জামায়াতে ইসলামী আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, সংসদ মানুক আর না-মানুক, গণভোটের রায় বাস্তবায়ন করব, আদায় করেই ছাড়া হবে। সোমবার সকালে রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবের কাজী নজরুল ইসলাম মিলনায়তনে জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির (জাগপা) প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর আলোচনা সভার প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির (জাগপা) দলীয় মুখপাত্র রাশেদ প্রধান।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, আমরা বিশ্বাস করি, এ প্রজন্ম যথাযথভাবেই এখনো ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে। তাদের অবস্থান স্পষ্ট। আমরা তাদের সাথে আছি। তারাও আমাদের সাথে আছে। তিনি বলেন, প্রিয় বাংলাদেশে রক্ত, জীবন, জেল যত মূল্য দিতে হয় ফ্যাসিবাদকে আর আমরা ফিরে আসতে দেব না, ইনশাআল্লাহ। আমাদের এই জেন-জিরা একজনকে সরিয়ে আরেকজনকে বসানোর জন্য এখানে আন্দোলন করে নাই। তারা লড়াই করেছে যে বন্দোবস্ত এই জাতিকে ফ্যাসিবাদের যাঁতাকলে পৃষ্ঠ করেছিল, সেই বন্দোবস্ত পরিবর্তনের জন্য। বিএনপিকে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, ন্যায় এবং ইনসাফের ভিত্তিতে একটা দেশ এবং জাতি গঠন করতে হলে একটা দলের নিজের ভেতরেই আগে ন্যায়, ইনসাফ এবং গণতন্ত্রের চর্চা হতে হবে। যারা নিজের দলের মধ্যে গণতন্ত্রের চর্চা করতে পারে না, যাদের নিজেদের নেতা কর্মীদের হাতে নিজেদের নেতা কর্মীরাই নিরাপদ নয়, তারা ১৮ কোটি মানুষের নিরাপত্তা দিতে পারবে না। তারা জনগণকে গণতন্ত্র উপহার দিতে পারবে না। তারা ন্যায় এবং ইনসাফ জাতিকে উপহার দিতে পারবে না।
তিনি অভিযোগ করে বলেন, ৫৪ বছরের দফায় দফায় যে ফ্যাসিবাদ বাংলাদেশি জাতিকে এগিয়ে যেতে দেয়নি, সেই ফ্যাসিবাদকে ২৪-এর বিপ্লবীরা ছুড়ে মেরেছিল বঙ্গোপসাগরে। নালায়-নর্দমায় ফেলে দিয়েছিল। এখন সেই নর্দমা থেকে এটাকে তুলে আনতে চায় কারা? মনে রাখা দরকার এই প্রজন্ম প্রমাণ করে দিয়েছে যে, এ প্রজন্ম যখন জেগে উঠে তখন মাসের পর মাস, আর বছরের বছর আন্দোলন করার প্রয়োজন হয় না।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কারচুপি হয়েছে দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, নির্বাচনে জনগণ ঠিক রায় দিয়েছে। আমাদের রায়কে হাইজ্যাক করা হয়েছে, ডাকাতি করা হয়েছে, জনগণকে অপমান করা হয়েছে এবং ইতিমধ্যেই তার রাজসাক্ষীও পাওয়া গেছে।
জ্বালানী সংকট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আমরা যখন জ্বালানি সংকট নিয়ে সংসদে কথা তুলি আমাদের নোটিশটা আসতে দেয়া হয় না। একটি পাম্পের লাইনে হাজার হাজার গাড়ি এবং মোটরসাইকেল দাঁড়িয়ে আছে, লাইনের পর লাইন। অথচ আমাদের মন্ত্রীরা বলেন, আগের চেয়ে তেলের রিজার্ভ এখন অনেক বেশি; কেবল চাহিদা বেড়ে গেছে। যদি তাই হয়, তবে ব্যবস্থাপনার দুর্বলতা শুধরে নিচ্ছ না কেন?
বিরোধীদলের ৭৭ জন সংসদ সদস্য ১৮ কোটি মানুষকে পাহারা দিবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, আর সংসদের ভেতরে জাতির কপাল নিয়ে কেউ ডাকাতি বা ছিনিমিনি করতে না পারে তারও পাহারা দেব। আমরা কোনো অন্যায়ের কাছে মাথানত করব না এবং অন্যায়ের ব্যাপারে ছাড়ও দেব না। যেদিন গণভোটের গণরায়কে অস্বীকার করা হয়েছে, সেই দিন থেকেই নতুন করে আবার ফ্যাসিবাদের যাত্রা বাংলাদেশে শুরু হয়েছে। আমরা এই কদম কদম যাত্রা থামিয়ে দেব।
শিক্ষা ব্যবস্থার ওপর প্রভাব নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি বলেন, জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় প্রথমেই শিশুদের ওপর হাত পড়েছে। স্কুল বন্ধ করে তাদের ঘরে পাঠিয়ে দেয়া হয়েছে। করোনার সময় পড়াশোনা দারুণভাবে ব্যাহত হওয়ায় অনেক শিশু ড্রপআউট হয়ে কিশোর গ্যাং-এর মতো বিপথে চলে গেছে। এখন আবার সরকার একই পথে হাঁটলে জাতিকে অন্ধত্ব ও মূর্খতার চাদরে ঢেকে দেয়ার নামান্তর হবে। আমরা এটা রুখে দেব, এটা মানব না। শিশুদের ভবিষ্যৎ নিয়ে কোনো আপস করা হবে না।

ইউসুফ মোহাম্মাদ
২ মাস আগেগণভোটের রায় বাস্তবায়ন বা জুলাই সনদ আদায় করা জেন-জি্দের ছাড়া সম্ভব নয়। জাতীয় নির্বাচনে তদেরকে সাথে রাখেন নি। তবে তারা আপনাদের সাথে ছিল। তাদেরকে সাথে রাখলে রায় হাইজ্যাক হতো না। ছাত্র সংসদের রায় কিন্তু হাইজ্যাক হয় নি। জাতীয় সংসদে জেন-জি্দের সংখ্যা খুবই নগণ্য। যারা রক্ত, জীবন, জেল- যুলুমের বিনিময়ে ফ্যাসিবাদ তাড়িয়েছে তাদের সঠিক মূল্যায়ন হয়নি। জেন-জি্দের প্যালস বুঝতে পারেন নি। তার নতুন প্রমাণ আপনাদের ২৬-২৮ কমিটি এবং এখন পর্যন্ত কোনো যুব সংঘঠন গড়ে না ওঠা। ফ্যাসিবাদমুক্ত ন্যায় এবং ইনসাফের একটি দেশ ও জাতি গঠন করতে জেন-জি্দের বিকল্প নেই । নেপাল পারলে বাংলাদেশ কেন নয়?