গঙ্গাচড়ায় ইউএনও অফিসে নৌকার চেয়ারম্যানকে এনসিপি’র অবরুদ্ধ, অপসারণ ও গ্রেপ্তারের দাবি

ফন্ট সাইজ:

রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলা নির্বাহী অফিসারের অফিস কক্ষে গতকাল নৌকার চেয়ারম্যানকে অবরুদ্ধ করে এনসিপি’র নেতৃবৃন্দ। এ সময় তারা চেয়ারম্যানকে দ্রুত অপসারণসহ গ্রেপ্তারের দাবি জানান। উপজেলার বেতগাড়ী ইউপি চেয়ারম্যান মোহাইমিন ইসলাম মারুফ নৌকা প্রতীক নিয়ে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। তিনি নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের বেতগাড়ী ইউনিয়ন সভাপতি ছিলেন। জুলাই আন্দোলনে শেখ হাসিনার পতনের পর সহিংসতা ও নাশকতার মামলায় মারুফ আসামি হয় এবং চেয়ারম্যান পদ থেকে সরকার তাকে অপসারণ করে ও ইউনিয়ন পরিষদে প্রশাসক নিয়োগ দেয়। এদিকে মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে কিছুদিন জেলে থাকার পর মারুফ জামিনে বের হন। পরবর্তীতে মারুফ আওয়ামী লীগ থেকে পদত্যাগ করেন এবং জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মাস খানেক আগে বিএনপিতে যোগদান করেন। গত ৩১শে মার্চ রংপুর জেলা প্রশাসক স্বাক্ষরিত পত্রে মোহাইমিন ইসলাম মারুফকে চেয়ারম্যান পদে বহাল করে। এরপর মারুফ ইউনিয়ন পরিষদে যোগদান করেন। ইউনিয়ন পরিষদে যোগদানের দিন উপজেলা এনসিপি নেতা জীবনের নেতৃত্বে এনসিপি’র নেতৃবৃন্দ ইউনিয়ন পরিষদে গিয়ে তীব্র প্রতিবাদ জানায় এবং ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগকে পুনর্বাসনের নিন্দা জানিয়ে চেয়ারম্যান মারুফকে অপসারণ ও গ্রেপ্তারের দাবি জানায়। চেয়ারম্যানকে অপসারণ ও গ্রেপ্তারে সময় দেয়। এই সময়ের মধ্যে ব্যবস্থা না নিলে এনসিপি’র নেতৃবৃন্দ আন্দোলন কর্মসূচি দেয়ার ঘোষণা দেয়। অপরদিকে পহেলা বৈশাখ উদ্যাপন উপলক্ষে উপজেলা প্রশাসন বৃহস্পতিবার প্রস্তুতিমূলক সভা ডাকে। নিয়ম অনুযায়ী সকল ইউপি চেয়ারম্যান/প্রশাসকগণ সে সভায় উপস্থিত থাকার জন্য পত্র পাবেন। তাই ইউপি চেয়ারম্যান মোহাইমিন ইসলাম মারুফ ওই সভায় যোগদানের জন্য উপজেলা পরিষদ আসেন। সভা শেষ হয়ে আসায় মারুফ ইউএনও’র অফিস কক্ষে যান ইউএনও’র সঙ্গে দেখা করার জন্য। এনসিপি’র নেতৃবৃন্দ বিষয়টি জানতে পেরে উপজেলা এনসিপি’র সাবেক প্রধান সমন্বয়কারী রিফাত চৌধুরীর নেতৃত্বে এনসিপি নেতা জীবন, জাহানুর, তৈয়ব, রাদিদ, আহাদসহ অন্যরা ইউএনও অফিসের দরজার সামনে বসে পড়েন। ইউএনও অফিসে থাকা চেয়ারম্যান মারুফ অবরুদ্ধ হন। এনসিপি নেতৃবৃন্দ এ সময় ইউএনও’র কাছে তাকে দ্রুত অপসারণের ব্যবস্থা গ্রহণসহ গ্রেপ্তারের দাবি জানায়। তারা