‘যারা গুম ও খুন করে মায়ের কোল খালি করেছে, বাংলার মাটিতেই তাদের বিচার করা হবে’

‘যারা গুম ও খুন করে মায়ের কোল খালি করেছে, বাংলার মাটিতেই তাদের বিচার করা হবে’

ফন্ট সাইজ:

খুলনায় বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলে গুম, খুন, নির্যাতনের শিকার হওয়া এবং অসুস্থ ও দুস্থ পরিবারের সদস্যদের মাঝে আর্থিক সহায়তার চেক বিতরণ করা হয়েছে। শনিবার দুপুর ১২টায় হোটেল ওয়েস্টার্ন ইন-এ শহীদ ও নির্যাতিত পরিবারের মাঝে খুলনা জেলা পরিষদের প্রশাসক ও জেলা বিএনপি’র সদস্য সচিব (ভারপ্রাপ্ত) এস এম মনিরুল হাসান বাপ্পীর সভাপতিত্বে এবং প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মমিনুর রহমানের পরিচালনায় চেক বিতরণের আয়োজন করা হয়। এ সময় অনুষ্ঠানে শহীদ ও আহত পরিবারের সদস্যদের প্রতি দেশনায়ক তারেক রহমানের পক্ষ থেকে গভীর সমবেদনা জানান অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি খুলনা-৩ আসনের সংসদ সদস্য ও জাতীয় সংসদের হুইপ রকিবুল ইসলাম বকুল। তিনি বলেন, গত ১৭ বছর ধরে সারা দেশে যে গুম ও খুনের সংস্কৃতি কায়েম করা হয়েছিল, তার একমাত্র উদ্দেশ্য ছিল মানুষের কণ্ঠস্বর স্তব্ধ করে দেয়া। দীর্ঘ দুঃশাসনের অবসান ঘটিয়ে আজ যে মুক্তির নিঃশ্বাস মানুষ নিচ্ছে, তা অর্জিত হয়েছে অসংখ্য ভাইবোনের রক্ত আর স্বজনদের চোখের জলের বিনিময়ে। খুলনা মহানগর ও জেলার মোট ৭৩টি পরিবারের হাতে এই সহায়তার চেক তুলে দেয়া হয়, যার মধ্যে ২৩টি শহীদ পরিবার এবং ৫০টি নির্যাতনে আহত ও অসুস্থ পরিবার রয়েছে। বক্তব্যে প্রধান অতিথি স্পষ্ট করে বলেন, জেলা পরিষদের পক্ষ থেকে এই সহায়তা কোনো দয়া বা করুণা নয়, বরং এটি ভুক্তভোগী পরিবারগুলোর ন্যায্য অধিকার। তিনি ঘোষণা করেন যে, যারা সন্তানদের গুম করেছে এবং মায়ের কোল খালি করেছে, তাদের প্রত্যেককে আইনের আওতায় আনা হবে এবং বাংলার মাটিতেই প্রতিটি খুনের বিচার নিশ্চিত করা হবে। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, বিগত সরকার ক্ষমতা টিকিয়ে রাখতে প্রতিটি সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানকে ধ্বংস করেছিল এবং জেলা পরিষদকে লুটপাটের আখড়ায় পরিণত করেছিল। আজ সেই কলঙ্ক মুছে জেলা পরিষদ যখন জনগণের কল্যাণে ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে দাঁড়াচ্ছে, তখন গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানের গৌরব পুনরায় ফিরে আসছে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। অনুষ্ঠানে বক্তারা এই মানবিক উদ্যোগের জন্য জেলা পরিষদ কর্তৃপক্ষকে ধন্যবাদ জানান এবং ভবিষ্যতে একটি বৈষম্যহীন নতুন বাংলাদেশ গড়তে শহীদ ও নির্যাতিত পরিবারের পাশে থাকার দৃঢ় অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন। উল্লেখ্য, ২৩ জন শহীদ পরিবার ও ৫০ জন নির্যাতিত পরিবার সহ মোট ৭৩ জনের মাঝে ৭ লাখ ৩৬ হাজার টাকা জেলা পরিষদের কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে প্রধান অতিথি শহীদ পরিবার ও নির্যাতিত পরিবারের হাতে চেক তুলে দেন।

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন