ঢাকার কেরানীগঞ্জের কদমতলী এলাকায় গ্যাসলাইটার কারখানায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ৬ জন নিহতের ঘটনায় দায়ের হওয়া মামলায় বিএনপি নেতা মো. ইমান উল্লাহ মাস্তানকে ৩ দিনের রিমান্ডে পাঠিয়েছেন আদালত। গতকাল শুনানি শেষে ঢাকার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. তানভীর আহমেদের আদালত এ আদেশ দেন।
রিমান্ড আবেদনে বলা হয়, গত ৪ঠা এপ্রিল দুপুরে ঢাকার কেরানীগঞ্জের কদমতলী গোলচত্বর এলাকায় একটি গ্যাসলাইটার কারখানায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। ফায়ার সার্ভিসের প্রাথমিক ধারণা অনুযায়ী, কারখানার ভেতরে মজুত দাহ্য পদার্থ বা গ্যাসলাইটারের কাঁচামাল থেকেই আগুনের সূত্রপাত হয়। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত ৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ ছাড়া দগ্ধ আরও কয়েকজন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন, যাদের অবস্থা আশঙ্কাজনক। প্রায় দেড় ঘণ্টার চেষ্টায় ফায়ার সার্ভিসের ৭টি ইউনিট আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।
আবেদনে আরও বলা হয়, আসামি এই ঘটনার মূলহোতা। তার নেতৃত্বে অজ্ঞাতনামা সহযোগীদের সহায়তায় দীর্ঘদিন ধরে গোপনে বিপজ্জনক দাহ্য পদার্থ ব্যবহার করে কারখানাটি পরিচালনা করা হচ্ছিলো। এর ফলে এই মর্মান্তিক অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। এতে ৬ জনের প্রাণহানি ও অনেকে গুরুতর আহত হন। আহতদের মধ্যে কয়েকজন ঢাকার বার্ন ইউনিটে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
তদন্ত কর্মকর্তা উল্লেখ করেন, আসামিকে রিমান্ডে নিয়ে ব্যাপক ও নিবিড় জিজ্ঞাসাবাদ করলে ঘটনার মূল রহস্য উদ্ঘাটন, পলাতক ও অজ্ঞাতনামা আসামিদের পরিচয় শনাক্ত এবং তাদের গ্রেপ্তার করা সম্ভব হবে। একইসঙ্গে ঘটনায় ব্যবহৃত বিপজ্জনক দাহ্য পদার্থ উদ্ধারের ক্ষেত্রেও অগ্রগতি আসবে। তাই মামলার সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে আসামির ১০ দিনের পুলিশ রিমান্ড প্রয়োজন বলে আবেদনে উল্লেখ করা হয়।
অপরদিকে আসামিপক্ষের আইনজীবীরা রিমান্ড বাতিল করে জামিনের আবেদন করেন। রাষ্ট্রপক্ষ এর বিরোধিতা করলে উভয়পক্ষের শুনানি শেষে আদালত ৩ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
এর আগে গত ৫ই এপ্রিল দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের কদমতলী এলাকা থেকে ইমান উল্লাহকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরে তাকে আদালতে হাজির করে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মো. রফিকুল ইসলাম ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন করেন। শুনানি শেষে আদালত তাকে কারাগারে পাঠিয়ে রিমান্ড বিষয়ে আদেশের জন্য সোমবার দিন ধার্য করেন। সোমবার শুনানি শেষে ৩ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করা হয়।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ৪ঠা এপ্রিল দুপুরে কেরানীগঞ্জের কদমতলী গোলচত্বর এলাকায় একটি গ্যাসলাইটার কারখানায় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। ফায়ার সার্ভিসের প্রাথমিক তথ্যে ধারণা করা হচ্ছে, মজুত দাহ্য পদার্থ থেকেই আগুনের সূত্রপাত হয়। অভিযোগে বলা হয়, ‘মেসার্স এসার গ্যাস প্রো’ নামে কারখানাটি দীর্ঘ ৮ থেকে ১০ বছর ধরে অবৈধভাবে পরিচালিত হয়ে আসছিল। সেখানে ৫০ থেকে ৬০ জন শ্রমিক, যার মধ্যে নারী ও শিশু ছিল, কাজ করতেন। এ ছাড়া বিভিন্ন সময়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও ভ্রাম্যমাণ আদালত কারখানাটি বন্ধ ও সিলগালা করলেও সংশ্লিষ্টরা গোপনে পুনরায় কার্যক্রম চালু রাখে। স্থানীয় প্রভাব খাটিয়ে জনবহুল এলাকায় বিপজ্জনক দাহ্য পদার্থ ব্যবহার করে উৎপাদন চালানোর অভিযোগও রয়েছে।
মামলায় আরও উল্লেখ করা হয়, একাধিকবার অভিযান চালিয়ে কারখানা বন্ধ করা হলেও অজ্ঞাতনামা কয়েকজনের সহযোগিতায় বাইরে তালা ঝুলিয়ে ভেতরে গোপনে কার্যক্রম চালানো হতো। এতে অবৈধভাবে দাহ্য পদার্থ ব্যবহার ও শিশু শ্রমিক নিয়োগের অভিযোগও উঠে এসেছে।
গ্যাসলাইটার কারখানায় ৬ প্রাণহানি
বিএনপি নেতা ইমান মাস্তান ৩ দিনের রিমান্ডে
স্টাফ রিপোর্টার
অনলাইন
২ মাস আগে
৬ এপ্রিল (সোমবার), ২০২৬, ৮ঃ৫৬ (অপরাহ্ণ)
লিংক কপি হয়েছে!
ফন্ট সাইজ:
100%

জনতা
২ মাস আগেএই যে কারখানা অবৈধ ভাবে কার্যক্রম চালাচ্ছে তা দূর্ঘটনার পূর্বে কেন প্রসাশন বা সাংবাদিক কেউ কেন জানলো না? কোন হাসপাতালে অবহেলায় রোগী মারা গেলে পরে জানা যায় তার লাইসেন্স ছিলনা, কোন মার্কেটে আগুন লাগলে পরে জানা যায় অগ্নি নির্বাপক ব্যবসথা ছিল না। এই দেশ আর ভাল হবে না।