জ্বালানি তেলের অবৈধ মজুত রোধে দেশ জুড়ে অভিযান, জরিমানা

ফন্ট সাইজ:

জ্বালানি ও ভোজ্য তেলসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের কৃত্রিম সংকট, অবৈধ মজুত, মূল্য স্থিতিশীল ও চোরাচালান রোধে দেশব্যাপী তৎপর রয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা। এ ছাড়া যৌথ অভিযানে অস্বাভাবিক মজুত শনাক্ত ও বিভিন্ন অপরাধে জড়িতদের বিরুদ্ধে জরিমানা করা হয়েছে।

র‌্যাবের লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া উইংয়ের পরিচালক উইং কমান্ডার এম জেড এম ইন্তেখাব চৌধুরী বলেন, দেশের বিভিন্ন জেলায় পরিচালিত সমন্বিত অভিযানে মোট ৯টি ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালিত হয়। এসব অভিযানে ১ লাখ ৪২ হাজার ১৭৩ লিটার ভোজ্য তেলের অস্বাভাবিক মজুত শনাক্ত করা হয়। এসময় বিভিন্ন অপরাধে জড়িতদের বিরুদ্ধে ৬ লাখ ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

র‌্যাব জানায়, র‌্যাব-৭ এর তত্ত্বাবধানে ফেনী জেলার রামপুরার তাকিয়া রোড এলাকায় যৌথ অভিযানে অবৈধভাবে মজুত করা ৩০ হাজার লিটার ভোজ্য তেল উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় দুইটি প্রতিষ্ঠানকে ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। নরসিংদীর সদরেও অভিযান চালিয়ে বিসমিল্লাহ এন্টারপ্রাইজ ও মদিনা ট্রেডিংয়ের বিরুদ্ধে যথাক্রমে ৫ হাজার ও ২০ হাজার লিটার তেল অবৈধভাবে মজুত ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে সংরক্ষণের প্রমাণ পাওয়া যায়।

এ ঘটনায় ১৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। এ ছাড়া সাতক্ষীরা জেলা সদরে সাধু স্টোর ও হাজী ট্রেডার্সের মালিকদের বিরুদ্ধে অতিরিক্ত মজুত, মেয়াদোত্তীর্ণ পণ্য সংরক্ষণ, লাইসেন্স না থাকা এবং বৈধ রসিদ প্রদর্শনে ব্যর্থতার অভিযোগে ২৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। বাগেরহাটের চুলকাটি বাজারে মেসার্স রাজ স্টোরে অভিযান চালিয়ে প্রায় ২০ হাজার ৪০০ লিটার তেল মজুতের প্রমাণ পাওয়া যায়। প্রয়োজনীয় কাগজপত্র দেখাতে না পারায় প্রতিষ্ঠানটিকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

এদিকে নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁওয়ে মো. মঈনের গুদামে অভিযান চালিয়ে ১ হাজার ২০০ লিটার অবৈধভাবে মজুত তেল পাওয়া যায়। বিএসটিআই লাইসেন্স ও মান নিয়ন্ত্রণ সনদ না থাকায় তাকে ২ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। কুষ্টিয়া সদরে বাবুল পাল স্টোরে ৫ হাজার ৫৭৩ লিটার তেল মজুতের অভিযোগে ১ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। একইভাবে মৌলভীবাজারে মৌলভী ক্যাশ অ্যান্ড ক্যারিতে তেল থাকা সত্ত্বেও বিক্রি না করে মজুত রাখায় ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

বিজিবি’র তৎপরতা: রাঙ্গামাটির সীমান্তবর্তী বাঘাইছড়ি উপজেলার সাজেক এলাকায় ভোজ্য তেলের অবৈধ মজুত ও চোরাচালান প্রতিরোধে তৎপরতা জোরদার করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) এর বাঘাইহাট ব্যাটালিয়ন (৫৪ বিজিবি)। বৃহস্পতিবার সকালে বাঘাইহাট ব্যাটালিয়ন (৫৪ বিজিবি)-এর দায়িত্বপূর্ণ এলাকায় তল্লাশি কার্যক্রম ও টহল তৎপরতা জোরদার করা হয়। বিশেষ করে ব্যাটালিয়ন গেটে প্রবেশ ও বহির্গমনকারী যানবাহনে কঠোর তল্লাশি কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়।

