বগুড়ার শেরপুরে রাতের আঁধারে দেড় বিঘা জমিতে লাগানো বনজ সাড়ে তিনশ’র বেশি বেলজিয়াম গাছ কেটে ও ভেঙে ফেলেছে দুর্বৃত্তরা। বৃহস্পতিবার রাতে উপজেলার গাড়ীদহ ইউনিয়নের মমিনপুর গ্রামে এই ঘটনাটি ঘটে। জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের জেরে একই গ্রামের মজনুর রহমান ও তার লোকজন গাছগুলো কেটে ফেলেছেন বলে দাবি বাগান মালিক নুরুন্নাহার বেগমের। তিনি এই ঘটনায় শুক্রবার দুপুরে চারজনের বিরুদ্ধে শেরপুর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।
ভুক্তভোগী বাগান মালিক নুরুন্নাহার বেগম বলেন, ক্রয়সূত্রে উপজেলার গাড়ীদহ ইউনিয়নের গিলাবাড়ী মৌজায় চার নম্বর আরএস খতিয়ানভুক্ত ৫৩৪ দাগে ৩৯ শতক জমি দীর্ঘ চল্লিশ বছর ধরে ভোগদখল করে আসছি। কিন্তু বিগত পাঁচ বছর আগে জমিটির মালিকানা নিয়ে বিরোধ তৈরি হয় মজনু গংদের সঙ্গে। এমনকি ওই বিরোধের জেরে আদালতে একাধিক মামলাও দায়ের করা হয়। তবে সব মামলায় হেরে যান মজনু গং। এরপরও চক্রটি থেমে যায়নি। এরই ধারাবাহিকতায় বাগানের গাছগুলো কেটে ফেলা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন। নুরুন্নাহার বেগমের দাবি, দুই লাখ টাকা খরচ করে জমিটিতে সাড়ে তিনশ’র বেশি বনজ গাছ বেলজিয়াম চারা রোপণ করা হয়। কিন্তু হঠাৎ বৃহস্পতিবার দিনগত রাতের কোনো এক সময় নির্বিচারে গাছগুলো কেটে ও ভেঙে ফেলা হয়।
তবে গাছ কাটার অভিযোগ অস্বীকার করে মজনুর রহমান সাংবাদিকদের বলেন, তিনি এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত নন। তার বিরুদ্ধে করা সব অভিযোগ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন। এদিকে ওই ঘটনাটিকে দুঃখজনক আখ্যায়িত করে স্থানীয় একাধিক গ্রামবাসী বলেন, আমাদের সমাজে মানুষে মানুষে শত্রুতা হয়। কিন্তু গাছের সঙ্গে শত্রুতা যা শুনতেই অবাক লাগছে। ঘটনাটি সম্পর্কে জানতে চাইলে শেরপুর থানার ওসি এসএস মঈনুদ্দিন বলেন, জমিজমা নিয়ে বিরোধের জেরে বাগানের গাছ কেটে ফেলার একটি অভিযোগ পেয়েছি। অভিযোগটি তদন্তপূর্বক আইনগত পদক্ষেপ নেয়া হবে।
