পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনে কংগ্রেস এবার এককভাবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে। সাম্প্রতিক অতীতে কংগ্রেস পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচনে বামফ্রন্টের সঙ্গে আসন সমঝোতার ভিত্তিতে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে সাফল্য না পাওয়ায় এবার দলগতভাবে সিদ্ধান্ত নিয়েছে এককভাবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার। আর তিন দশক পর আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে ফিরেছেন কংগ্রেসের প্রবীণ নেতা অধীর রঞ্জন চৌধুরী। বেশ কয়েক বছর পশ্চিমবঙ্গ প্রদেশ কংগ্রেসের সভাপতির দায়িত্ব পালন করলেও গত তিন দশক জাতীয় রাজনীতিতেই তিনি সক্রিয় ছিলেন। লোকসভার সাবেক কংগ্রেস নেতা এবং পাঁচবারের সাংসদ বয়সী চৌধুরী এবার নিজ এলাকা বহরমপুর থেকে দলের প্রার্থী। তিনি জানিয়েছেন, পশ্চিমবঙ্গে তার দল দুর্বল হওয়ায় নেতৃত্ব তাকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে বলায় তিনি লড়াইয়ে সামিল হয়েছেন।ইতিমধ্যেই তিনি প্রচারও শুরু করে দিয়েছেন। নির্বাচনে কংগ্রেসের সম্ভাবনা সম্পর্কে গণমাধ্যমে দেওয়া সাক্ষাৎকারে অধীর স্পষ্ট করে বলেছেন, কংগ্রেসের পক্ষে
খুব কঠিন লড়াই। কারণ ক্ষমতা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাতেই রয়েছে। কংগ্রেসের সহায়তায় মমতা বাংলায় ক্ষমতায় আসেন। তারপর তিনি যেভাবেই হোক কংগ্রেসকে ধ্বংস করতে শুরু করেন। কালক্রমে পশ্চিমবঙ্গে ধর্মনিরপেক্ষ শক্তিগুলি দুর্বল হয়ে পড়ে। এই রাজনৈতিক পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে বিজেপি সেই শূন্যস্থান পূরণ করে। আর কংগ্রেস ও বামেরা ধীরে ধীরে নিজেদের অবস্থান হারায়।
ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন তথা এসআইআর নিয়ে প্রবীণ এই কংগ্রেস নেতা বলেছেন, নির্বাচন কমিশন এবং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার গণতন্ত্রের সঙ্গে যে উপহাস করছে, তা এসআইআর বিতর্কেরই নামান্তর। প্রয়োজনে সমস্ত প্রকৃত ভোটারকে ভোট দেওয়ার সুযোগ না দেওয়া পর্যন্ত নির্বাচন স্থগিত রাখার কথা বলেছেন তিনি।
নির্বাচনে মুসলিমরা কি ভূমিকা নেবেন সেই প্রসঙ্গে অধীর বলেছেন, রাজ্যের মুসলিম সম্প্রদায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সরকারের ওপর থেকে মোহমুক্ত হয়ে পড়ছে। শুধু বাঙালি অভিবাসী ইস্যুই নয়, ওয়াকফ ইস্যুও রয়েছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছ থেকে মুসলিমদের প্রত্যাশা ধূলিসাৎ হয়ে গেছে। আরেকটি বিষয় হলো এসআইআর ।
তিনি বলেছেন, মুসলিম গোষ্ঠী সবসময় কৌশলগতভাবে ভোট দেয়। যখনই তারা আশঙ্কা করে যে ভোট বিভাজনের ফলে বিজেপি জিততে পারে, তখনই তারা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পক্ষে ভোট দেয়। কংগ্রেসের কোনো উপস্থিতি নেই। কিন্তু যখনই তারা দেখে যে কংগ্রেস (কিছু নির্দিষ্ট আসনে) জিততে সক্ষম, তখন তারা আমাদেরও ভোট দেয়। জয়ের সম্ভাবvনার ওপর নির্ভর করে মুসলমানরা হয় তৃণমূল কংগ্রেস অথবা কংগ্রেসকে ভোট দেবে।
পশ্চিমবঙ্গে মুসলিমরা যে দলের জয়ের সম্ভাবনা তাদেরই ভোট দেবেন : কংগ্রেস নেতা অধীর চৌধুরী
পরিতোষ পাল, কলকাতা
ভারত
৩ মাস আগে
৫ এপ্রিল (রবিবার), ২০২৬, ২ঃ৩৩ (অপরাহ্ণ)
লিংক কপি হয়েছে!
ফন্ট সাইজ:
100%
