হাছান মাহমুদসহ ১৮ জনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা

ফন্ট সাইজ:

জুলাই গণ-অভ্যুত্থান চলাকালে চট্টগ্রামে ছাত্রদল নেতা ওয়াসিমসহ ৬ জনকে হত্যার ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ২২ জনের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আমলে নিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল। একইসঙ্গে পলাতক সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ চৌধুরীসহ ১৮ জনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে। ৫ই এপ্রিল ২২ জনের বিরুদ্ধে ট্রাইব্যুনালের রেজিস্ট্রারের কাছে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করে প্রসিকিউশন। মঙ্গলবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল এ আদেশ দেন।
এ মামলায় মোট ৩টি অভিযোগ আনে প্রসিকিউশন। প্রথম অভিযোগে ওয়াসিম আকরাম, ফয়সাল আহমেদ শান্ত ও মো. ফারুককে হত্যার দায় আনা হয়েছে। দ্বিতীয় অভিযোগে তানভীর সিদ্দিকী, সায়মন ওরফে মাহিম ও হৃদয় চন্দ্রকে শহীদ করার দায় আনা হয়েছে। এ ছাড়া জাহিদ হাসান, আবদুল কাদের, আছিয়া খাতুন, সানজিদা সুলতানা, আবদুল্লাহসহ শতাধিক ছাত্র-জনতাকে গুরুতর আহত করার কথা উল্লেখ করা হয় তিন নম্বর অভিযোগে। এই তিনটিতেই আসামিদের বিরুদ্ধে গুলি করে হত্যা, নির্দেশ, উসকানি ও সহায়তার অভিযোগের কথা উল্লেখ রয়েছে। এ মামলায় গ্রেপ্তার রয়েছেন ৪ জন। তারা হলেন- চট্টগ্রাম-৬ আসনের সাবেক এমপি এবিএম ফজলে করিম চৌধুরী, যুবলীগ নেতা আজিজুর রহমান, তৌহিদুল ইসলাম ও মো. ফিরোজ।
অন্যদিকে, সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী ছাড়াও পরোয়ানা জারি হওয়া পলাতক আসামিরা হলেন- সাবেক শিক্ষামন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল, চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র আ.জ.ম নাছির উদ্দীন, রেজাউল করিম, মহিউদ্দিন বাচ্চু, হেলাল আকবর, নুরুল আজিম রনি, শৈবাল দাশ সুমন, আবু ছালেক, এসবারুল হক, এইচএম মিঠু, নূর মোস্তফা টিনু, দেবাশীষ পাল দেবু, জমির উদ্দিন, ইমরান হাসান মাহমুদ, জাকারিয়া দস্তগীর, মহিউদ্দিন ফরহাদ ও সুমন দে। তারা সবাই আওয়ামী লীগ ও সহযোগী অঙ্গসংগঠনের সঙ্গে জড়িত।
রামপুরায় ২৮ জনকে হত্যা মামলার সাক্ষ্যগ্রহণ ১৫ই এপ্রিল: জুলাই গণ-অভ্যুত্থান চলাকালে রাজধানীর রামপুরায় গুলি করে ২৮ জনকে হত্যাসহ মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার পরবর্তী সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য ১৫ই এপ্রিল দিন ধার্য করেছেন ট্রাইব্যুনাল-১। গতকাল এই মামলায় হাসি আক্তার নামে ৩ নম্বর সাক্ষী সাক্ষ্য দিয়েছেন। ছেলেকে হত্যার জন্য সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, কর্নেল রেদোয়ান, ওসি মশিউর, এডিসি রাশেদ, মেজর রাফাতসহ আরও যারা জড়িত তাদের দায়ী করে তিনি এর বিচার চান।
জবানবন্দিতে হাসি আক্তার বলেন, আমি আফতাবনগর পাওয়ার গ্রিডে অফিস সহায়ক পদে চাকরি করি। আমার একমাত্র ছেলে রাকিব হোসেন আমার সঙ্গে একই অফিসে ক্লিনার পদে চাকরি করতো। জুলাই আন্দোলন চলাকালে ১৯শে জুলাই রাকিব গুলিবিদ্ধ হলে হাসপাতালে নেয়া হয়। পরে, আমি ও আমার মেয়ের জামাই সেখান থেকে রিকশা নিয়ে দ্রুত আফতাবনগর নাগরিক হাসপাতালে যাই। আমি জানতে পারি যে, রাকিব আফতাবনগর গেটের সামনে রামপুরা ব্রিজের ঢালে গুলিবিদ্ধ হয়েছে। সেখানে সে তার বন্ধুদের নিয়ে আন্দোলন করছিলো। আমি হাসপাতালে গিয়ে দেখতে পাই যে, রাকিব তার পেটে গুলিবিদ্ধ হয়েছে। নাগরিক হাসপাতাল থেকে একটি এম্বুলেন্সযোগে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাই। প্রথমে ইমার্জেন্সিতে পরে আইসিইউতে নেয়া হয়। পরে আমার এক ভাই রাকিবের জন্য তিন ব্যাগ রক্ত নিয়ে এলে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ আমাদের বলে যে, রক্ত আর লাগবে না, রাকিব মারা গেছেন। এ পর্যায়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন হাসি আক্তার। আইসিইউ থেকে বের করে রাকিবের লাশ মর্গে প্রেরণ করা হয়। সেখানে তার সুরতহাল ও পোস্ট মর্টেম করা হয়। পরবর্তীতে ২১শে জুলাই ঝালকাঠিতে আমার বাবার বাড়িতে ছেলের লাশ দাফন করি বলে জানান তিনি।

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন