গত বছরের মার্চে ভারতের বিপক্ষে বাংলাদেশের জার্সিতে অভিষেক হয় ইংল্যান্ড প্রবাসী ফুটবলার হামজা দেওয়ান চৌধুরীর। গত এক বছরে লাল-সবুজের জার্সিতে ৯ ম্যাচ খেলেছেন লেস্টার সিটির এই ফুটবলার। ৯ ম্যাচে চারটি গোলও করেছেন বাংলাদেশের এই তারকা ফুটবলার। হামজা বাংলাদেশ দলের হয়ে সবশেষ ম্যাচটি খেলেছেন ৩০শে মার্চ, সিঙ্গাপুরের বিপক্ষে সিঙ্গাপুর ন্যাশনাল স্টেডিয়ামে। এক বছরের জার্নিতে বাংলাদেশকে বড় কোনো সাফল্য এনে দিতে পারেননি হামজা। সিঙ্গাপুরের চেয়ে ৯ পয়েন্ট পেছনে থেকে বাছাই পর্ব শেষ করেছে তারা। তবে ২০০০ এশিয়ান কাপ বাছাইপর্বের পর প্রথমবার এই যাত্রা তলানিতে না থেকে শেষ করলো বাংলাদেশ। এই সময়ে দলের সেরা সাফল্য এসেছে ভারতের বিপক্ষে দারুণ জয়। ২২ বছরে প্রথমবার ভারতকে (১-০) হারায় বাংলাদেশ।
সিঙ্গাপুর ম্যাচ শেষে দেশে ফিরেছেন অন্যরা, তবে হামজা চলে গেছেন ইংল্যান্ডে। সেখান থেকে এক ইনস্টাগ্রাম পোস্টে লাল-সবুজ জার্সিতে নিজের প্রথম বছরের অভিজ্ঞতা ভাগাভাগি করে হামজা লিখেছেন, ‘আমরা যেভাবে গ্রুপ পর্ব শেষ করতে চেয়েছিলাম সেভাবে হয়নি! কিন্তু এক বছরে আমরা কতদূর এগিয়েছি সেজন্য আমি সত্যিই গর্বিত। ইনশাআল্লাহ সামনে আমাদের জন্য অনেক কিছু অপেক্ষা করছে। বরাবরের মতোই সবার সমর্থন ছিল অবিশ্বাস্য।’ এর আগে সিঙ্গাপুরের কাছে হারের পর ইএসপিএন-কে তিনি বাংলাদেশের জার্সিতে খেলার অভিজ্ঞতা নিয়ে বলেছিলেন, ‘এটা সত্যিই অসাধারণ। বিস্ময়কর। সত্যি বলতে, এটি আমার করা সেরা কাজগুলোর মধ্যে একটি। আমি এর চেয়ে ভালো কিছু আশা করতে পারতাম না। অবশ্য, বাছাইপর্বের বিষয়টি বাদে।’ দল নিয়ে আশাবাদী হামজা বলেন, ‘তবে এই কঠিন শিক্ষাগুলো সবাইকে আরও শক্তিশালী করে তুলবে। সবাই কিছুটা হতাশ, কিন্তু আমি নিশ্চিত যে পরবর্তীতে যখন আমরা আমাদের খেলার ভিডিওগুলো আবার দেখবো, তখন বুঝতে পারবো আমরা দল হিসেবে আগের চেয়ে কতটা উন্নত হয়েছি।’ বাংলাদেশের প্রতি ভালোবাসার কথা জানাতে গিয়ে হামজা বলেন, ‘প্রথমবার যখন আমরা বাংলাদেশে যাই, তখন আমি আমার গ্রামে গিয়েছিলাম। সেটা একেবারেই গ্রামীণ জায়গা। আমার শৈশবের বড় একটা অংশ জুড়েছিল সেই গ্রাম।’ ফুটবলে বাংলাদেশ ও ইংল্যান্ডের পার্থক্য আকাশ-পাতাল। কিন্তু ভালোবাসা এবং আন্তরিকতা খোনোয় বাংলাদেশ যোজন ব্যবধানে এগিয়ে আছে বলে মনে করেন হামজা। হবিগঞ্জের ছেলে হামজা বলেন, ‘আমরা যখন যুক্তরাজ্যে থাকি, তখনও ফুটবলার হিসেবে অনেক মনোযোগ পাই। কিন্তু সেটা বাংলাদেশে পাওয়া আন্তরিকতার ধারে-কাছেও নেই। এটা একেবারেই অসাধারণ।’ এই মুহূর্তে ইংল্যান্ডে অবস্থান করলেও হামজা বলেন তাঁর হৃদয়ের অনেকটা বাংলাদেশে পড়ে আছে। তিনি বলেন, ‘অনেকেই বলতে পারেন এটা হয়তো কিছুটা ভীতি জাগানো বা আবেগময় ব্যাপার। কিন্তু সত্যি বলছি আমার কাছে, আমার হৃদয়ের অনেকটা ওখানে (বাংলাদেশে) পড়ে আছে। সবাই স্রেফ ভালোবাসা আর ইতিবাচকতা দেখাতে আসে। এ এক অসাধারণ অনুভূতি।’ মা বাংলাদেশি হওয়ার কারণে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করার সুযোগ পান হামজা। তার ক্লাব ইংলিশ প্রিমিয়ার লীগের লেস্টার সিটি। ইংল্যান্ডের শীর্ষ ফুটবল প্রতিযোগিতার এক ক্লাবের খেলোয়াড় বাংলাদেশের ফুটবলে প্রতিনিধিত্ব করবেন, এই ব্যাপারটি রোমাঞ্চ ছড়িয়েছিল দেশের ভক্ত-সমর্থকদের মনে। ২০২৪ সালের শেষ দিকে হামজা বাংলাদেশি পাসপোর্ট পান এবং দেশের হয়ে খেলার যোগ্যতা আনুষ্ঠানিকভাবে পেয়ে যান।
ইংল্যান্ড ফিরে গিয়ে হামজা
‘আমার হৃদয়ের অনেকটা বাংলাদেশে পড়ে আছে’
স্পোর্টস রিপোর্টার
৪ এপ্রিল (শনিবার), ২০২৬
লিংক কপি হয়েছে!
ফন্ট সাইজ:
100%