ওসিকেও ফোন করে মারুফকে গ্রেপ্তারের জন্য। ১ ঘণ্টার বেশি সময় চেয়ারম্যান ইউএনও অফিসে অবরুদ্ধ থাকেন। পরে ইউএনও জেসমিন আক্তার বের হয়ে এনিসিপি’র নেতৃবৃন্দের সঙ্গে কথা বলে আরেক সভায় যোগদানের জন্য চলে যান। এরপরই ইউপি চেয়ারম্যান মোহাইমিন ইসলাম মারুফ বের হলে এনসিপি নেতৃবৃন্দ বাধা প্রদান করে তাকে গ্রেপ্তারের দাবি জানালে ইউপি সদস্যরা এগিয়ে এসে চেয়ারম্যানকে টেনে নিয়ে যেতে ধরলে সেখানে উভয়পক্ষের বাকবিতণ্ডা হয় এবং একপর্যায় এনসিপি নেতা রিফাত চৌধুরী উপস্থিত সাংবাদিকদের বলেন, জুলাই বিপ্লব তথা ছাত্র-জনতার আন্দোলনের বিরোধিতাকারী ফ্যাসিবাদের দোসরকে কোনোভাবে পুনর্বাসন হতে দেবো না। এখন তিনি যে দলেই যাক না কেন তার বড় পরিচয় হলো নৌকার চেয়ারম্যান। তাই নৌকার চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার জন্য তিনি প্রশাসনসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হস্তক্ষেপ কামনা করেন। পরে মারুফকে বাধা প্রদান থেকে বিরত থাকলে মারুফ তার পরিষদের সদস্যদের নিয়ে চলে যান। এনসিপি নেতা জীবন, তৈয়ব ও জাহানুর বলেনÑ ফ্যাসিবাদ প্রতিষ্ঠিত হলে জুলাই বিপ্লব হারিয়ে যাবে। রক্তে রঞ্জিত ও শহীদের আত্মত্যাগের বিনিময়ে ৩৬শে জুলাই কুলুসিত হতে দেবো না। আমরা তার অপসারণ ও গ্রেপ্তারের জন্য দাবি করছি। তারা আরও বলেন, তার পরিষদের সদস্যরা অনাস্থা এনে চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে আবেদন দিলেও ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। ইউপি চেয়ারম্যান মোহাইমিন ইসলাম মারুফ বলেন, আমি আগে আওয়ামী লীগ করলেও সাংবাদিক ডেকে ঘোষণা দিয়ে আওয়ামী লীগ থেকে পদত্যাগ করে বিএনপিতে যোগদান করি। আমার মতো দেশে আরও নেতাকর্মী বিভিন্ন দলে যোগদান করেছে। একজন ব্যক্তির ব্যক্তিস্বাধীনতা আছে। তারা ব্যক্তিস্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ করছে। তিনি আরও বলেন, আমার ইউনিয়নের ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি এনসিপিতে যোগদান করেছে। আমি কোনো অন্যায় করিনি বা জড়িত ছিলাম না। অন্যায় করলে আইন অনুযায়ী আমার অপসারণ হবে, বিচার হবে। কিন্তু আইন কারও হাতে তুলে নেয়া উচিত নয়। ইউএনও জেসমিন আক্তার বলেন, আমি জেলা প্রশাসকের পত্রের মাধ্যমে জানতে পারি বেতগাড়ী ইউপি চেয়ারম্যান মোহাইমিন ইসলাম মারুফ বহাল হয়েছেন। এ ছাড়া চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে সদস্যদের অনাস্থা বিষয় নিয়ম অনুযায়ী জেলা প্রশাসকের কাছে পাঠিয়ে দেয়া হয়েছে।


কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন