মানিকগঞ্জে আওয়ামী লীগ নেতার পাম্পের সাড়ে চার হাজার লিটার পেট্রোল গায়েব

ফন্ট সাইজ:

শিবালয়ে জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি আব্দুর রহিম খানের মালিকানাধীন পেট্রোল পাম্পের নির্ধারিত তেল রাতের অন্ধকারে অন্যত্র কালোবাজারে বিক্রি করার অভিযোগ উঠেছে।
উপজেলার টেপড়া এলাকার মামুন এন্টারপ্রাইজের কাছে বিক্রি করে দেয়ার সময় হাতেনাতে ধরে ফেলে জাতীয় গোয়েন্দা সংস্থা (এনএসআই)। একইসঙ্গে একটি ট্যাংক লরিও জব্দ করা হয়েছে।
বুধবার মধ্যরাতে উপজেলার বরংগাইল এলাকায় রুমি ফিলিং স্টেশনে অভিযান চালিয়ে লরিটি আটক করে এনএসআই। পাম্পটির মালিক আব্দুর রহিম খান, যিনি জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান।
গোয়েন্দা সূত্র বলছে, নারায়ণগঞ্জ ডিপো থেকে প্রায় ১৩ হাজার ৫০০ লিটার জ্বালানি নিয়ে আসা লরিটি পাম্পে পৌঁছানোর পর ৯ হাজার লিটার ডিজেল নিয়মমাফিক খালাস করা হয়। কিন্তু বাকি সাড়ে ৪ হাজার লিটার পেট্রোল অদৃশ্য পথে সরিয়ে নেয়ার চেষ্টা চলছিল। লক্ষ্য ছিল- শিবালয় উপজেলা পরিষদের বিপরীতে টেপড়া এলাকায় যমুনা পেট্রোলিয়ামের ডিলার মামুন এন্টারপ্রাইজের কাছে বিক্রি করা। তবে গোয়েন্দা উপস্থিতি টের পেয়ে লরিটি প্রথমে পালানোর চেষ্টা করে, পরে আবার ওই আওয়ামী লীগ নেতার পাম্পেই ফিরিয়ে আনা হয়। সেখান থেকেই লরিটিকে আটক করা হয়।
অভিযোগ রয়েছে, দীর্ঘদিন ধরেই সাধারণ গ্রাহকদের কাছে সংকটের কথা বলে আসছিল। অথচ সেই তেলই বেশি দামে কালোবাজারে বিক্রি করা হচ্ছিল মামুন এন্টারপ্রাইজ নামের ওই প্রতিষ্ঠানের কাছে। ওই ডিলারের নেই পেট্রোল বিক্রির অনুমোদন। পরে সেই তেল ঘুরে আরও চড়া দামে খুচরা বাজারে পৌঁছাতো। ফলে ভোক্তাদের প্রতি লিটার পেট্রোল কিনতে গুনতে হচ্ছিল ১৮০ থেকে ২২০ টাকা, যা সরকারি দামের চেয়ে অনেক বেশি। এ বিষয়ে শিবালয় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মনিষা রানী কর্মকার বলেন, কালোবাজারে তেল বিক্রির বিষয়টির প্রমাণ পাওয়া গেলে পাম্পের মালিকের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।


কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন