কিশোরগঞ্জে ভূমি অধিগ্রহণ কর্মকর্তাসহ ১০ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট

পৌনে ৪ কোটি টাকা আত্মসাৎ

কিশোরগঞ্জে ভূমি অধিগ্রহণ কর্মকর্তাসহ ১০ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট

ফন্ট সাইজ:

কিশোরগঞ্জে ভূমি অধিগ্রহণের ৩ কোটি ৭৯ লাখ টাকা আত্মসাতের ঘটনায় দায়ের করা মামলায় বরখাস্ত হওয়া জেলা প্রশাসনের ভূমি অধিগ্রহণ কর্মকর্তা মো. সেতাফুল ইসলামসহ ১০ জনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) জমা দিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা দুদকের সাবেক সহকারী পরিচালক মাহাথির মুহাম্মদ সামী তদন্ত শেষে বৃহস্পতিবার আদালতে এই চার্জশিট দাখিল করেন। এতে ভূমি অধিগ্রহণ কর্মকর্তা মো. সেতাফুল ইসলাম ছাড়াও জেলা হিসাবরক্ষণ অফিসের তৎকালীন অডিটর মো. সৈয়দুজ্জামানকে অভিযুক্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া সুবিধাভোগী ৮ জনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে। তারা হলেনÑ বাজিতপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল্লাহ্ আল মামুন, কে এ আল মামুন, মো. কামরুজ্জামান, মো. জাহাঙ্গীর আলম, মো. আনিছুর রহমান, মোহাম্মদ মাহমুদ হোসেন শিমুল, জিলন খান ও আব্দুল হামিদ। জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের ভূমি অধিগ্রহণ (এলএ) শাখার অর্থ জালিয়াতি ও যোগসাজশের মাধ্যমে ৩ কোটি ৭৯ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে ২০২৪ সালের ৯ই জুলাই দুদক জেলা কার্যালয়ে মামলাটি দায়ের করা হয়। এ মামলার দুই আসামি রায়হান উদ্দিন ও আবুল কালাম মামলার কার্যক্রম চলাকালীন মৃত্যুবরণ করায় আইনগত নিয়ম অনুযায়ী চার্জশিট থেকে তাদের নাম বাদ দেয়া হয়েছে বলে তদন্তকারী কর্মকর্তা মাহাথির মুহাম্মদ সামী জানিয়েছেন। মামলায় মোট ৩৫ জনকে সাক্ষী করা হয়েছে, যার মধ্যে তৎকালীন জেলা প্রশাসক মো. আজিমুদ্দিন বিশ্বাসসহ প্রশাসনের পদস্থ কর্মকর্তারা রয়েছেন।
দুদক সূত্র জানিয়েছে, ২০১৩-১৪ সালে ভৈরবের বিসিক শিল্পনগরী প্রকল্প, ২০১৪-১৫ সালে বাজিতপুর উপজেলা সড়ক উন্নয়ন প্রকল্প, ২০১৪-১৫ সালে অষ্টগ্রামের চৌদন্ত সড়ক প্রকল্প এবং ২০১৪-১৫ সালে উজানচর-বাজিতপুর সড়ক উন্নয়ন প্রকল্পের জন্য ভূমি অধিগ্রহণের মূল্য বাবদ চারটি এলএ কেসের বিপরীতে পৃথক ১২টি চেকের মাধ্যমে মোট ৩ কোটি ৭৯ লাখ টাকা প্রদান করা হয়। এই ১২টি চেক গ্রহণ করেন আব্দুল্লাহ আল মামুন, কে এ আল মামুন, মো. কামরুজ্জামান, মো. জাহাঙ্গীর আলম, মো. আনিছুর রহমান, মোহাম্মদ মাহমুদ হোসেন শিমুল, রায়হান উদ্দিন, জিলন খান, আবুল কালাম ও আবদুল হামিদ নামের ১০ জন ব্যক্তি। কিন্তু তারা কেউই এসব প্রকল্প সংশ্লিষ্ট ভূমি অধিগ্রহণের ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তি নন। ভূমি অধিগ্রহণে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তির আবেদন গ্রহণ, মালিকানা স্বত্বের প্রামাণিক দলিল ছাড়া ও সংশ্লিষ্ট রোয়েদাদ বইতে লিপিবদ্ধ না করে এবং স্বত্ব মালিকানা অনুযায়ী বিতরণ না করে নিজ উদ্যোগে অধিকাংশ এলএ চেকের মুড়ির অংশ ও প্রাপকের অংশে ভিন্ন তথ্য লিপিবদ্ধ করেন ভূমি অধিগ্রহণ কর্মকর্তা মো. সেতাফুল ইসলাম। এভাবে ১২টি চেক বিতরণের মাধ্যমে মোট ৩ কোটি ৭৯ লাখ টাকা আত্মসাৎ করেন সেতাফুল ইসলাম। এ ছাড়া তিনি এসব চেকসহ অন্যান্য এলএ চেক নগদায়নের জন্য ভুয়া এডভাইস তৈরি ও জেলা হিসাবরক্ষণ অফিসে পাঠানোর পর জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের এলএ শাখাকে বাইপাস করে বিভিন্ন এলএ চেক বিভিন্ন ব্যক্তিকে প্রদান করেন। এতে চারটি প্রকল্পের লেজার বইসমূহের সঙ্গে জেলা হিসাবরক্ষণ অফিসের সংশ্লিষ্ট রেজিস্ট্রারসমূহের মোট ৮ কোটি ৯৬ লাখ ৫৭ হাজার ৩৬ টাকার গড়মিল ধরা পড়ে। এসব চেকসহ অন্যান্য এলএ চেক নগদায়নের জন্য ভুয়া এডভাইস তৈরি ও ভুয়া এডভাইস বিধিবহির্ভূতভাবে গ্রহণ এবং ব্যবহার করেন জেলা হিসাবরক্ষণ অফিসের প্রাক্তন অডিটর মো. সাইদুজ্জামান। এ ছাড়া এসব চেক তিনি নগদায়ন করেন। ২০১৬ সালের মার্চ থেকে ২০১৭ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত বিভিন্ন সময়ে সরকারি অর্থ গড়মিল ও আত্মসাতের এ ঘটনা ঘটে। প্রসঙ্গত, ২০১৮ সালের জানুয়ারিতে ভূমি অধিগ্রহণের আরও ৫ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে সেতাফুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করে দুদক। পানি উন্নয়ন বোর্ডের একটি প্রকল্পে ৫ কোটি ২৫ লাখ টাকা আত্মসাতের সেই মামলাটি বর্তমানে বিচারাধীন রয়েছে। সেতাফুল ইসলাম বর্তমানে চাকরি হতে বরখাস্ত।



কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন