যা থাকছে পাবলিক পরীক্ষায় সংশোধিত আইনের খসড়ায়

ফন্ট সাইজ:

‘পাবলিক এক্সামিনেশন অফেন্সেস অ্যামেন্ডমেন্ট অ্যাক্ট’ বা পাবলিক পরীক্ষা (অপরাধ) আইন-১৯৮০’র সংশোধনী অনুমোদিত হয়েছে। নতুন সংশোধনী অনুযায়ী পাবলিক পরীক্ষায় নকল বা অন্যান্য অপরাধের বিচার আরও কঠোর করার ব্যবস্থা নেয়া হবে। বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত মন্ত্রিপরিষদ বৈঠকের সচিব নাসিমুল গনি সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান। আইনের খসড়ায় ১৯টি পয়েন্ট রয়েছে- পরীক্ষা না হওয়া সত্ত্বেও কেউ যদি অন্যের হয়ে পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে তাহলে দুই বছরের কারাদণ্ড ও জরিমানা কিংবা উভয়দণ্ডে দণ্ডিত হবেন। পরীক্ষা শুরু হওয়ার পূর্বে প্রশ্ন ফাঁস, প্রকাশ বা বিতরণ করলে চার বছরের কারাদণ্ড ও জরিমানা কিংবা উভয়দণ্ডে দণ্ডিত হবেন। কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া কেউ পরীক্ষা সংক্রান্ত কোনো কিছু (এডমিড কার্ড, মার্কসিট, সার্টিফিকেট ইত্যাদি) বদল বা পরিবর্তন করলে চার বছরের কারাদণ্ড ও জরিমানা কিংবা উভয়দণ্ডে দণ্ডিত হবেন। পাবলিক পরীক্ষা সংক্রান্ত অপূরণকৃত ফর্ম বোর্ড বা বিশ্ববিদ্যালয়ে সময়মতো জমা না দিয়ে কাছে রাখলে দুই বছরের কারাদণ্ড ও জরিমানা কিংবা উভয়দণ্ডে দণ্ডিত হবেন। পাবলিক পরীক্ষা সংক্রান্ত উত্তরপত্রের পরিবর্তে অন্য কোনো উত্তরপত্র বা অতিরিক্ত খালি পৃষ্ঠা সংযোজন করলে দুই বছরের কারাদণ্ড ও জরিমানা বা উভয়দণ্ডে দণ্ডিত হবেন।
খসড়ায় আরও রয়েছে, পাবলিক পরীক্ষায় কোনো পরীক্ষার্থীকে নকলে সাহায্য করলে দুই বছরের কারাদণ্ড ও জরিমানা কিংবা উভয়দণ্ডে দণ্ডিত হবেন। অননুমোদিত ব্যক্তি পরীক্ষা পরীক্ষা পরিচালনা বা উত্তরপত্র পরীক্ষা করলে দুই বছরের কারাদণ্ড ও জরিমানা বা উভয়দণ্ডে দণ্ডিত হবেন। বোর্ড বা বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনো ব্যক্তি পরীক্ষা সংক্রান্ত কোনো কর্তব্য ও দায়িত্বে নিয়োজিত থাকার পরও এই আইনের অধীনে কোনো অপরাধ করলে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড ও জরিমানা বা উভয়দণ্ডে দণ্ডিত হবেন। কোনো শিক্ষক বা ইনভিজিলেটর যদি পরীক্ষার হলে অসদুপায় অবলম্বন করে তার দুই বছরের কারাদণ্ড ও জরিমানা বা উভয়দণ্ডে দণ্ডিত হবেন। কোনো পরীক্ষক যদি উত্তরপত্র মূল্যায়নে অধিক নম্বর বা কম নম্বর দেন তবে তার দুই বছরের কারাদণ্ড ও জরিমানা বা উভয়দণ্ডে দণ্ডিত হবেন। পরীক্ষা সংক্রান্ত অপরাধসমূহে লিপ্ত ব্যক্তিকে বিনা পরোয়ানায় গ্রেপ্তার করা হবে। মেট্রোপলিটন বা প্রথম শ্রেণির ম্যাজিস্ট্রেট ও অপরাধের বিচার কাজ করবেন। আদালত এই আইনের অধীন কোনো অপরাধের বিচার সংক্ষিপ্তভাবে করবেন।
