কুষ্টিয়ায় হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হওয়া আরও দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে। গত শুক্রবার রাতে পৃথক দুই হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শিশু দু’টি মারা যায়। এ নিয়ে জেলায় হাম উপসর্গ নিয়ে এখন পর্যন্ত মোট চার শিশুর মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য বিভাগ। গত শুক্রবার রাত ১২টার দিকে কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে হামের উপসর্গ নিয়ে আইজা নামের সাড়ে ৫ মাস বয়সী এক কন্যাশিশু মারা যায়। শিশুটি কুষ্টিয়া শহরের রেনউক মোড় এলাকার মমিনের মেয়ে। গত ৩০শে মার্চ হামের উপসর্গ নিয়ে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের উপ-পরিচালক ডা. এ এইচ এম আনোয়ারুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, চারদিন ধরে শিশুটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিল। ভর্তির সময় থেকেই শিশুটির আইসিইউ সাপোর্টের প্রয়োজন ছিল। এর আগে রাত সাড়ে ১১টার দিকে কুষ্টিয়া ২৫০ শয্যার জেনারেল হাসপাতালে মারা যায় ইব্রাহিম নামে ৮ মাস বয়সী আরেক শিশু। ইব্রাহিমের বাড়ি কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলায়। গত শুক্রবার বিকাল ৩টার দিকে হামের উপসর্গ নিয়ে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে রাত সাড়ে ১১টার দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সে মারা যায়। স্বাস্থ্য বিভাগ সূত্র জানায়, এর আগে শুক্রবার ভোরে আফরান নামে ৮ মাস বয়সী আরও একটি শিশু কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে হামের উপসর্গ নিয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায়। এ ছাড়া তিন মাস আগে হামের উপসর্গ নিয়ে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে আরও এক শিশুর মৃত্যু হয়েছিল। এ নিয়ে জেলায় হাম উপসর্গে আক্রান্ত হয়ে মোট চার শিশুর মৃত্যু হয়েছে। সিভিল সার্জন অফিসের তথ্য অনুযায়ী, জেলায় এ পর্যন্ত ৩০০-এর বেশি শিশু হামের উপসর্গ নিয়ে বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। এর মধ্যে ৭৫ জন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে। বর্তমানে বিভিন্ন হাসপাতালে সর্বশেষ ১৩০ জন শিশু হামের উপসর্গ নিয়ে চিকিৎসাধীন রয়েছে। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, হাসপাতালে হামের রোগীদের জন্য আলাদা কর্নার করা হয়েছে। তবে রোগীর চাপ বেড়ে যাওয়ায় অনেককে সাধারণ শিশু ওয়ার্ডেও চিকিৎসা নিতে হচ্ছে। এতে শয্যা সংকট দেখা দিয়েছে। এ বিষয়ে কুষ্টিয়ার সিভিল সার্জন শেখ মোহাম্মদ কামাল হোসেন বলেন- হামের টিকা পর্যাপ্তভাবে পাওয়া যায়নি। সংক্রমণ প্রতিরোধে সচেতনতার ঘাটতি রয়েছে। পাশাপাশি বাইরের জেলায় কাজ করা মানুষজন বাড়ি ফেরায় সংক্রমণ বাড়ছে। আক্রান্ত শিশুদের জন্য সব হাসপাতালে আলাদা হাম আইসোলেশন কর্নার খোলা হয়েছে। টিকা হাতে পাওয়া মাত্র দ্রুত টিকাদান কার্যক্রম শুরু করা হবে। হামের সংক্রমণ বাড়তে থাকায় জেলার স্বাস্থ্য পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। চিকিৎসকরা শিশুদের দ্রুত টিকাদান এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন।
কুষ্টিয়ায় হামের উপসর্গ নিয়ে এক রাতে দুই শিশুর মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি শতাধিক
কুষ্টিয়া প্রতিনিধি
৫ এপ্রিল (রবিবার), ২০২৬
লিংক কপি হয়েছে!
ফন্ট সাইজ:
100%
