বামদের জমি ফেরাতে ‘মোহ’ কাটানোর পরামর্শ দিলেন বামফ্রন্টের চেয়ারম্যান বিমান বসু

পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচন

বামদের জমি ফেরাতে ‘মোহ’ কাটানোর পরামর্শ দিলেন বামফ্রন্টের চেয়ারম্যান বিমান বসু

ফন্ট সাইজ:

পশ্চিমবঙ্গে দীর্ঘ ৩৫ বছর দাপটের সঙ্গে সরকার পরিচালনা করলেও ২০১১ সালের নির্বাচনে যে ভরাডুবি হয়েছিল তা থেকে বামরা উঠে আসতে পারেনি। বরং প্রতিটি নির্বাচনে জমি খুইয়ে পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভায় প্রতিনিধিত্ব করার মতো আসনও যোগাড় করতে পারেনি বাম দলগুলি। আর তাই অন্য দলগুলির কাছে, বিশেষ করে তৃণমূল কংগ্রেসের কাছ থেকে কটাক্ষ শুনতে হয়েছে বাম নেতাদের।

তবে ছাব্বিশের এই বিধানসভা নির্বাচনে জমি ফিরে পেতে বামফ্রন্টের শরিক সব কটি দল সর্বশক্তি নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়েছে। বামফ্রন্টের প্রধান শরিক সিপিআইএম মীনাক্ষি মুখোপাধ্যায়, দিপ্সীতা ধর, কলতান দাশগুপ্তের মতো তরুণ তুর্কি হিসেবে পরিচিত নেতা-নেত্রীকে নির্বাচনে প্রার্থী করেছে। আধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে অন্য দলগুলির সঙ্গে পাল্লা দিয়ে প্রচারে ঝড়ও তুলেছেন বাম প্রার্থীরা কিন্তু প্রশ্ন হলো, বাম সমর্থকদের মনস্তত্বে কতটা পরিবর্তন আনা সম্ভব হবে?
গত কয়েকটি নির্বাচনে লক্ষ্য করা গেছে, বামসমর্থকদের বড় অংশ তৃণমূল কংগ্রেসকে শিক্ষা দিতে বাম-আদর্শ জলাঞ্জলি দিয়ে বিজেপিকে ভোট দিয়েছেন। ফলে তৃণমূল কংগ্রেস থেকে রাম-বাম আঁতাতের অভিযোগ তোলা হয়েছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বামদের যত রক্তক্ষরণ হয়েছে ততটাই লাভ হয়েছে বিজেপির। ফলে তারা ভোট প্রাপ্তির হার ধরে রাখতে পেরেছে। অবশ্য বামরা বেশ কিছু আসনে ভোট বাড়োনোর ফলে বিজেপিকে সহজেই হারিয়ে দিয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস। আর তাই বিজেপি এবারের ভোটের প্রচারে বাম কাঁটা উপরে ফেলার কথা বলছেন। এমনকি তৃণমূল কংগ্রেসের সঙ্গে সেটিংয়ের তত্ব আওড়াচ্ছেন বিজেপি নেতারা।

এই বাস্তব পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করে বামফ্রন্টের চেয়ারম্যান বর্ষীয়ান সিপিআইএম নেতা বিমান বসু রামের মোহ থেকে বেরিয়ে আসার ডাক দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, তৃণমূল কংগ্রেসকে শিক্ষা দিতে পারে বিজেপি, এই মোহ কাটিয়ে বাম ভোটকে ঊর্ধ্বমুখী করা দরকার। বাংলা বাঁচানোর লড়াইয়ে সর্বশক্তি নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়ার জন্য বাম নেতা-কর্মী ও সমর্থকদের কাছে আহ্বান জানিয়েছেন।

কেন্দ্র ও রাজ্য, দুই সরকারের নৈরাজ্য ও বিভাজনের রাজনীতির বিকল্প খুলে রাখতে বাম সমর্থকদের কাছে আবেদন জানিয়েছেন। অবশ্য বিমান বসু জানিয়েছেন, আগে রাম পরে বাম, এই রকম একটা কথা ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছিল। এই প্রচার মূলত আরএসএস করেছিল। তাতে কিছু সাফল্যও তারা পেয়েছিল। কিন্তু সেটা আর হবে না বলেই তিনি বিশ্বাস করেন। তিনি বলেন, নিম্ন আয়ের খেটে খাওয়া মানুষ রুটি-রুজি নিয়েই চিন্তিত। তাদের কাছে বিজেপির হিন্দু-মুসলিম বিভাজন, অনুপ্রবেশ, আমিষ-নিরামিশ তত্ত্ব নিয়ে তাদের মাথাব্যাথা নেই। তাই এদের উপরই ভরসা করতে হবে বলে জানিয়েছেন বিমান বসু।

রাজ্যের সাবেক বাম মন্ত্রী প্রবীণ সিপিআইএম নেতা অশোক ভট্টাচার্য বলেছেন , বাংলার সব মানুষ ধর্মের ভিত্তিতে দুই মেরুতে বিভক্ত হয়ে যায়নি। অশোক ভট্টাচার্য মনে করেন, বিজেপির প্রতি আকর্ষণ মূলত মধ্যবিত্ত ও উচ্চবিত্তদের মধ্যে। প্রচারে গিয়ে অর্জিত অভিজ্ঞতা থেকে তিনি বলেছেন, প্রান্তিক ও স্বল্পআয়ের বহু হিন্দু রয়েছেন যারা বিজেপিকে পছন্দ করছেন না। এদেরকে বামদের দিকে টেনে আনার উপর জোর দিতে হবে। বিজেপি ও তৃণমূল কংগ্রেসের বিকল্প যে বামরাই, চিন্তা ভাবনা সব দিক থেকেই, এই প্রচারের উপর জোর দিতে হবে বাম নেতা ও কর্মীদের। তাহলেই হারানো জমি খানিকটা ফিরে পাওয়া যেতে পারে বলে মনে করেন অনেক তরুণ বাম ছাত্র ও যুব নেতাও।

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন