ট্রাইব্যুনাল চাইলে গুম-ক্রসফায়ারের ব্যাপারে সহযোগিতা করবে র‌্যাব: ডিজি

ফন্ট সাইজ:

র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব)-এর নবনিযুক্ত মহাপরিচালক (ডিজি) মো. আহসান হাবিব পলাশ বলেছেন, ট্রাইব্যুনালে চলমান র‌্যাবের গুম-খুনের মামলায় এখন পর্যন্ত কোনো সহায়তা চাওয়া হয়নি। যদি সহায়তা চাওয়া হয় তাহলে ট্রাইব্যুনালকে অবশ্যই র‌্যাবের পক্ষ থেকে সহায়তা করা হবে। এ ছাড়াও যেকোনো বিচারিক কাজে প্রয়োজনীয় সহায়তা করতে সর্বদা প্রস্তুত রয়েছে র‌্যাব। গতকাল রাজধানীর কাওরান বাজারের র‌্যাব মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সাংবাদিকদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় এমনটাই জানিয়েছে পুলিশের এলিট ফোর্সের এই শীর্ষ কর্মকর্তা।
র‌্যাব বিলুপ্তির বিষয়ে দেশি-বিদেশি সংস্থা চাপ দিচ্ছেÑ এমন প্রশ্নের জবাবে ডিজি বলেন, র‌্যাব বিলুপ্তি বা র‌্যাব সংক্রান্ত যেকোনো সিদ্ধান্ত গ্রহণের দায়ভার র‌্যাবের ওপর বর্তায় না। সরকার এই বিষয়গুলো বিবেচনা করবে। আমাদের কর্তব্য হচ্ছে দায়িত্ব পালন করা। আমরা যেহেতু রাষ্ট্রের সুযোগ-সুবিধা ভোগ করছি, সেহেতু আমাদের মূল কাজই হচ্ছে র‌্যাবকে জনগণের সামনে কাজের মাধ্যমে ভালোভাবে প্রতিষ্ঠিত করা। ‘বিগত সময়ে র‌্যাবকে রাজনৈতিকভাবে ব্যবহারের অভিযোগ রয়েছে’- এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, গত দেড় বছরে বর্তমান সরকার ও এর আগের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ের কার্যক্রম যদি পর্যালোচনা করে দেখেন, তাহলে দেখবেন, র‌্যাবের অপকীর্তির ইতিহাস বেশি একটা নেই। এতেই প্রমাণিত হয়, র‌্যাবকে যদি সঠিকভাবে পরিচালনা করা যায়, তাহলে র‌্যাব সঠিকভাবে পরিচালিত হতে পারে। আমি মনে করি, এ ব্যাপারে সরকার চেষ্টা করছে, আমাদের ভালো কাজে সম্পৃক্ত করার জন্য এবং আমি আশা করি র‌্যাব সঠিকভাবে পরিচালিত হবে। এ ব্যাপারে আমরা সরকারের কিছু নির্দেশনাও পেয়েছি।
এ সময় র‌্যাবের বিভিন্ন সাফল্যের তথ্য তুলে ধরে তিনি বলেন, র‌্যাব সৃষ্টিকাল থেকে হত্যাকারী, চাঁদাবাজ, অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী, বিপুল পরিমাণ অবৈধ অস্ত্র গোলাবারুদ, মাদকদ্রব্য উদ্ধার, ছিনতাইকারী, অপহরণ, প্রতারক ও বিভিন্ন সময়ে সংঘটিত চাঞ্চল্যকর এবং আলোচিত অপরাধীদের গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় নিয়ে আসার জন্য কাজ করে যাচ্ছে। র‌্যাব ফোর্সেস গত তিন মাসে অস্ত্র-সংক্রান্ত অভিযান পরিচালনা করে ৩৩১টি অস্ত্রসহ সর্বমোট ১০৪ জনকে গ্রেপ্তার করেছে। সম্প্রতি চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডু থানার জঙ্গল সলিমপুরে অভিযান পরিচালনার সময় সন্ত্রাসীদের হামলায় র‌্যাব সদস্য ডিএডি মোতালেব হোসেন নিহত হয়। এ ছাড়াও গত ৯০ দিনে হত্যা সংক্রান্ত মামলায় ৪৮৪ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গত তিন মাসে দেশের বিভিন্ন স্থানে সংঘটিত ধর্ষণের ঘটনায় অভিযুক্ত ১৭৫ জন, ছিনতাইকারী ৬১ জন, ডাকাত ১০৬ জন, মানব পাচারকারী ২৬ জনসহ ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি এবং পর্নোগ্রাফি মামলায় ৩ হাজার ৪৭৩ জন আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। মাদকবিরোধী অভিযানে ১ হাজার ১১৫ জন আসামিকে গ্রেপ্তার করে সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করেছে র‌্যাব। এ ছাড়াও গত জানুয়ারি থেকে মার্চ পর্যন্ত বিভিন্ন অপরাধের সঙ্গে সম্পৃক্ত আরও প্রায় সাড়ে ৩ হাজার জনকে আটক করে আইনের আওতায় নিয়ে এসেছে র‌্যাব। এ সময় আইনের শাসন সমুন্নত রাখা, মানবাধিকার রক্ষা, সকল নাগরিকের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করা, অপরাধ চিহ্নিত ও প্রতিরোধ করা এবং অপরাধীকে আইনের আওতায় নিয়ে আসার ক্ষেত্রে ভবিষ্যতে র‌্যাব আরও দৃঢ়ভাবে কার্যক্রম পরিচালনা করবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন- র‌্যাবের অতিরিক্ত মহাপরিচালক ইফতেখার আহমেদ, র‌্যাবের আইন ও গণমাধ্যম বিভাগের পরিচালক কমান্ডার উইং কমান্ডার এম জেড এম ইন্তেখাব চৌধুরী।

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন