কুমিল্লার দেবিদ্বারে মসজিদের ইমামকে প্রকাশ্যে মারধর ও লাঞ্ছিতের প্রতিবাদে এবং ঘটনার সুষ্ঠু বিচার ও দোষীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রাকিবুল ইসলামকে স্মারকলিপি প্রদান দেয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার দুপুরে ‘ইমাম ঐক্য পরিষদ’ এই স্মারকলিপি প্রদান করেন।
স্মারকলিপি ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রায় দেড় বছর আগে পৌর এলাকার বড়আলমপুরস্থ ‘আল মদিনাতুল আকসা’ মসজিদের ইমাম ও খতিব মাওলানা কামাল উদ্দিন জুমার খুতবায় সমাজে বিরাজমান জুলুম ও অনিয়ম নিয়ে বয়ান করায় স্থানীয় মুসল্লি আব্দুল কাইয়ূম তার ওপর ক্ষুব্ধ হন। ওই সময় তিনি ইমামকে এ ধরনের বক্তব্য দিতে নিষেধ করেন এবং তাকে চাকরি ছেড়ে চলে যেতে বলেন। এরপর থেকে তিনি বিভিন্ন সময় ইমামকে হুমকি-ধামকি ও গালমন্দ করে আসছিলেন। সাধারণ মুসল্লিরা ইমামের পক্ষে অবস্থান নিলেও পরিস্থিতি বিবেচনায় একাধিকবার সালিশি বৈঠক হয় এবং একপর্যায়ে মাওলানা কামাল উদ্দিনকে মসজিদের পাশের একটি মাদ্রাসায় শিক্ষক হিসেবে স্থানান্তর করা হয়। ভুক্তভোগী ও স্থানীয়রা অভিযোগ করেন, গত ৭ই এপ্রিল ইমাম মাওলানা কামাল উদ্দিনকে রাস্তায় একা পেয়ে আব্দুল কাইয়ূম পুনরায় অকথ্য ভাষায় গালমন্দ শুরু করেন এবং একপর্যায়ে তাকে প্রকাশ্যে মারধর ও শারীরিকভাবে হেনস্তা করেন। এই ন্যক্কারজনক ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে উপজেলার ইমাম সমাজ ও স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। স্মারকলিপি প্রদানের সময় উপস্থিত ছিলেন দেবিদ্বার মডেল মসজিদের ইমাম মাওলানা মুফতি আহাদ, নিউ মার্কেট জামে মসজিদের খতিব মাওলানা মুফতি মো. হাসান, ইসলামী আন্দোলনের উপজেলা সাধারণ সম্পাদক মাওলানা আব্দুল্লাহ আল মামুন, দেবিদ্বার উপজেলা সুজন-এর সভাপতি এটিএম সাইফুল ইসলাম মাসুম এবং জামিয়া ইব্রাহিমীয়া কারিমিয়া মাদ্রাসার প্রিন্সিপাল ডা. মহসিন আলমসহ স্থানীয় ওলামায়ে কেরাম। নেতৃবৃন্দ এই ঘটনার সঠিক তদন্তের মাধ্যমে দোষী ব্যক্তির দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান। ইউএনও রাকিবুল ইসলাম স্মারকলিপি গ্রহণ করে বিষয়টি তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস প্রদান করেছেন।
দেবিদ্বারে ইমামকে মারধর ও হেনস্তা: বিচারের দাবিতে ইউএনওকে স্মারকলিপি
দেবিদ্বার (কুমিল্লা) প্রতিনিধি
১০ এপ্রিল (শুক্রবার), ২০২৬
লিংক কপি হয়েছে!
ফন্ট সাইজ:
100%
