শায়েস্তাগঞ্জের সুতাং নদী মরছে নীরবে-নিভৃতে

শায়েস্তাগঞ্জের সুতাং নদী মরছে নীরবে-নিভৃতে

ফন্ট সাইজ:

হবিগঞ্জের শায়েস্তাগঞ্জ উপজেলার সুতাং নদী মরছে নীরবে-নিভৃতে আর অবহেলায়। নদী না থাকলে অর্থনীতি, পরিবেশ এবং জনজীবন সবই বিপন্ন হয়। সুতাং নদী দীর্ঘদিন অর্থাৎ ৫-৬ যুগ ধরে কোনো খনন অথবা ড্রেজিং ছাড়া ভরাট হয়ে গেছে। উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল এবং পলি জমে নদীর তলদেশ উঁচু হয়ে গেছে। ফলে সুতাং নদী তার প্রাকৃতিক স্রোত হারিয়ে মরা খালের মতো শাখায় বিভক্ত হয়ে গেছে, অবস্থাদৃষ্টে পরিলক্ষিত হচ্ছে। উক্ত নদী দিয়ে নিয়মিত নৌচলাচল হতো দেশের দূরবর্তী বিভিন্ন স্থানে কিন্তু এখন নদীটি মরে গিয়ে নাব্য হারিয়ে সংকটে পড়ে নৌপথ বন্ধ হয়ে গেছে। বর্ষাকালে কিছু নৌচলাচল করলেও মাত্র ১-২ মাস। তারপর আবার যেই সেই মরা নদীতে পরিণত হয়ে যায়। জেলেরা পেশা হারাচ্ছেন। নৌ-শ্রমিকরা নৌকা বিক্রি করে দিচ্ছেন আর কেউ কেউ অন্য বিকল্প পেশায় নিয়োজিত হচ্ছেন। সুতাং নদীর উপর নির্ভরশীল একটি অর্থনৈতিক পরিমণ্ডল ধীরে ধীরে ধ্বংসের দিকে চলে যাচ্ছে। ফলে বোঝা যায় বড় বড় নদ-নদী দৃশ্যমান অবকাঠামো দিয়ে উন্নয়ন কার্যকর হয় না। সমস্যা হচ্ছে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার অভাব। অন্যদিকে নদী ভাঙন রোধ হচ্ছে না সুতাং নদীর। তার ওপর আবার অলিপুর শিল্পনগরীর পানি দূষণ, হাট-বাজার এবং হাঁস-মোরগ ফার্মের বর্জ্যের বিষাক্ত বিষে সুতাং নদী মরছে। তাই মরা সুতাং নদীকে অর্থবহ করে তোলা জরুরি। অন্যথায় নদী শুধু প্রতীক হয়ে থাকে কিন্তু কোনো বাস্তবমুখী সুফল বয়ে আনে না। এখন সময় এসেছে সুতাং নদীসহ হবিগঞ্জ জেলার সবক’টি নদ-নদীকে বাঁচানোর পরিকল্পনাকে বাস্তবমুখী করার এইতো সময়। প্রকৃত অর্থে জনমুখী উন্নয়নের পথে এগোনোর। নয়তো নদীমাতৃক দেশ বলা কঠিন হয়ে পড়বে।

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন