বা গণমাধ্যমসহ অন্য যেকোনো মাধ্যম থেকে মানবাধিকার লঙ্ঘন–সম্পর্কিত তথ্যের ভিত্তিতে কমিশন অনুসন্ধান বা তদন্ত কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারিবে। কমিশনের যেকোনো কমিশনার, কর্মকর্তা-কর্মচারী বা তদন্ত দলের সদস্যের মাধ্যমে অনুসন্ধান বা তদন্ত পরিচালিত হবে। অধ্যাদেশে কমিশনকে উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ বা জরিমানা পরিশোধের আদেশ দেওয়া, দায়ী ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে যেকোনো বিভাগীয়, শৃঙ্খলামূলক বা প্রতিকারমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ করার ক্ষমতা দেওয়া হয়েছিল।
২০০৯ সালের আইনে বলা আছে, সাক্ষীর জন্য তলব করা, কোনো দলিল উপস্থাপন করার জন্য তলব করার ক্ষমতা ছিল। অন্তর্বর্তী সরকারের আমলের অধ্যাদেশে এ–সংক্রান্ত ক্ষমতা বাড়ানো হয়েছিল। সেখানে ঘটনাস্থল পরিদর্শন ও তথ্য–প্রমাণ সংগ্রহ করার ক্ষমতা দেওয়া হয়েছিল। বলা হয়েছিল, কমিশন বা তদন্তকারী কর্মকর্তা কোনো রাষ্ট্রীয় বা সরকারি প্রতিষ্ঠান বা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর যেকোনো পর্যায়ের কর্তৃপক্ষ থেকে প্রতিবেদন বা তথ্য-প্রমাণ তলব করতে পারবে। কমিশন তার কার্যাবলি সম্পাদনের উদ্দেশ্যে যেকোনো সময় যেকোনো স্থান পরিদর্শন করতে পারবে। নতুন বিল পাস হওয়ায় মানবাধিকার কমিশনের এসব ক্ষমতা থাকছে না।
যুগান্তর
দৈনিক যুগান্তরের প্রথম পাতার খবর ‘বাংলাদেশ ব্যাংকের পূর্বাভাস: যুদ্ধ পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে মূল্যস্ফীতি ১২% ছাড়াবে’। প্রতিবেদনে বলা হয়, মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধপরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে দেশের সার্বিক অর্থনীতিতে নেতিবাচক চাপ আরও বাড়বে। এ কারণে ডলারের বিপরীতে টাকার মান কমবে এবং বেড়ে যেতে পারে জ্বালানি তেলের দাম। এ দুই ধাক্কায় ডিসেম্বর নাগাদ দেশের মূল্যস্ফীতির হার বিদ্যমান ৮ দশমিক থেকে বেড়ে ১২ শতাংশ পর্যন্ত ছাড়িয়ে যেতে পারে।
একই সঙ্গে বাড়তি আমদানি ব্যয় মেটাতে গিয়ে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের ওপর প্রবল চাপ তৈরি করবে। ওইরকম পরিস্থিতির মুখোমুখি হলে বর্তমান ভিত্তি অনুযায়ী ৩১ দশমিক ১২ বিলিয়ন থেকে ২৪ দশমিক ২৪ বিলিয়ন (১০০ কোটিতে এক বিলিয়ন) বা ২ হাজার ৪২৪ কোটি ডলারের ঘরে নেমে আসতে পারে। যার প্রভাব অর্থনীতির অন্যান্য খাতেও পড়বে। তবে জ্বালানি তেলের দাম বেশি না বাড়ালে এবং সরবরাহ পরিস্থিতি স্থিতিশীল থাকলে ধীরে ধীরে সবকিছু স্বাভাবিক হয়ে আসবে। সেক্ষেত্রে আমদানিতে চাপ কম পড়বে, টাকার অবমূল্যায়নও কম হবে। ফলে মূল্যস্ফীতিতে চাপ তুলনামূলকভাবে কমে আসবে।
মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের কারণে বাংলাদেশের অর্থনীতিতে কী ধরনের নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে, সেটির অনুমাননির্ভর একটি পূর্বাভাস তৈরি করতে সম্প্রতি কেন্দ্রীয় ব্যাংক বিভিন্ন পদ্ধতি বা মডেল অনুসরণ করে। এর মধ্যে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি, দেশের বাজারে এর দাম সমন্বয়, ডলারের দাম বৃদ্ধি এবং রিজার্ভের খরচ বেড়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে বিভিন্ন ধরনের তথ্য ব্যবহার করে ওই পূর্বাভাস তৈরি করে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এ সংক্রান্ত প্রতিবেদন থেকে এসব তথ্য পাওয়া গেছে।
প্রাপ্ত তথ্যে দেখা যায়, যুদ্ধের কারণে চলতি বছরের প্রথম প্রান্তিকে বৈশ্বিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম যদি ৭০ শতাংশ বৃদ্ধি পায় এবং দ্বিতীয় প্রান্তিকে আরও ৩০ শতাংশ বেড়ে যায়, তবে দেশের বাজারেও সরকারকে তেলের দামে সমন্বয় করতে হবে। পাশাপাশি চলতি বছরের প্রথম প্রান্তিকে ডলারের বিপরীতে টাকার মান ৫ শতাংশ এবং দ্বিতীয় প্রান্তিকে আরও ৫ শতাংশ অবমূল্যায়ন হলে চলতি বছরের ডিসেম্বরে মূল্যস্ফীতিতে সমন্বিত ধাক্কা লাগবে। এতে মূল্যস্ফীতির হার বেড়ে ১১ দশমিক ৬৭ শতাংশে উঠে যাবে। ওই সময়ে মূল্যস্ফীতির ভিত্তি ধরা হয়েছে ৯ দশমিক ৫৬ শতাংশ। একই পদ্ধতি ব্যবহার করে ওই সময়ে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার ভিত্তি ধরা হয়েছে ৩ হাজার ২৭২ কোটি ডলার। ওই হারে টাকার অবমূল্যায়ন হলে এবং জ্বালানি তেলের দাম বাড়লে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ২ হাজার ৬০৬ কোটি ডলারে নেমে আসবে।
প্রসঙ্গত, বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) হিসাবে গত মার্চে মূল্যস্ফীতি হয়েছে ৮ দশমিক ৭১ শতাংশ। বাংলাদেশ ব্যাংকের হিসাবে রোববার পর্যন্ত গ্রস রিজার্ভ ছিল ৩ হাজার ৪৪৩ কোটি ডলার।
অন্য একটি পদ্ধতি ব্যবহার করে প্রতিবেদনে বলা হয়, চলতি বছরের প্রথম প্রান্তিকে ডলারের বিপরীতে টাকার মান যদি ৫ শতাংশ অবমূল্যায়িত হয়, দ্বিতীয় প্রান্তিকে ১০ শতাংশ অবমূল্যায়িত এবং জ্বালানি তেলের দাম অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যায়, তবে চলতি বছরের ডিসেম্বরে মূল্যস্ফীতিতে সমন্বিত ধাক্কা লেগে ১২ দশমিক ২৮ শতাংশে দাঁড়াতে পারে। একই সময়ে এ পদ্ধতিতে রিজার্ভ কমে ২ হাজার ৪২৪ কোটি ডলারে নেমে যেতে পারে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, এই পুরো হিসাবটিই বিভিন্ন ধারণার ওপর অনুমাননির্ভর জ্বালানি তেল ও ডলারের দাম ধরে নিরূপণ করা হয়েছে। এছাড়া যদি বৈশ্বিক বাজারে তেলের দামের আকস্মিক বড় ধরনের কোনো পরিবর্তন না হয়, তাহলে ডিসেম্বরের মধ্যে মূল্যস্ফীতির হার ১০ দশমিক ৫ শতাংশের মধ্যে থাকতে পারে। তবে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম বাড়লে আমদানি ব্যয়ও বাড়বে। ফলে রিজার্ভে চাপ পড়বে। কিন্তু সরকার যদি অভ্যন্তরীণভাবে বাড়তি রাজস্ব আহরণ করে এবং দেশের বাজারে জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি না করে বা অপরিবর্তিত রাখে, তবে মূল্যস্ফীতির চাপ নিয়ন্ত্রণের মধ্যেই থাকবে।
কালের কণ্ঠ
‘বিদ্যুৎ ও জ্বালানিতে ভর্তুকির প্রচণ্ড চাপ’-এটি দৈনিক কালের কণ্ঠের প্রথম পাতার খবর। প্রতিবেদনে বলা হয়, দেশের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাত বর্তমানে এক জটিল আর্থিক সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। বিপুল অঙ্কের বকেয়া, ভর্তুকির ঘাটতি, জ্বালানি আমদানির বাড়তি ব্যয় এবং আন্তর্জাতিক ঋণদাতাদের শর্ত—সব মিলিয়ে পরিস্থিতি ক্রমে জটিল হয়ে উঠছে।
বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, আগামী জুন পর্যন্ত তেল, গ্যাস ও বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে প্রায় ৭৫ হাজার কোটি টাকার ভর্তুকি বা বিশেষ বরাদ্দ প্রয়োজন। এর মধ্যে জ্বালানি খাতে প্রায় ৩১ হাজার কোটি টাকা লাগবে বলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানিয়েছেন।
বিদ্যুৎ-জ্বালানি খাতের ভর্তুকি নিয়ে গত মঙ্গলবার অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সঙ্গে জরুরি বৈঠক হয়। বৈঠকে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি বিভাগের দুই সচিব উপস্থিত ছিলেন। তবে সাম্প্রতিক যুদ্ধবিরতির খবরে বিশ্ববাজারে তেলের দাম কিছুটা কমেছে। ফলে সরকার নতুন করে ভর্তুকির হিসাব পর্যালোচনা করছে।
অর্থমন্ত্রী ১১ এপ্রিল ওয়াশিংটনে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) বৈঠকে যোগ দেবেন। ওই বৈঠকেও জ্বালানি ও বিদ্যুতের ভর্তুকি এবং দাম সমন্বয়সহ গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তের বিষয়ে আলোচনা হতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।
জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের মুখপাত্র ও যুগ্ম সচিব মনির হোসেন চৌধুরী বলেন, ‘বৈশ্বিক যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে শুধু জ্বালানি খাতেই সরকারকে প্রতি মাসে আড়াই হাজার কোটি টাকা ভর্তুকি দিতে হচ্ছে। দেশের নাগরিকদের দুর্ভোগের কথা চিন্তা করে সরকার জ্বালানি সরবরাহ ঠিক রাখতে এই ভর্তুকি চালিয়ে যাচ্ছে।’
গতকাল সচিবালয়ে জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, ‘তার পরও বিভিন্ন এলাকায় অনেকে অতিরিক্ত মুনাফার লক্ষ্যে অবৈধভাবে জ্বালানি তেল মজুদের চেষ্টা করছে। জ্বালানি মন্ত্রণালয় থেকে সেইসব অবৈধ মজুদদারের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।’
বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (বিপিডিবি) সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে বিদ্যুৎ খাতে মোট বকেয়া প্রায় ৪৭ হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে বেসরকারি তেলভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর পাওনা ১৬ হাজার কোটি টাকার বেশি। সাত-আট মাস ধরে বিল পরিশোধ না হওয়ায় এসব কেন্দ্রের উদ্যোক্তারা চরম সংকটে পড়েছেন।
একই সঙ্গে আমদানি করা বিদ্যুতের বিলও বকেয়া পড়েছে প্রায় তিন হাজার কোটি টাকা। বর্তমান সরকারের শুরু থেকেই বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাত বড় আর্থিক সংকটে রয়েছে। নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পরপরই প্রধানমন্ত্রী সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে জরুরি বৈঠক করেন। এর কিছুদিন পর মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ শুরু হলে হরমুজ প্রণালি বন্ধ হয়ে জ্বালানি সরবরাহে বড় ধাক্কা লাগে, যা পরিস্থিতি আরো জটিল করে তোলে। যুদ্ধের প্রভাবে বিশ্ববাজারে তেলের দাম বাড়ায় বাংলাদেশকে বেশি দামে জ্বালানি কিনতে হচ্ছে। বিপিসি প্রতি লিটার ডিজেল ১৫৫ টাকার বেশি দামে কিনে ১০০ টাকায় বিক্রি করছে, ফলে বড় অঙ্কের ভর্তুকি প্রয়োজন হচ্ছে। মার্চ থেকে জুন পর্যন্ত শুধু জ্বালানি তেলেই প্রায় ১৬ হাজার কোটি টাকা ভর্তুকি লাগতে পারে।
জ্বালানি আমদানি ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় সংকট আরো তীব্র হয়েছে। বিশেষ করে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) আমদানিতে এক মাসেই প্রায় সাড়ে ৯ হাজার কোটি টাকার ঘাটতি তৈরি হয়েছে। আগে যেখানে দীর্ঘমেয়াদি চুক্তিতে প্রতি ইউনিট এলএনজি ৯ থেকে ১০ ডলারে পাওয়া যেত, বর্তমানে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২০ থেকে ২৮ ডলারে। ফলে গ্যাসের উৎপাদন ব্যয় বেড়ে গেলেও বিক্রয়মূল্য অপরিবর্তিত থাকায় বড় ধরনের ভর্তুকির চাপ তৈরি হয়েছে।
সমকাল
দৈনিক সমকালের প্রধান শিরোনাম ‘ঋণনির্ভরতা বাড়ছে, আর্থিক সংকটে নতুন সরকার’। খবরে বলা হয়, দীর্ঘদিন চাপে থাকা অর্থনীতি মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধের কারণে নতুন করে সংকটে পড়েছে। এমনিতেই সরকারের রাজস্ব আয়ে রয়েছে বড় ঘাটতি। আয় যা হচ্ছে, তার পুরোটাই চলে যাচ্ছে পরিচালন ব্যয়ে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য অংশ যাচ্ছে সুদ পরিশোধে।
এদিকে বিশ্ববাজারে দর বৃদ্ধির প্রভাবে শুধু বিদ্যুৎ ও জ্বালানিতে গত মার্চ থেকে আগামী জুন পর্যন্ত সময়ে সরকারের অতিরিক্ত খরচ হবে ৩৯ হাজার কোটি টাকা। সব মিলিয়ে দায়িত্ব নিয়েই আর্থিক সংকটে পড়েছে সরকার। টাকার জন্য বেশি বেশি ঋণ করতে হচ্ছে। পুরো অর্থবছরের জন্য নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে এরই মধ্যে বেশি ঋণ নিয়েছে সরকার। এখন বিদেশি উৎস থেকে ৩১৫ কোটি ডলার ঋণের চেষ্টা করছে।
আর্থিক খাত-সংশ্লিষ্টরা জানান, নির্বাচিত সরকার ক্ষমতায় এসে সুদহার কমাবে এবং বেসরকারি বিনিয়োগ বাড়বে- এমন প্রত্যাশা করা হচ্ছিল। সুদহার কমানোর জন্য একটি বৈঠকও ডাকেন নতুন গভর্নর। তবে যুদ্ধ শুরু হওয়ায় শেষ পর্যন্ত সেই বৈঠক আর হয়নি। আপাতত যুদ্ধবিরতি দিলেও খুব সহসা সংকটের সমাধান হবে কিনা, তা নিয়ে শঙ্কা রয়েছে। ফলে সুদহার কমবে না।
রেমিট্যান্সে উচ্চ প্রবৃদ্ধির কারণে বৈদেশিক মূদ্রাবাজারে কিছুটা স্বস্তি রয়েছে। গত এক মাস ধরে কেন্দ্রীয় ব্যাংক আর বাজার থেকে ডলার কিনছে না। এতে করে ব্যাংকগুলোর কাছে এখন ১০০ কোটি ডলারের মতো বৈদেশিক মুদ্রার তারল্য রয়েছে। যুদ্ধ শুরুর প্রথম দিকে ডলারের দর সামান্য বেড়ে ১২২ টাকা ৭৫ পয়সায় উঠেছে। এই দরেই স্থিতিশীল রয়েছে। আর বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ৩৪ দশমিক ৪৭ বিলিয়ন ডলারে রয়েছে।
চলতি অর্থবছরের শুরু থেকেই রাজস্ব আদায়ে লক্ষ্যমাত্রা পূরণে পিছিয়ে রয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। জুলাই থেকে ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত প্রথম আট মাসে লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় শুদ্ধ-কর আদায় কম হয়েছে প্রায় ৭১ হাজার ৪৭২ কোটি টাকা। সরকারের মোট রাজস্ব আয়ের প্রায় ৮০ শতাংশই আসে এনবিআমার থেকে। এনবিআরবহির্ভূত রাজস্ব আহরণেও আশানুরাপ অগ্রগতি নেই।
বর্তমানে সরকারের ঋণ রয়েছে ২৩ লাখ কোটি টাকার মতো। এর মধ্যে বিদেশি উৎসে রয়েছে ৯ হাজার ৩৪৬ কোটি ডলার। বাংলাদেশি টাকায় বর্তমানে যা প্রায় সাড়ে ১১ লাখ কোটি টাকা টাকা। বাকিটা দেশি উৎস থেকে নেওয়া। সঞ্চয়পত্রে রয়েছে তিন লাখ ৪২ হাজার কোটি টাকা। ব্যাংকসহ বিভিন্ন উৎসে রয়েছে প্রায় আট লাখ কোটি টাকা। বিপুল অঙ্কের এই খাদের বিপ্লীতে সুদ পরিশোধে সরকারের উল্লেখযোগ্য একটি অংশ চলে যাচ্ছে।
চলতি অর্থবছরের তিন মাস বাকি থাকতেই পুরো অর্থবছরের জন্য নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি ঋণ নিয়েছে সরকার। এবার ব্যাংক থেকে এক লাঘ চার হাজার কোটি টাকা ঋণ নেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা দেওয়া হয়। তবে গত ৩০ মার্চ পর্যন্ত সরকার নিয়েছে এক লাখ ছয় হাজার ৫১ কোটি টাকা। এতেই সরকারের চাহিদা পুরণ না হওয়ায় বিশেস নিলাম ডেকে নেওয়া হয়েছে আরও ১০ হাজার কোটি টাকা।
বর্তমানে সরকারের খণ চাহিদা মেটাতে ট্রেজারি বিল, বন্ডে নিয়মিত নিলাম ক্যালেন্ডারের বাইরে বিশেষ নিলাম ডাকতে হচ্ছে। বিশেষ নিলাম ডেকে ১ এপ্রিল পাঁচ হাজার কোটি টাকা নিয়েছে সরকার। ৮ এপ্রিল বিশেষ নিলামে আরও পাঁচ হাজার কোটি টাকা নিয়েছে। ফলে এবার শেষ পর্যন্ত ব্যাংক ব্যবস্থা থেকে ঋণ অনেক বেড়ে যেতে পারে। গত অর্থবছরের মূল বাজেটে ব্যাংক ব্যবস্থা থেকে সরকার এক লাখ ৩৭হাজার ৫০০ কোটি টাকা ঋণের লক্ষ্যমাত্রা ঠিক করেছিল। তবে সংশোধিত বাজেটে ৯৯ হাজার কোট টাকা ঋণের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়। শেষ পর্যন্ত সরবার নিয়েছিল মাত্র ৭২ হাজার ৩৭২ কোটি টাকা।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরের এ পর্যন্ত নেওয়া ঋণের মধ্যে বংলাদেশ ব্যাংক সরবরহ করেছে ৩২ হাজার ১৯৩ কোটি টাকা। বাংলাদেশ ব্যাংক ঋণ সরবরাহ করার মানে টাকা ছাপিয়ে দেওয়ার মতো, যা মূল্যস্ফীতি উস্কে দেয়। সব মিলিয়ে গত মার্চ পর্যন্ত বাংলাদেশ ব্যাংকে সরকারের ঋণস্থিতি বেড়ে এক লাখ ৩০ হাজার ৬১৬ কোটি টাকা হয়েছে। আর বানিজ্যিক ব্যাংক থেকে সরকার ৯ মাসে নিয়েছে ৭৩ হাজার ৮৫৮ কোটি টাকা। এতে ঋণস্থিতি ঠেকেছে পাঁচ লাখ ২৬ হাজার ৩৩৯ কোটি টাকা। চলতি অর্থবছরের শুরুর দিকেও সরকারের ঋণ চাহিলা কম ছিল। গত অক্টোবর পর্যন্ত অর্থবছরের প্রথম চার মাসে ব্যাংক ব্যবস্থা থেকে সরকার ঋণ নেওয়ার চেয়ে পরিশোষ বেশি ছিল ৫০৩ কোটি টাকা।
ইত্তেফাক
‘দলীয় প্রতীকে হচ্ছে না স্থানীয় সরকার নির্বাচন’-এটি দৈনিক ইত্তেফাকের প্রথম পাতার খবর। প্রতিবেদনে বলা হয়, দলীয় প্রতীকে হচ্ছে না স্থানীয় সরকার নির্বাচন। এ-সংক্রান্ত স্থানীয় সরকার (পৌরসভা), স্থানীয় সরকার (উপজেলা) সংশোধনী বিল পাশ হয়েছে। পর্যায়ক্রমে স্থানীয় সরকার (ইউনিয়ন পরিষদ), স্থানীয় সরকার (সিটি করপোরেশন) সংশোধনী বিলেও দলীয় প্রতীক থাকছে না। গতকাল বৃহস্পতিবার স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের পক্ষে মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম সংসদে বিলটি উত্থাপন করেন। পরে সেটি কণ্ঠভোটে পাশ হয়। এ বিল পাশের মধ্যেমে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে দলীয় প্রতীক থাকছে না। সাম্প্র্রতিক সময়ে স্থানীয় সরকার ব্যবস্থাকে আরো কার্যকর, জবাবদিহিমূলক ও সময়োপযোগী করতে ধারাবাহিকভাবে বিভিন্ন আইন সংশোধন করা হয়। এই সংশোধন বিলও সেই প্রক্রিয়ার অংশ। এ বিল পাশের সব প্রক্রিয়ায় অংশ নেওয়ার পরেও গণবিরোধী বিল পাশের অভিযোগ তুলে ওয়াকআউট করে জামায়াতে ইসলামী ও তাদের জোটবদ্ধ দলের সংসদ সদস্যরা।
এদিকে জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল (জামুকা) বিল পাশের সময় জামায়াতের ইসলামী বিরোধিতা করলেও তাদের জোটবদ্ধ নতুন দল এনসিপি তাতে সমর্থন জানিয়েছে। গতকাল জাতীয় সংসদে পাশ হওয়া বিলগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো—জাতীয় মানবাধিকার কমিশন (রহিতকরণ ও পুনঃ প্রচলন) বিল-২০২৬ এবং সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় (রহিতকরণ) বিল, স্থানীয় সরকার (পৌরসভা), স্থানীয় সরকার (উপজেলা) সংশোধন বিল, জেলা পরিষদ (সংশোধন) বিল, ২০২৬। বিরোধীদলের আপত্তির মুখে জাতীয় মানবাধিকার কমিশন (রহিতকরণ ও পুনঃ প্রচলন) বিল-২০২৬ জাতীয় সংসদে পাশ হয়েছে। আইনমন্ত্রী আসাদুজ্জামান মানবাধিকার কমিশনকে শক্তিশালী করতে অন্তর্বর্তী সরকারের জারি করা অধ্যাদেশ বাতিল করে ২০০৯ সালের আইন পুনঃ প্রচলন করতে বিলটি সংসদে উত্থাপন করেন, তা সেভাবেই পাশ হয়।
এর আগে সংসদ সদস্য মো. আবুল হাসনাতের (হাসনাত আব্দুল্লাহ) আপত্তি কণ্ঠভোটে নাকচ হয়। বিলটি পাশের ফলে অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে জারিকৃত অধ্যাদেশ বাতিল হয়ে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে প্রণীত ২০০৯ সালের জাতীয় মানবাধিকার আইন পুনঃ প্রচলন হবে। বিলটি উত্থাপনে আপত্তি তুলে ক্ষোভ প্রকাশ করেন হাসনাত আব্দুল্লাহ। তিনি বলেন, আজকে যারা সরকারি বেঞ্চ রয়েছেন, তারা চব্বিশের জুলাইয়ের আগে হলে এই বিল পাশের বিরোধিতা করতেন। এই অধ্যাদেশকে ল্যাপস করার মধ্য দিয়ে মানবাধিকার কমিশনকে রাজনৈতিক দমন-পীড়নের অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করা হতে পারে বলে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন।
বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে সুপ্রিম কোর্টের বিচারক নিয়োগের বিধান এবং স্বতন্ত্র সচিবালয় প্রতিষ্ঠার জন্য জারি করা অধ্যাদেশগুলো বাতিল করেছে জাতীয় সংসদ। এগুলো বাতিল করার বিরুদ্ধে ছিল বিরোধী দল। বিরোধী দলের আপত্তি নাকচ করে সংসদে ‘সুপ্রিম কোর্টের বিচারক নিয়োগ (রহিতকরণ) বিল’ এবং ‘সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় (রহিতকরণ) বিল’ পাশ করা হয়। এর মধ্য দিয়ে অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে জারি করা এ-সংক্রান্ত তিনটি অধ্যাদেশ বাতিল হচ্ছে। এর ফলে বিচার বিভাগ আবার আগের অবস্থায় ফিরছে। সুপ্রিম কোর্টের বিচারক নিয়োগের আর কোনো আইন থাকছে না।
তবে ঐ অধ্যাদেশের অধীনে ২৫ জন বিচারকের নিয়োগসহ যেসব ব্যবস্থা ইতিমধ্যে নেওয়া হয়েছে, সেগুলো বৈধ বলে গণ্য হবে। আর সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় সংক্রান্ত দুটি অধ্যাদেশ (সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় অধ্যাদেশ ও এর সংশোধনী অধ্যাদেশ) বাতিল হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ঐ অধ্যাদেশের অধীনে প্রতিষ্ঠিত সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় বিলুপ্ত হবে। সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয়ে ন্যস্ত বাজেট, গৃহীত প্রকল্প ও কর্মসূচি সরকারের আইন ও বিচার বিভাগের কাছে হস্তান্তরিত হবে এবং সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয়ের জন্য সৃজিত পদগুলো বিলুপ্ত হবে। সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয়ে কর্মরত বিচার বিভাগীয় কর্মকর্তাদের চাকরি আগে যে আইনে পরিচালিত হতো, আবার সে আইনের অধীনে ন্যস্ত ও পরিচালিত হবে।
নয়া দিগন্ত
দৈনিক নয়া দিগন্তের প্রধান শিরোনাম ‘৫ অধ্যাদেশ বাতিল, বিরোধী দলের ওয়াকআউট’। খবরে বলা হয়, বিরোধী দলের তীব্র আপত্তি ও সমালোচনার মধ্যেই অন্তর্বর্তী সরকারের সময় জারি করা সুপ্রিম কোর্টের বিচারক নিয়োগ অধ্যাদেশ, সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় অধ্যাদেশ এবং জাতীয় মানবাধিকার কমিশন সংশ্লিষ্ট অধ্যাদেশ বাতিল করেছে সরকার। একইসাথে জাতীয় মানবাধিকার কমিশন (রহিতকরণ ও পুনঃপ্রচলন) বিল-২০২৬ পাস করে ২০০৯ সালের আইন আবার চালু করা হয়েছে। জাতীয় সংসদে কণ্ঠভোটে বিল পাসের মাধ্যমে এসব অধ্যাদেশ রহিত করে পূর্বের আইনি কাঠামোয় ফিরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীবৃন্দ বিলগুলো উত্থাপন করেন। এদিকে, আপত্তি সত্ত্বেও অধ্যাদেশগুলো বাতিল করায় জাতীয় সংসদ থেকে ঘোষণা দিয়ে ওয়াকআউট করেন বিরোধী দলের সদস্যরা।
গতকাল বৃহস্পতিবার ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের ১২তম দিনে ৩১টি বিল পাস হয়েছে। এর মধ্যে অন্তর্বর্তী সরকারের ২৭টি অধ্যাদেশ অবিকল রেখে বিল হিসেবে পাস করা হয়েছে। তবে সুপ্রিম কোর্টের বিচারক নিয়োগসহ চারটি অধ্যাদেশ রহিত (বাতিল) করা হয়। এর আগে গত ৬ এপ্রিল আরেকটি অধ্যাদেশ রহিতকরণ হয়। অর্থাৎ অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় জারি করা মোট পাঁচটি অধ্যাদেশ বাতিল করা হলো।
বাতিল ৫ অধ্যাদেশ: অধিবেশনে ‘সুপ্রিম কোর্টের বিচারক নিয়োগ অধ্যাদেশ-২০২৫’ রহিত করে ‘সুপ্রিম কোর্টের বিচারক নিয়োগ (রহিতকরণ) বিল-২০২৬’ এবং ‘সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় (রহিতকরণ) বিল-২০২৬’ পাস করে সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় অধ্যাদেশ, ২০২৫ এবং সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় (সংশোধন) অধ্যাদেশ ২০২৬ বাতিল করা হয়েছে। বিরোধী দলের সদস্যদের আপত্তি সত্ত্বেও অধ্যাদেশগুলো রহিত (বাতিল) করা হয়। একইসাথে জাতীয় মানবাধিকার কমিশন (রহিতকরণ ও পুনঃপ্রচলন) বিল-২০২৬ পাস করে ২০০৯ সালের আইন আবার চালু করা হয়েছে। অর্থাৎ অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় জারি করা জাতীয় মানবাধিকার কমিশন (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৪ বাতিল করা হলো। এর আগে গত ৬ এপ্রিল ‘জাতীয় সংসদ সচিবালয় (অন্তর্বর্তীকালীন বিশেষ বিধান) রহিতকরণ আইন-২০২৬’ পাস হয়। অর্থাৎ মোট পাঁচটি অধ্যাদেশ বাতিল করলো সরকার।
