আর কিছুদিন বাদে ঘরে উঠবে বোরো ফসল। এ বছর ফসলের বাম্পার ফলন হলেও শেষ সময়ে এসে চাষিদের মাথায় হাত। হঠাৎ করে ফসলে পাতাপোড়া রোগ দেখা দেয়ায় এতে ফলন ঘাটতির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। বাগেরহাটের চিতলমারী উপজেলার বিভিন্ন রোরো ফসলের জমিতে এমনই পাতাপোড়া রোগের প্রাদুর্ভাব দেখা দেয়ায় চাষিদের মধ্যে চরম হতাশা বিরাজ করছে। স্থানীয় চাষি ও কৃষি অফিসের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, চলতি বোরো মৌসুমে এলাকায় ১২ হাজার ১৫৫ হেক্টর জমিতে বোরো ধানের আবাদ করা হয়েছে। এর মধ্যে উচ্চ ফলনশীল জাতের হীরা-২, হীরা-৯, আলোরন, সাথী, ইস্পাহানি-২, ইস্পাহানি-৭সহ অসংখ্য জাতের ধান চাষ করা হয়েছে। পাশাপাশি কিছু দেশীয় জাতও রয়েছে। এলাকায় চিংড়ি চাষ করার ফলে অধিকাংশ ঘেরের জমিতে এসব জাতের রোরো ধানের চাষ হয়েছে। কৃষিপ্রধান এ অঞ্চলের চাষিরা সবসময়ই আগাম ফসল চাষাবাদে তৎপর থাকেন। চিংড়ি ঘেরের পাড়ে শসা, করোলা, টমেটো চাষের পাশাপাশি জমিতে বছরে একবার বোরো ফসল চাষ করা হয়। এতে চাষিদের বছরের খোরাক ঘরে আসে। কিন্তু এ বছর হঠাৎ করে তাদের ফসলে পাতাপোড়া রোগ দেখা দেয়ায় চাষিদের কপালে চিন্তার ভাঁজ পড়েছে। পাশাপাশি চরম আকারে ইঁদুরের উপদ্রব ও আবহাওয়া টালমাটাল থাকায় ভালোয় ভালোয় তারা ফসল ঘরে তুলতে পারবেন কিনা সে বিষয়ে দিশাহারা। উপজেলার শ্যামপাড়া গ্রামের বোরো চাষি নির্মল মণ্ডল জানান, তার জমিতে ব্যাপকভাবে এই পাতাপোড়া রোগ দেখা দিয়েছে। এ ছাড়া শ্যামপাড়া মাঠের চাষি মধাব বৈরাগি, অসিম মণ্ডল, শুধাংশু মণ্ডসহ অনেকের জমিতে এ রোগ দেখা দেয়ায় তারা এটির কোনো প্রতিকার করতে পারছেন না বলেও জানান তিনি। উপজেলার দুর্গাপুর মাঠের চাষি প্রতুল হালদার জানান, কয়েকদিন আগে এখান থেকে ঝড়ো বাতাস বয়ে গেছে। সে বাতাসে এমন পাতাপোড়া রোগের সৃষ্টি হয়েছে বলে ধারণা করছেন। উপজেলা কৃষি অফিসার সিফাত আল মারুফ জানান, কয়েকদিন আগে ঝড়ো বাতাসের কারণে এমনটি হয়েছে। জমিতে পটাশ সার ব্যবহার করে এটি দূর করা সম্ভব। এ ছাড়া এই পাতাপোড়া রোগে ফলনে ঘাটতি হবে না বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
চিতলমারীতে পাতাপোড়া রোগে বোরো ফসলের ক্ষতির আশঙ্কা
চিতলমারী (বাগেরহাট) প্রতিনিধি
৫ এপ্রিল (রবিবার), ২০২৬
লিংক কপি হয়েছে!
ফন্ট সাইজ:
100%