বাঘাইহাট ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. মহিউদ্দিন ফারুকী বলেন, দেশে ভোজ্য তেলের পর্যাপ্ত মজুত থাকা সত্ত্বেও কিছু অসাধু ব্যবসায়ী ও সিন্ডিকেট চক্র কৃত্রিম সংকট সৃষ্টির অপচেষ্টা চালাচ্ছে। এর ফলে বাজারে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি হওয়ার পাশাপাশি জাতীয় অর্থনীতির ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। তিনি বলেন, এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় সীমান্তবর্তী এলাকায় ভোজ্য তেলের অবৈধ মজুত ও চোরাচালান প্রতিরোধে নিয়মিত তল্লাশি কার্যক্রম এবং টহল কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে এবং ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে। বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) সীমান্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি চোরাচালান ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের অবৈধ মজুত প্রতিরোধে দৃঢ় অবস্থানে রয়েছে। সীমান্ত এলাকায় ভোজ্য তেলের অবৈধ কার্যক্রম রোধে বিজিবি সর্বোচ্চ সতর্কতা ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছে।

কোস্ট গার্ড মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন বলেন, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানা যায়, বৈশ্বিক জ্বালানি সংকটকে কেন্দ্র করে কতিপয় অসাধু ব্যবসায়ী জ্বালানি ও ভোজ্য তেলসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের কৃত্রিম সংকট সৃষ্টির লক্ষ্যে চট্টগ্রাম বহির্নোঙরে বিভিন্ন লাইটার জাহাজে ভোজ্য ও জ্বালানি তেলসহ খাদ্যদ্রব্য অবৈধ মজুত করে অবস্থান করছে। প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে কোস্ট গার্ড বেইস চট্টগ্রাম, নৌবাহিনী, নৌপরিবহন অধিদপ্তর এবং চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের সমন্বয়ে চট্টগ্রামের বহির্নোঙরে বিভিন্ন বাণিজ্যিক ও লাইটার জাহাজে যৌথ অভিযান চলমান রয়েছে।

বাজারে জ্বালানি ও ভোজ্য তেলসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যদ্রব্যের কৃত্রিম সংকট প্রতিরোধ এবং মূল্য স্থিতিশীল রাখতে কোস্ট গার্ড চট্টগ্রাম বন্দরসহ বহির্নোঙরে সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও গোয়েন্দা নজরদারি কার্যক্রম জোরদার করেছে। পাশাপাশি বন্দরের নির্দেশনা অনুযায়ী ৭২ ঘণ্টার অধিক কোনো লাইটার, কোস্টারসহ খাদ্যদ্রব্য, জ্বালানি ও ভোজ্য তেলবাহী জাহাজকে নোঙর এলাকায় অবস্থান করতে না দেয়া, জ্বালানি ও ভোজ্য তেলবাহী জাহাজসমূহকে দ্রুত নিজ নিজ গন্তব্যে প্রেরণ নিশ্চিত করা এবং আইন অমান্যকারী জাহাজের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের লক্ষ্যে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করছে কোস্ট গার্ড। কোস্ট গার্ড জানায়, জনস্বার্থে জ্বালানি ও ভোজ্য তেলসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা এবং কৃত্রিম সংকট প্রতিরোধে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।

সিরু

২ মাস আগে

রাজাকারেরা যে ভাবে তেল চুরি করছে তা নিয়ন্ত্রণ করতে না পারলে দেশে তেলের যত স্টক থাকুক না কেন তেলের ক্রাইসিস কাটবে না

মন্তব্য করুন