বিরোধী দলের ওয়াকআউট: গতকাল আসরের নামাজের বিরতির পর স্থানীয় সরকার সংক্রান্ত বিল পাসের পর সংসদ থেকে ওয়াকআউট করেন ডা: শফিকুর রহমানের নেতৃত্বে বিরোধী দলের সদস্যরা। বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, দুঃখজনক হলেও সত্য বিরোধী দলের যৌক্তিক বাধা সত্ত্বেও যে কয়টি গণবিরোধী বিল আজকে পাস হয়েছে, আমরা তার দায় নিতে চাই না। তাই সংসদ থেকে ওয়াকআউট করছি। তার নেতৃত্বে জোটের সংসদ সদস্যদের নিয়ে অধিবেশন থেকে বের হয়ে যান। এ সময় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ কিছু বলার জন্য দাঁড়ালে ডেপুটি স্পিকার ফোর দেন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আমি ধন্যবাদ জানানোর জন্য উঠছি। আইন প্রণয়নপ্রক্রিয়ার ফার্স্ট রিডিং, সেকেন্ড রিডিং, থার্ড রিডিং, সব রিডিংয়ে উনারা সহায়তা করেছেন। কেউ কেউ হাত তুলে সমর্থনও দিয়েছেন। সব প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণের পরে ওয়াকআউটের কোনো মানে আছে কি না এটা জানার জন্য। সব প্রক্রিয়ায় তারা অংশগ্রহণ করার জন্য ধন্যবাদ। আশা করি মাগরিবের নামাজের পর তারা আবার অংশগ্রহণ করবেন।
বণিক বার্তা
‘তৈরি পোশাক খাতে উৎপাদন সক্ষমতা হ্রাস পেয়েছে ২০-৩০%’-এটি দৈনিক বণিক বার্তার প্রধান শিরোনাম। খবরে বলা হয়, মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান ভূরাজনৈতিক অস্থিরতা এবং অভ্যন্তরীণ বাজারে ডলারের চাপ থাকায় নাজুক পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছে জ্বালানি খাত।
এর সরাসরি প্রভাব পড়েছে দেশের প্রধান রফতানি খাত তৈরি পোশাক শিল্পে। খাতসংশ্লিষ্টদের তথ্য অনুযায়ী, জ্বালানি সংকটের কারণে পোশাক কারখানাগুলোর উৎপাদন সক্ষমতা ২০ থেকে ৩০ শতাংশ পর্যন্ত হ্রাস পেয়েছে। বৈশ্বিক সরবরাহ চেইনের এ অনিশ্চয়তা দীর্ঘায়িত হলে খাতটির টিকে থাকা এবং সামগ্রিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা চরম ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে।
পোশাক কারখানা মালিকরা জানিয়েছেন, বর্তমানে কারখানাগুলোয় প্রতিদিন গড়ে ১০ ঘণ্টা কর্মসময়ের মধ্যে অন্তত ২ ঘণ্টা লোডশেডিং হচ্ছে। ফলে উৎপাদন কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে নিয়মিত। পোশাক কারখানাগুলোয় জ্বালানির ব্যবহার হয় মূলত দুটি কারণে। প্রথমত, লোডশেডিংয়ের কারণে বিকল্প হিসেবে জেনারেটর চালাতে হয়, যার জন্য প্রয়োজন হয় ডিজেল। দ্বিতীয়ত, গ্যাসের চাপ স্বাভাবিক না থাকলে ক্যাপটিভ পাওয়ার ব্যবস্থায় জেনারেটর চালু করতে হয়, সেখানেও ডিজেলের ওপর নির্ভরশীলতা বাড়ছে।
দেশের তৈরি পোশাক শিল্পের উৎপাদন স্বাভাবিক রাখতে অনেক কারখানায়ই ক্যাপটিভ জেনারেটর চালানো হয়। এজন্য কারখানাগুলোয় বিপুল পরিমাণ ডিজেল, ফার্নেস অয়েল ও এলপিজি ব্যবহৃত হয়। শিল্প-কারখানা চালাতে গ্যাসের সরবরাহ নিরবচ্ছিন্ন না থাকায় জেনারেটরে বিকল্প হিসেবে বিপুল পরিমাণ জ্বালানি তেল ব্যবহার করতে হচ্ছে। বর্তমানে সরবরাহ সংকট থাকায় কারখানাগুলো জ্বালানি তেলের পর্যাপ্ত সংস্থান করতে পারছে না। এতে উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে।
জানতে চাইলে বাংলাদেশ গার্মেন্ট ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিজিএমইএ) সভাপতি মাহমুদ হাসান খান বণিক বার্তাকে বলেন, ‘এলাকাভেদে কারখানার উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার চিত্রে ভিন্নতা আছে। প্রতিদিন মোট কর্মঘণ্টার ২ থেকে ৩ ঘণ্টা ব্যাহত হচ্ছে। মোটাদাগে উৎপাদন সক্ষমতা হ্রাস পেয়েছে ২৫ থেকে ৩০ শতাংশের মতো।’
পোশাক শিল্পে উৎপাদন সক্ষমতা কমে যাওয়ার বিষয়টি ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই) আয়োজিত এক গোলটেবিল আলোচনায়ও উঠে এসেছে। ‘বৈশ্বিক জ্বালানি সংকট: বাংলাদেশে এর প্রভাব এবং মোকাবেলায় কর্মপন্থা নির্ধারণ’ শীর্ষক ওই গোলটেবিলে সংগঠনটির সভাপতি তাসকিন আহমেদ বলেন, ‘জ্বালানি সংকটের কারণে তৈরি পোশাক খাতে উৎপাদন সক্ষমতা প্রায় ৫০ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে। এছাড়া প্রতি ব্যাগ সিমেন্ট উৎপাদন ব্যয় ২৫-৩০ টাকা বৃদ্ধি পেয়েছে এবং প্রতি কনটেইনারে অতিরিক্ত ৫০০ থেকে ৪ হাজার ডলার পর্যন্ত বাড়তি খরচ গুনতে হচ্ছে।’