আইনের খসড়াটিতে আরও রয়েছে, পরীক্ষার হলে মন্ত্রী, সংসদ সদস্য ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা ছাড়া আর কেউ প্রবেশ করতে পারবেন না। এছাড়াও ডিজিটাল ডিভাইসের মাধ্যমে প্রশ্নফাঁস বা পরীক্ষায় জালিয়াতি পাঁচ বছরের শাস্তিযোগ্য অপরাধ। প্রতিষ্ঠান হিসেবে সেবা প্রদানকারী স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয় পরীক্ষায় জালিয়াতির সঙ্গে জড়িত থাকলে এক কোটি টাকা পর্যন্ত অর্থদণ্ডে দণ্ডিত হবে। কোনো সংঘবদ্ধ চক্র পরীক্ষায় প্রশ্ন ফাঁস বা জালিয়াতি করার জন্য চুক্তিবদ্ধ হলে দশ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ডে দণ্ডিত হবে এবং সংঘবদ্ধ পরীক্ষা সংক্রান্ত অপরাধের বিষয়ে বিশেষ ট্রাইবুন্যালে বিচার করা হবে।
বিএনপি সরকার পাবলিক পরীক্ষায় কঠোর হওয়ার বার্তা দিয়েছে। ইতিমধ্যে আসন্ন এসএসসি-এইচএসসি পরীক্ষা বিষয়ে কেন্দ্রসচিবদের নির্দেশনা পাঠানো হয়েছে। ৩১ দফা বিষদ নির্দেশনার মধ্যে উল্লেখযোগ্য- পরীক্ষা শুরুর আগে প্রশ্নপত্র ট্রেজারিতে যাচাই করতে হবে। প্রশ্নপত্র তারিখ ও সেট অনুযায়ী আলাদা করে সিকিউরিটি খামে প্যাক করতে হবে। পরীক্ষার দিন পুলিশ ও ট্যাগ অফিসারের মাধ্যমে নিরাপত্তায় কেন্দ্রে আনতে হবে। মোবাইলে সেট কোড পাওয়ার পরই সঠিক সেট খুলতে হবে। ভুল সেটে পরীক্ষা নিলে শাস্তি হবে।
কেন্দ্রসচিব ছাড়া কেউ মোবাইল বা ইলেকট্রনিক ডিভাইস নিতে পারবে না। ছবি তোলা যায় না এমন মোবাইল কেন্দ্রসচিব ব্যবহার করতে পারবেন। পরীক্ষা শুরুর পর টয়লেট তল্লাশি করে নকলের জিনিস সরাতে হবে। প্রতি ২০ জনে ১ জন কক্ষ পরিদর্শক, প্রতিকক্ষে কমপক্ষে ২ জন। বেঞ্চ অনুযায়ী বসার নিয়ম নির্ধারিত (বড় বেঞ্চে ২ জন, ছোট বেঞ্চে ১ জন), ৩০ মিনিট আগে পরীক্ষার্থীদের কেন্দ্রে ঢুকতে হবে। দেরিতে এলে বিশেষ অনুমতিতে প্রবেশ, হাজিরা শিটে স্বাক্ষর, অনুপস্থিত হলে লাল কালি দিয়ে উল্লেখ থাকতে হবে।
কেন্দ্রের বাইরে নির্দেশনায় বলা হয়, কেন্দ্রের বাইরে ভিড়/জটলা হতে দেয়া যাবে না, প্রয়োজনে মাইক ও সিসি ক্যামেরা ব্যবহার, নকলবিরোধী পোস্টার লাগাতে হবে, প্রবেশপত্র পরীক্ষা শুরুর ১০ দিন আগে শিক্ষার্থীদের দিতে হবে। উত্তরপত্র সংক্রান্ত নির্দেশনায় বলা হয়েছে, উত্তরপত্র আলাদা করে বিষয় ও সিলেবাস অনুযায়ী প্যাক করতে হবে, ৫০টি করে প্যাকেট বানাতে হবে, নতুন ও পুরাতন সিলেবাস একসঙ্গে রাখা যাবে না, ইংরেজি ভার্সনের জন্য আলাদা প্রশ্নপত্র ও উত্তরপত্র; সব প্যাকেট সিলগালা করে বোর্ডে পাঠাতে হবে। এ ছাড়াও প্রবেশপত্রে ভুল থাকলে ৫ দিনের মধ্যে সংশোধন, পরীক্ষা চলাকালীন স্কুলের ক্লাস বন্ধ রাখা, নির্ধারিত বিষয়ের বাইরে কোনো পরীক্ষা না নেয়ার নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন