ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইলে ড্রেজার দিয়ে শাপলা বিল থেকে মাটি উত্তোলন করছে একটি সিন্ডিকেট। টেন্ডারের মাধ্যমে সঠিক প্রক্রিয়ায় মাটি কাটার কথা বললেও স্থানীয়রা বলছেন ভিন্ন কথা। তবে আব্দুল হক মেম্বার বলছেন মাটি নাসিরনগর এলাকায় রাখার কথা ছিল। এটি মানছেন না সেখানকার এমপি। এখন সরাইলে ভাড়া জায়গায় রাখা হচ্ছে। উপজেলার শাহজাদাপুর গ্রামের পাশের হাওরের শাপলা বিলে চলছে মাটি কাটার মহোৎসব। ফলে হুমকির মুখে পড়েছে সেখানকার অর্ধশতাধিক একর ইরি ফসলি জমি। প্রভাবশালী ওই সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে মুখ খোলার সাহস করছেন না স্থানীয় কৃষকরা। রহস্যজনক কারণে নীরব স্থানীয় নেতৃবৃন্দ ও সংশ্লিষ্ট ভূমি অফিস। গত ২৫শে মার্চ এ বিষয়ে জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত অভিযোগ করেছেন স্থানীয় কৃষক সাব্বির মিয়া। গত বৃহস্পতিবার ছবি ও ভিডিওসহ ভাইরাল হয় মাটি উত্তোলনের বিষয়টি। এ বিষয়ে ফুঁসে উঠছেন স্থানীয় কৃষকরা। বিকালে ঘটনাস্থলে গিয়ে মাটিকাটা বন্ধ করে দিয়েছে প্রশাসন। লিখিত অভিযোগ ও সরজমিন অনুসন্ধানে জানা যায়, বিলের একটি বড় অংশ নাসিরনগরের গোকর্ণ মৌজায় পড়েছে। গত বেশ কিছুদিন ধরে ড্রেজারে মাধ্যমে বিলের মাটি কেটে সরাইলের শাহজাদাপুরে ফসলি জমি সংলগ্ন খালি জায়গায় স্তূপ করে রাখছেন আহাম্মদ মিয়া, আব্দুল হক ও রমিজ আলী গংরা। তাদের দাবি বৈধভাবে শাহজাদাপুর গ্রামের একটি সমিতির মাধ্যমে টেন্ডার প্রক্রিয়ায় তারা বিলটি ডেকে এনেছেন বাবুল মিয়া। তাদের সময় আছে আর মাত্র দুই মাস। তাই তড়িঘড়ি করে মাটি কেটে আপাতত সেখানে রাখছেন। কৃষক ও অভিযোগকারীরা বলছেন, মালিককে না জানিয়ে ফসলি জমির উপর দিয়েই পাইপ টানছেন। আবার জমিতেই মাটি রাখছেন। এতে করে ধান কাটার রাস্তা বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। ফসলি জমি নষ্ট হচ্ছে। বিলের তীরবর্তী জায়গা কাটায় পাশের জমিগুলো গর্তে বিলীন হয়ে যাচ্ছে। সেখানকার প্রায় অর্ধশতাধিক জমি এখন হুমকির মুখে পড়েছে। কৃষকরা তাদের জমি ও ফসল রক্ষার জন্য আকুতি করছেন। অভিযোগকারী সাব্বির মিয়া আরও জানান, তাকে কিছু না বলেই তৈরি ৪ কানি ইরি জমি মাটি রেখে শেষ করে দিয়েছে। অনেক কৃষক দৌড়ে এসে কিছু বলতে চেয়েও থমকে যাচ্ছেন। জনৈক একজন বলেন, ইচ্ছা থাকা সত্ত্বেও তারা মাটির ব্যবসায়ী সিন্ডিকেটের ভয়ে মুখ খুলছেন না। অভিযুক্ত আহাম্মদ মিয়া ও রমিজ আলীর মুঠোফোনে এ বিষয়ে জানতে একাধিকবার ফোন দিলেও রিসিভ করেননি। আব্দুল হক মেম্বার মুঠোফোনে বলেন, আমি ব্যবসায় নেই। ডিসি অফিস থেকে শাহজাদাপুর পূর্বপাড়ার একটি সমিতির মাধ্যমে খননের টেন্ডার এনেছেন বাবুল মিয়া। সময় আছে মাত্র দুই মাস। ড্রেজারে কাটা মাটি নাসিরনগর এলাকায় রাখার কথা ছিল। সেখানকার এমপি সাহেব নিষেধ করেছেন। তাই এখানে আঙ্গুর মিয়া ও জিতু মিয়ার প্রায় ৪৫ কানি জমি ভাড়া নিয়ে মাটি রাখছেন। বিএনপি করে সরাইলের ২-১ জন লোক ব্যবসায় জড়িত আছে। তাদের সঙ্গে কথা বললে আরও জানতে পারবেন। সকল অভিযোগ সঠিক নয়। ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা প্রশাসক মো. আবু সাঈদ বলেন, আমি সদ্য যোগদান করেছি। এ বিষয়ে কিছুই জানা নেই। তবে এখনই খোঁজখবর নিয়ে দেখছি। সরাইল উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) শারমিন আক্তারের নির্দেশে গত বৃহস্পতিবার বিকালে এএসআই সুজন চন্দ্র মজুমদার ও উপ-সহকারী ইউনিয়ন ভূমি কর্মকর্তা শ্রী কুমদ লালা দেবনাথ ঘটনাস্থলে গিয়ে ড্রেজারে মাটি কাটা বন্ধ করে দেন। এ বিষয়ে তারা নাসিরনগরের সহকারী কমিশনার (ভূমি) সোহেল আহমেদের সঙ্গেও কথা বলেছেন। তারা জানান, টেন্ডার আনার কোনো ধরনের কাগজপত্র উনারা দেখাতে পারেননি। শুক্রবারের মধ্যে সেখান থেকে সকল সরঞ্জাম সরিয়ে আনার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। তরী বাংলাদেশের আহ্বায়ক শামীম আহমেদ বলেন, গুটিকয়েক লোকের স্বার্থে বিল বা নদী থেকে মাটি উত্তোলন করলে পরিবেশ সুরক্ষা বাধাগ্রস্ত হবে। ফসলি জমি ধ্বংস করে মাটি রাখলেও পরিবেশের ভারসাম্য ক্ষতিগ্রস্ত হবে। ত্বরিত ব্যবস্থা নেয়ায় উপজেলা ও জেলা প্রশাসনকে ধন্যবাদ।
সরাইলে শাপলা বিলের মাটি উত্তোলন, ফসলি জমি রক্ষায় কৃষকের আকুতি
সরাইল (ব্রাহ্মণবাড়িয়া) প্রতিনিধি
৪ এপ্রিল (শনিবার), ২০২৬
লিংক কপি হয়েছে!
ফন্ট সাইজ:
100%
