কিশোরগঞ্জে নিখোঁজের ২৪ দিন পর তরুণের কঙ্কাল উদ্ধার, নবদম্পতি গ্রেপ্তার

কিশোরগঞ্জে নিখোঁজের ২৪ দিন পর তরুণের কঙ্কাল উদ্ধার, নবদম্পতি গ্রেপ্তার

ফন্ট সাইজ:

কিশোরগঞ্জের নিকলীতে নিখোঁজের ২৪ দিন পর ভুট্টা ক্ষেত থেকে মো. আবীর হোসেন (২০) নামে এক তরুণের গলিত কঙ্কাল উদ্ধার করা হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় উপজেলার সিংপুর ইউনিয়নের ভটিবরাটিয়া মাধাই নগর অংড়াইল হাওরের একটি ভুট্টা ক্ষেত থেকে কঙ্কালটি উদ্ধার করে পুলিশ। নিহত আবীর ভাটিবরাটিয়া উত্তর পাড়ার বাসিন্দা মো. সিদ্দিক মিয়ার ছেলে। এ ঘটনায় নিহতের বন্ধু মাহমুদুল হাসান (২০) এবং তার নববধূ খেয়া আক্তার (১৮)কে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। মাহমুদুল একই গ্রামের ফরিদ মিয়ার ছেলে ও তার স্ত্রী রাজশাহীর বাঘমারা উপজেলার আব্দুর রশিদের মেয়ে। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, গত ৯ই মার্চ থেকে আবীর নিখোঁজ ছিলেন। বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তাকে না পেয়ে ১৩ই মার্চ তার পরিবার নিকলী থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করে। গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় কয়েকজন কৃষক এলাকার অংড়াইল হাওরের ভুট্টা ক্ষেতে গেলে সেখানে একটি কঙ্কাল দেখতে পান এবং পুলিশকে বিষয়টি জানান। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে আবীরের পরিবারকে খবর দিলে তার বাবা পরনের কাপড় দেখে কঙ্কালটি শনাক্ত করেন। মামলা ও থানা সূত্রে জানা গেছে, প্রায় দুই বছর আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম টিকটকের মাধ্যমে মাহমুদুলের সঙ্গে খেয়ার পরিচয় ও প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। চলতি বছরের ১৭ই জানুয়ারি খেয়াকে নিকলীতে নিয়ে আসে মাহমুদুল। এরপর ১৯শে জানুয়ারি তাদের বিয়ে হয়। মাহমুদুল ও আবীর একই গ্রামের বন্ধু হওয়ায় আবীরের সঙ্গে খেয়ার কথাবার্তা হতো। একপর্যায়ে আবীর ও খেয়ার মধ্যে মোবাইল ফোনে আপত্তিকর ছবি আদান-প্রদান হয় বলে অভিযোগ ওঠে। বিষয়টি জানার পর আবীরকে মাহমুদুল হুমকি দেয়। এর দুইদিন পর আবীর নিখোঁজ হয়। নানা জায়গায় খোঁজাখুঁজি করেও এতদিন তার কোনো খোঁজ মিলেনি। নিকলী থানার ওসি রফিকুল ইসলাম জানান, হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার সন্দেহে মাহমুদুল ও তার স্ত্রীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ ঘটনায় আবীরের বাবা বাদী হয়ে মাহমুদুল ও খেয়াসহ অজ্ঞাতনামা কয়েকজনকে আসামি করে শুক্রবার নিকলী থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। নিহতের কঙ্কাল ময়নাতদন্তের জন্য কিশোরগঞ্জ শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ছাড়া, গ্রেপ্তারকৃত দুইজনকে শুক্রবার আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। তাদের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রিমান্ড আবেদন করা হবে বলেও জানান ওসি।

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন