ফরিদপুরের সদরপুরে তীব্র ডিজেল সংকটে স্থানীয় ফিলিং স্টেশনগুলোতে তেল সরবরাহ প্রায় বন্ধ। ফলে বোরো আবাদে ভরা মৌসুমে সময়মতো জমিতে সেচ দিতে পারছেন না চাষিরা। পানির অভাবে শুকিয়ে যাচ্ছে মাঠ, যার ফলে বোরো ধানের কাঙ্ক্ষিত ফলন নিয়ে কৃষকদের কপালে এখন চিন্তার ভাঁজ। সরজমিন দেখা গেছে, উপজেলার সদরপুর ও বাইশরশি (২২ রশি) এলাকায় মাত্র দু’টি তেলের পাম্প রয়েছে। এর মধ্যে জাকের ফিলিং স্টেশনটিতে কোনো তেল মজুত না থাকায় সেটি সম্পূর্ণ বন্ধ রয়েছে। অন্যদিকে, সদরপুর ফিলিং স্টেশনে সামান্য তেল থাকলেও সেখানে যানবাহন ও কৃষকদের উপচে পড়া ভিড়। লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা ট্রাক্টর চালক মতি মিয়া জানান, সেচ কাজের জন্য তেল নিতে লাইনে দাঁড়িয়ে আছি। ডিজেল না পেলে সেচ দেয়া যাবে না। কৃষকদের অভিযোগ, তারা পাম্পে ৫ লিটারের ক্যান বা বোতল নিয়ে গেলে ডিজেল দেয়া হচ্ছে না। আবার খুচরা দোকানে বাড়তি দাম দিয়েও মিলছে না কাঙ্ক্ষিত তেল। একই সংকটের কথা জানালেন আরেক কৃষক জাফর শেখ। তিনি বলেন, ৩ বিঘা জমিতে ব্রি-৮৯ আবাদ করেছি। সময়মতো সেচ ও সার দিতে পারলে বিঘায় ৩০ থেকে ৩৫ মণ ফলন হতো। এখন যে অবস্থা, তাতে ফলন কমে বিঘায় ২০ থেকে ২৫ মণে নামতে পারে। উপজেলা কৃষি কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলায় প্রায় ১ হাজার ২০০টি সেচ পাম্প রয়েছে। এসব পাম্প সচল রাখতে প্রতিদিন গড়ে অন্তত ৩ হাজার লিটার ডিজেলের প্রয়োজন হয়। অথচ বর্তমান পরিস্থিতিতে পাম্পগুলোর তথ্য অনুযায়ী, বুধবার পর্যন্ত মোট ডিজেল মজুত আছে মাত্র ১ হাজার ১৫৮ লিটার, যা দৈনিক চাহিদার অর্ধেকেরও কম। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা নীটুল রায় জানান, এখন বোরো ধানের থোড় আসার মোক্ষম সময়। এই মুহূর্তে সেচ ব্যবস্থা স্বাভাবিক রাখতে না পারলে উৎপাদন মারাত্মকভাবে কমে যাবে। বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও)কে অবগত করা হয়েছে।
সদরপুরে ডিজেল সংকটে সেচ ব্যাহত, বোরো ফলন নিয়ে দুশ্চিন্তায় কৃষক
সদরপুর (ফরিদপুর) প্রতিনিধি
৫ এপ্রিল (রবিবার), ২০২৬
লিংক কপি হয়েছে!
ফন্ট সাইজ:
100%