ডিসিসিআইয়ের আলোচনায় জানানো হয়, বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম প্রতি ১০ ডলার বাড়লে বাংলাদেশের বছরে বাড়তি খরচ হয় ১ বিলিয়ন ডলার। যদি তেলের দাম ১২০ ডলারের ওপরে ওঠে, তবে জ্বালানি খাতে ব্যয় বাড়বে বছরে ৪-৫ বিলিয়ন ডলার। ফলে সরকারের লোকসান বাড়ার পাশাপাশি শিল্প উৎপাদন ও ব্যবসা পরিচালন ব্যয়ও বহু গুণ বৃদ্ধি পাবে।
জানা গেছে, তৈরি পোশাক খাতের দুই সংগঠন বিজিএমইএ ও বিকেএমইএ (বাংলাদেশ নিটওয়্যার ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন) মিলিয়ে মোট সক্রিয় কারখানা সংখ্যা কম-বেশি তিন হাজারের মতো। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে এসব কারখানা থেকে বিশ্ববাজারে ৩৯ বিলিয়ন ডলারেরও বেশি পোশাক রফতানি হয়। তবে চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরে প্রধান বাজারগুলোর চাহিদা হ্রাসে পোশাক রফতানি নেতিবাচক ধারায় রয়েছে। বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটের পাশাপাশি বিদ্যমান জ্বালানি সংকট অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে রফতানি আরো কমে যেতে পারে বলে আশঙ্কা রয়েছে।
আজকের পত্রিকা
দৈনিক আজকের পত্রিকার প্রধান শিরোনাম ‘হামের প্রকোপ: আরও ৫ থেকে ৬ সপ্তাহ উচ্চ সংক্রমণের শঙ্কা’। খবরে বলা হয়, দেশে শিশুদের মধ্যে হামের সংক্রমণ সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে ক্রমে বেড়েই চলেছে। রোগটি উচ্চমাত্রায় সংক্রমণশীল। এ কারণে বর্তমান সংক্রমণপ্রবণতা আরও এক থেকে দেড় মাস পর্যন্ত অব্যাহত থাকতে পারে বলে আভাস দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। সংক্রমিত শিশুদের সঠিকভাবে বিচ্ছিন্ন রেখে (আইসোলেশন) চিকিৎসা দিলে এবং সুস্থ শিশুদের টিকার আওতায় আনা গেলে সংক্রমণের গতি কমতে এক-দেড় মাস বা তার কিছু বেশি সময় লেগে যেতে পারে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য বিশ্লেষণে দেখা গেছে, দেশে হাম শনাক্তের হার এ পর্যন্ত ঊর্ধ্বমুখী। সরকারের সর্বশেষ হিসাব অনুযায়ী, গতকাল বৃহস্পতিবার পর্যন্ত প্রায় সাড়ে ১২ হাজার সন্দেহভাজন হাম রোগী শনাক্ত হয়েছে। এ তথ্য ১৫ মার্চ থেকে পরবর্তী ২৪ দিনের। এর মধ্যে ২ হাজার ২৪১ জনের ক্ষেত্রে ল্যাবরেটরি পরীক্ষার মাধ্যমে হাম নিশ্চিত করা হয়েছে। গতকাল সকাল ৮টা পর্যন্ত আগের ২৪ ঘণ্টায় সারা দেশে ১ হাজার ১৮৭ জন সন্দেহভাজন রোগী শনাক্ত করা হয়, যার মধ্যে ৬৪২ জনের হাম নিশ্চিত হয়েছে।
সরকারিভাবে হামের প্রকোপ নিয়ে তথ্য সংগ্রহ শুরু হয় মূলত ১৫ মার্চ থেকে। তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, গত ২৪ দিনে মোট সন্দেহভাজন রোগীর মধ্যে ১৮ দশমিক ১৮ শতাংশের ক্ষেত্রে হাম নিশ্চিত হয়েছে। তবে গত এক দিনে সংক্রমণের হার বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫৪ শতাংশে, যা সংক্রমণের তীব্রতা বৃদ্ধির ইঙ্গিত দেয়। ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত হাম সন্দেহ নিয়ে মৃত্যু হয়েছে ১৪৩ জনের। নিশ্চিতভাবে হামে মৃত্যু হয়েছে ২৩ জনের। ফলে হাম এবং হামের উপসর্গ নিয়ে মোট মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৬৬ জনে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সাবেক পরিচালক (রোগ নিয়ন্ত্রণ) অধ্যাপক ডা. বে-নজির আহমেদ আজকের পত্রিকার সঙ্গে আলাপকালে বলেন, এ দেশে হামের সংক্রমণ সাধারণত শীতের শেষ থেকে বসন্তকাল—ফেব্রুয়ারি থেকে এপ্রিল এবং কখনো মে পর্যন্ত বেশি দেখা যায়। তবে উষ্ণ ও ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় বছরের অন্য সময়ও এর সংক্রমণ ঘটতে পারে।
বে-নজির আহমেদ সতর্ক করে বলেন, ‘বর্তমানে সংক্রমণ যেভাবে ছড়াচ্ছে, তাতে শনাক্ত হওয়া প্রতিটি রোগীর বাইরেও একই সময়ে আরও সংক্রমিত থাকতে পারে। তাদের লক্ষণ পরে প্রকাশ পাবে। ভাইরাসের ইনকিউবেশন পিরিয়ডের কারণে ধাপে ধাপে নতুন রোগী সামনে আসে। এ ছাড়া টিকাদান শুরু হলেও শিশুর শরীরে পূর্ণমাত্রায় রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা তৈরি হতে দুই থেকে চার সপ্তাহ সময় লাগে। ফলে সংক্রমণের এ ধারা আরও কিছু সময় চলতে পারে।’
বর্তমান সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ উদ্যোগে রোগতত্ত্ববিদেরা দুটি বিষয়কে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন। এগুলো হচ্ছে আক্রান্তদের যথাযথ আইসোলেশন (বিচ্ছিন্নকরণ) এবং অন্যদের দ্রুত টিকাদান। একটি এলাকায় অন্তত ৯৫ শতাংশ শিশুকে টিকার আওতায় আনা গেলে স্থানীয় জনগোষ্ঠীর মধ্যে ইমিউনিটি তৈরি হয় এবং ভাইরাসের সংক্রমণ কার্যকরভাবে প্রতিরোধ করা সম্ভব হয়।
চলতি বছর হামের সংক্রমণ শুরু হওয়ার পর প্রথমে সবচেয়ে বেশি রোগী পায় রাজধানীর সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতাল। এই হাসপাতালেই রোগটিতে মৃত্যুর সংখ্যা সবচেয়ে বেশি। হাসপাতালটির তত্ত্বাবধায়ক এফ এ আসমা খান গতকাল আজকের পত্রিকাকে জানান, গত এক দিনে তাঁর হাসপাতালে নতুন করে ২১ জন হাম সন্দেহভাজন রোগী ভর্তি হয়েছে। বছরের শুরু থেকে এ পর্যন্ত বিশেষায়িত সরকারি এ হাসপাতালটিতে মোট ৮০৩ জন রোগী ভর্তি হয়েছে। বর্তমানে হাসপাতালে ভর্তি রয়েছে ৬৩ জন। সম্ভাব্য হাম রোগে ৩০ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে নিশ্চিতভাবে হামে মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৭ জনে।
দেশ রূপান্তর
‘বাড়তি দামেই বিক্রি হচ্ছে এলপিজি’-এটি দৈনিক দেশ রূপান্তরের প্রথম পাতার খবর। প্রতিবেদনে বলা হয়, জ্বাালানি তেল নিয়ে দেশজুড়ে বিশৃঙ্খলা, ভোগান্তি আর অস্বস্তির মধ্যেই চলতি মাসে বেসরকারি খাতের তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসের (এলপিজি) ১২ কেজি সিলিন্ডারের দাম এক লাফে ৩৮৭ টাকা বাড়িয়ে ১ হাজার ৭২৮ টাকা করা হয়। কিন্তু সরকার নির্ধারিত দামে কোথাও এলপিজি পাওয়া যাচ্ছে না। বিক্রি হচ্ছে ২ হাজার টাকা থেকে শুরু করে এর ওপরে ইচ্ছেমতো।
অতিরিক্ত দামের বিষয়ে অপাটের, ডিস্ট্রিবিউটর এবং খুচরা বিক্রেতারা একে-অপরের ওপর দায় চাপাচ্ছে। অন্যদিকে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) প্রতি মাসে নিয়ম রক্ষার মূল্য নির্ধারণ করেই দায়িত্ব শেষ করছে। ভোক্তাদের কাছ থেকে বাড়তি দাম আদায় বন্ধ হচ্ছে না কোনোভাবেই।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বিইআরসি এবং সংশ্লিষ্ট অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের নজরদারির অভাবের পাশাপাশি সরকারি প্রতিষ্ঠানের এলপিজি সরবরাহ কম হওয়ায় এ নৈরাজ্য চলছে।
দেশে সরবরাহ করা এলপিজির ৯৮ শতাংশই আসছে বেসরকারিভাবে। মাত্র ২ শতাংশ এলপিজি সরকারিভাবে সরবরাহ হচ্ছে। কিন্তু সরকারি এ এলপিজি সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে। এলপিজির ১২ কেজি সিলিন্ডার সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত হয় গৃহস্থালির কাজে। বর্তমানে সরকারি কোম্পানির সরবরাহ করা এলপিজির সাড়ে ১২ কেজি সিলিন্ডারের দাম ৮২৫ টাকা। দীর্ঘদিন ধরেই এ দাম অপরিবর্তিত রয়েছে।
নিরাপদে ও সাশ্রয়ীমূল্যে এলপিজির ব্যবহার নিশ্চিত করতে ভারতসহ বিভিন্ন দেশে ব্যবহারকারীদের সরকার ভর্তুকি দেওয়ার পাশাপাশি নানারকম তদারকি করে। কিন্তু বাংলাদেশে ন্যূনতম ভর্তুকি তো দেওয়া হয়ই না, এমনকি ভোক্তাদের সুরক্ষা দিতে সরকারি সংস্থাগুলোর যে ধরনের তদারকি দরকার তাও চোখে পড়ে না খুব একটা।
আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে সমন্বয় করে ২০২১ সালের এপ্রিল থেকে প্রতিমাসে এলপিজির দাম নির্ধারণ করে আসছে বিইআরসি। তবে বাজারে নির্ধারিত দামে কখনোই এলপিজি বিক্রি হয়না। এ নিয়ে ভোক্তাদের দীর্ঘদিনের অভিযোগের পরও কোনো সুরাহা নেই।
জানতে চাইলে ক্যাবের জ্বাালানি উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. এম শামসুল আলম বলেন, মূলত বিইআরসির অদক্ষতা এবং তাদের জবাবদিহিতার অভাবের কারণেই এলপিজি নিয়ে এ নৈরাজ্য চলছে। তারা নিজেরাই নিজেদের আইন লঙ্ঘন করছে। এটা শাস্তিযোগ্য অপরাধ। সেজন্য কারাদন্ডের বিধান পর্যন্ত আছে। কিন্তু কমিশনের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয় না।
এসবের প্রতিকার চেয়ে বিগত সরকারের আমলে কমিশনের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপতির কাছে ক্যাবের পক্ষ থেকে অভিযোগ জমা দেওয়া হয়েছে বলেও জানান এ জ্বাালানি বিশেষজ্ঞ।
তিনি বলেন, কমিশনকে জবাবদিহিতার আওতায় আনার পাশাপাশি বিদ্যমান আইনেরও সংস্কার জরুরি। সেই সঙ্গে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে মন্ত্রণালয়ের হস্তক্ষেপ বন্ধ করে কমিশনকে আরও শক্তিশালী করতে হবে।
