বান্দরবানে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি)-এর উন্নয়ন কার্যক্রম এখন জনবল সংকটে কার্যত মুখ থুবড়ে পড়েছে। প্রয়োজনীয় জনবল না থাকায় তদারকি ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে, আর সেই সুযোগে ঠিকাদারদের বিরুদ্ধে নিম্নমানের কাজ করার অভিযোগ দিন দিন জোরালো হচ্ছে। এলজিইডি অফিস সূত্রে জানা যায়, জেলার সাতটি উপজেলায় ৭ জন উপজেলা প্রকৌশলী থাকার কথা থাকলেও বর্তমানে দায়িত্বে আছেন মাত্র ৪ জন। বদলিজনিত কারণে দীর্ঘদিন ধরে শূন্য পড়ে আছে একমাত্র সহকারী প্রকৌশলীর পদটিও। শুধু তাই নয়, প্রতিটি উপজেলায় ৩ জন করে উপ-সহকারী প্রকৌশলীর পদ থাকলেও বাস্তবে আছেন মাত্র ১ জন করে। ফলে একটি বিশাল কর্মপরিসর সামলাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে হাতেগোনা কয়েকজন কর্মকর্তাকে। অনুসন্ধানে আরও জানা যায়, রোয়াংছড়ি এলজিইডি’র উপজেলা প্রকৌশলী দিবাকর রায়, তিনি অতিরিক্ত পদে দায়িত্ব পালন করছেন রুমা উপজেলাতেও। এ ছাড়াও নাইক্ষ্যংছড়ি এলজিইডি’র উপজেলা প্রকৌশলী মো. নজরুল ইসলাম, তিনিও অতিরিক্ত দায়িত্বে আলীকদম উপজেলায় কর্মরত আছেন এবং লামা উপজেলা প্রকৌশলী আবু হানিফ অতিরিক্ত দায়িত্বে আছেন দুর্গম থানচি উপজেলায়। শুধু প্রকৌশলী সংকটই নয়, প্রতিটি উপজেলায় ২১ জন কর্মকর্তা-কর্মচারীর পদ থাকলেও বাস্তবে কর্মরত আছেন মাত্র ৬ থেকে ১০ জন। এতে করে প্রকল্প বাস্তবায়নের প্রতিটি ধাপে প্রয়োজনীয় তদারকি কার্যত ভেঙে পড়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, এই তদারকির ঘাটতিকে পুঁজি করে ঠিকাদাররা নিম্নমানের নির্মাণ সামগ্রী ব্যবহার করে ‘যেনতেনভাবে’ কাজ শেষ করছে। ফলে বছর ঘুরতে না ঘুরতেই সড়কসহ বিভিন্ন অবকাঠামোতে দেখা দিচ্ছে ফাটল, ভাঙন ও ক্ষয়ক্ষতি। উন্নয়নের নামে অপচয় হচ্ছে সরকারি অর্থ, ভোগান্তিতে পড়ছে সাধারণ মানুষ। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক বাসিন্দা জানান- কাজের মান দেখার কেউ নেই। ঠিকাদাররা নিজেদের মতো করে কাজ করে চলে যায়। কিছুদিন পরই সেই রাস্তা ভেঙে যায়, এটাই এখন নিয়মে পরিণত হয়েছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ঠিকাদার জানান- আমরা নিম্নমানের কাজ করলেও দিতে হয় কমিশন ও শতভাগ ভালো কাজ করলেও দিতে হয় কাজের কমিশন এভাবে কমিশন দিলে আমরা কীভাবে ভালো কাজ করবো। এদিকে, জেলা এলজিইডি অফিসকে ঘিরে উঠেছে কমিশন বাণিজ্যের গুরুতর অভিযোগ। সংশ্লিষ্টদের একটি অংশের বিরুদ্ধে ঠিকাদারদের কাছ থেকে কমিশন নেয়ার বিনিময়ে নিম্নমানের কাজেও চোখ বন্ধ করে থাকার অভিযোগ রয়েছে। যদিও এসব অভিযোগ আনুষ্ঠানিকভাবে অস্বীকার করে আসছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। এ বিষয়ে রোয়াংছড়ি এলজিইডি’র উপজেলা প্রকৌশলী দিবাকর রায় জানান- আমি দুই উপজেলাতে প্রকৌশলীর দায়িত্বে আছি। ফলে দুই উপজেলাতে কাজ করতে হিমশিম খেতে হয়। তারপরও যতটুকু সম্ভব সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি, গুণগত মান ঠিক রেখে উন্নয়ন কাজ সম্পন্ন করার জন্য। বান্দরবান স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের সিনিয়র সহকারী প্রকৌশলী পারভেজ সরওয়ার হোসেন বলেন, একদিকে জনবল সংকট, অন্যদিকে দুর্গম পাহাড়ি এলাকা। ফলে তদারকি করতে গিয়ে আমাদের বেগ পেতে হচ্ছে। তিনি বলেন, বান্দরবান জেলা থেকে সাত উপজেলার দূরত্ব অনেক বেশি, এ ছাড়াও পাহাড়ি দুর্গম এলাকা হওয়ায় যাতায়াত ব্যবস্থা অনেক কঠিন। ফলে সাইটে যেতে সময় লাগে। তারপরও এলজিইডি’র উন্নয়ন মূলক কাজের মান ঠিক রেখে কাজ সম্পন্ন করতে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে বলে জানান এই কর্মকর্তা।
উপজেলা প্রকৌশলী অফিসে জনবল সংকট, ঠিকাদারদের নিম্নমানের কাজ
বান্দরবান প্রতিনিধি
৪ এপ্রিল (শনিবার), ২০২৬
লিংক কপি হয়েছে!
ফন্ট সাইজ:
100%
