পশ্চিমবঙ্গের মালদহের মোথাবাড়িতে সম্প্রতি এসআইআর বিরোধীতার নামে বিচারকদের দীর্ঘ সময় আটকে রেখে হেনস্থার ঘটনায় রাজ্য রাজনীতি তোলপাড় হচ্ছে। তবে সোমবার সুপ্রিম কোর্ট এই ঘটনাকে পূর্বপরিকল্পিত ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে মন্তব্য করেছেন। প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত বলেছেন, এই ঘটনার মূল অনেক গভীরে।
সোমবার মোথাবাড়িকাণ্ডের শুনানিতে ঘটনার তদন্তভার জাতীয় গোয়েন্দা সংস্থা এনআইএর হাতে তুলে দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট। প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত স্পষ্ট জানান, এই ঘটনায় স্থানীয় পুলিশের তদন্তের কোনও প্রশ্নই ওঠে না। তদন্তভার নিতে হবে এনআইএ-কে। সেই ঘটনার প্রেক্ষিতে আবার একবার সুপ্রিম কোর্টে প্রশ্নের মুখে পড়লেন রাজ্যের মুখ্যসচিব দুষ্মন্ত নারিওয়ালা। ঘটনার দিন কেন তিনি কলকাতা হাই কোর্টের প্রধান বিচারপতি সুজয় পালের ফোন ধরেননি, সেই প্রশ্ন তুলে ভর্ৎসনাও করে শীর্ষ আদালত।
ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ পড়ার প্রতিবাদে গত বুধবার দফায় দফায় উত্তপ্ত হয়ে উঠেছিল মালদহের মোথাবাড়ি, সুজাপুর-সহ বিভিন্ন এলাকা। এসআইআরের কাজে নিযুক্ত সাত জন বিচারককে কালিয়াচক-২ ব্লক অফিসের ভিতরে রাত পর্যন্ত আটকে রাখে উত্তেজিত জনতা। এই ঘটনায় রাজ্য পুলিশ-প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছে সুপ্রিম কোর্ট।
এই ঘটনায় যুক্তদের দ্রুত গ্রেপ্তার করারও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ইতিমধ্যেই ২৪ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পুলিশ যে ১২ টি এবআইআর দায়ের করেছিল সে সব কেস ডায়েরি ও অন্যান্য তথ্য অবিলম্বে হস্তান্তরের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।
আদালত সূত্রে জানা গেছে,সন্দেহভাজনের তালিকায় রয়েছেন ৩০৯ জন। সব মিলিয়ে মোট ৪৩২ জন তদন্তকারীদের নজরে রয়েছে। সেই বিষয় উল্লেখ করে সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি বলেন, ‘‘ওই ঘটনায় অন্য কেউ জড়িত আছেন বলে মনে হয়। তবে এনআইএ নতুন এফআইআর দায়ের করতে পারবে। তদন্ত রিপোর্ট জমা করতে হবে কলকাতার এনআইএ আদালতে। তবে মামলায় চার্জশিট জমা দেওয়ার আগে সুপ্রিম কোর্টে জমা দিতে হবে স্টেটাস রিপোর্ট। সেই রিপোর্টে তদন্তের অগ্রগতি সম্পর্কে জানাতে হবে।’’
সুপ্রিম কোর্টের পর্যবেক্ষণ
পশ্চিমবঙ্গের মোথাবাড়িতে বিচারকদের আটকে রেখে হেনস্থার ঘটনা পূর্বপরিকল্পিত ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত
নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা
ভারত
৩ মাস আগে
৬ এপ্রিল (সোমবার), ২০২৬, ১০ঃ১৫ (অপরাহ্ণ)
লিংক কপি হয়েছে!
ফন্ট সাইজ:
100%
