পাকশী রেলে ৯ বছর ধরে পদোন্নতি বন্ধ, কর্মীদের ক্ষোভ

ফন্ট সাইজ:

পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ের পাকশী বিভাগীয় যান্ত্রিক শাখায় যন্ত্রাংশ সংযোজনকারী কর্মীদের পদোন্নতি দীর্ঘ ৯ বছর ধরে বন্ধ রয়েছে। পদোন্নতি প্রক্রিয়া আটকে থাকায় প্রায় দেড় হাজার কর্মী তাদের ন্যায্য পাওনা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। দীর্ঘদিন একই পদে আটকে থেকে অনেক কর্মী ইতিমধ্যে অবসরে গেছেন, আবার অনেকে অসুস্থ হয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। এ নিয়ে সাধারণ কর্মীদের মধ্যে চরম অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। রেলওয়ের বিভাগীয় সূত্র জানায়, পাকশী বিভাগের আওতাধীন ঈশ্বরদী, পার্বতীপুর, খুলনা, রাজশাহী, সৈয়দপুর ও লালমনিরহাটসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্টেশনের কর্মীরা এই সংকটে পড়েছেন। ২০১৬ সাল থেকে এই বিভাগে পদোন্নতি প্রক্রিয়া পুরোপুরি বন্ধ হয়ে আছে। অভিযোগ উঠেছে, পদোন্নতি বন্ধ থাকায় কারিগরি ও মিস্ত্রি পর্যায়ের ১৩টি উচ্চতর পদের মধ্যে ১২টিই এখন খালি। বর্তমানে মাত্র একজন কর্মী এসব পদে কাজ করছেন। তিনি অবসরে গেলে কারিগরি এই বিভাগটি পুরোপুরি নেতৃত্বহীন হয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা মনে করছেন, নিয়মিত পদোন্নতি চালু থাকলে নিচের পদগুলোতেও নতুন জনবল নিয়োগের সুযোগ তৈরি হতো। ভুক্তভোগীরা জানান, গত কয়েক বছর ধরে ফটক সভা, গণস্বাক্ষর সংগ্রহ, মানববন্ধন ও কর্মবিরতি পালন করা হলেও রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের টনক নড়েনি। ঈশ্বরদী লোকোমোটিভের ইঞ্জিন কারখানা কর্মী সজিব খান বলেন, ২০১৬ সাল থেকে আমাদের পদোন্নতি আটকে আছে। বারবার দাবি জানিয়েও কোনো সমাধান পাচ্ছি না। আরেক কর্মী মো. জয়নাল আবেদীন হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, আমরা কাজের আগ্রহ হারিয়ে ফেলছি। দাবি মানা না হলে ভবিষ্যতে দুর্ঘটনাজনিত পরিস্থিতিতে উদ্ধারকারী ট্রেনের কাজ থেকেও আমরা বিরত থাকতে বাধ্য হবো। এতে ট্রেন চলাচল অচল হয়ে পড়তে পারে। সার্বিক বিষয়ে পাকশী বিভাগীয় রেলওয়ে ব্যবস্থাপক লিয়াকত শরীফ খান বলেন, পদোন্নতির বিষয়টি পুরোপুরি রেল মন্ত্রণালয় ও মহাপরিচালকের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করছে। স্থানীয় পর্যায়ে তাদের এ বিষয়ে বিশেষ কিছু করার নেই। অন্যদিকে, রেলওয়ের মহাপরিচালক আফজাল হোসেন মুঠোফোনে জানান, পশ্চিমাঞ্চল রেলের যান্ত্রিক বিভাগের কর্মীদের লিখিত অভিযোগ তারা পেয়েছেন। বিষয়টি বর্তমানে বিবেচনাধীন রয়েছে। তবে এখনো চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত নেয়া হয়নি।

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন