ফেনীতে ধানের শীষে ভোট দেয়ায় গৃহবধূকে তালাক

ফন্ট সাইজ:

ফেনীতে স্বামীর নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে ধানের শীষে ভোট দেয়ার অপরাধে বিবি জহুরা নামে এক গৃহবধূকে তালাক দিয়েছে স্বেচ্ছাসেবক লীগের এক নেতা। গতকাল সন্ধ্যায় ফেনী সদর উপজেলার ধর্মপুর বাঁশতলা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় জনতার তোপের মুখে পালিয়ে গেছে ফেনী সদর উপজেলার ধর্মপুর ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ড স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি ইসমাইল হোসেন কাওসার। ঘটনার পরপর স্থানীয় লোকজন কাওসারকে মারধর করে আটক রাখে। স্ত্রীকে দেয়া মৌখিক তালাক ফিরিয়ে নিবে এমন কথা বলে কৌশলে পালিয়ে যায় সে। কাওসার ওই এলাকার মৃত ইউসুফ হাজারীর ছেলে। এ ঘটনার পর বিবি জহুরাকে ঘিরে এলাকায় নারী পুরুষের ভিড় চলছে। এলাকাবাসী জানায়, বুধবার বিকালে জহুরাকে ভোটকেন্দ্রে না যাওয়ার জন্য বলে তার স্বামী। কিন্তু জহুরা প্রথমবার ভোটার হওয়ায় উৎসাহের সঙ্গে তিন সন্তানকে নিয়ে কেন্দ্রে গিয়ে ভোট দেন সকাল সাড়ে ৯টায়। তখন কাওসার ঘুমে ছিলেন। বিকালে ঘুম থেকে উঠে কারও থেকে জানতে পারেন তার স্ত্রী ভোট দিতে কেন্দ্রে গেছেন। এখবর শুনে মাগরিবের সময় স্ত্রীকে জিজ্ঞাস করেন ভোটের বিষয়ে।

জহুরা তার জীবনের প্রথম ভোট ধানের শীষে দেয়ার কথা জানান। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে বাড়ির পাশের রাস্তায় জহুরাকে মৌখিক তিন তালাক দেন কাওসার। এ সময় স্ত্রীকে তার ঘরে যেতে বারণ করেন। আশপাশের লোকজন এ নিয়ে ক্ষোভ জানিয়ে কাওসারকে আটক করে উত্তমমধ্যম দিয়ে আটক করে রাখে। একপর্যায়ে জনসমাগম বাড়তে থাকলে বাড়ি যাওয়ার কথা বলে কাওসার কৌশলে পালিয়ে যান। ২০১৩ সালে ফেনী সদর উপজেলার মধুয়াবাজার এলাকার নুর আহম্মদের মেয়ে বিবি জহুরার সঙ্গে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন কাওসার। এর মধ্যে তাদের সংসারে আবদুল আলিম শুভ (১২), সাবিনা আফরিস ইভানা (৮), ইসরাত জাহান ইসমাত (৪) নামে তিন সন্তান জন্ম নেয়। পিতার পরিবার অসচ্ছল হওয়ায় সন্তানদের কথা বিবেচনা করে স্ত্রী অন্যের বাড়িতে কাজ করে সংসার চালান। কাওসার ফেনী শহরের রেলগেট এলাকায় বেডিং কারিগর হিসেবে নিয়োজিত ছিলেন। তবে আওয়ামী লীগ ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর সে অনেকটা ঘরে আবদ্ধ থাকতেন।

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন