পাকুন্দিয়ায় কুকুরের কামড়ে আহত ৬০, ভ্যাকসিন সংকট

ফন্ট সাইজ:

কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়ায় পাগলা কুকুরের কামড়ে অন্তত ৬০ জন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা থেকে রাত পর্যন্ত পাকুন্দিয়া পৌর সদর বাজার, পৌরসভার সৈয়দগাঁও, উপজেলার পুলেরঘাট ও নারান্দীসহ বিভিন্ন এলাকায় পাগলা কুকুরে আক্রান্ত হওয়ার ঘটনা ঘটে। আক্রান্তদের মধ্যে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা থেকে শুক্রবার সকাল পর্যন্ত পাকুন্দিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে মোট ৪৭ জনকে চিকিৎসা দেয়া হয়েছে। তাদের মধ্যে ৫ জনের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় তাদের ভ্যাকসিন দিয়ে কিশোরগঞ্জ সদরে রেফার্ড করা হয়েছে। এদিকে দেড় বছরেরও বেশি সময় ধরে সরকারি হাসপাতালগুলোতে কুকুরের কামড়ের ভ্যাকসিন সরবরাহ বন্ধ রয়েছে বলে হাসপাতাল সূত্রগুলো জানিয়েছে। ফলে কুকুরের কামড়ে আক্রান্ত ব্যক্তিদের বাইরে থেকে ভ্যাকসিন সংগ্রহ করতে হচ্ছে। একদিনে বিপুলসংখ্যক মানুষকে কুকুর কামড়ানোর ফলে বাইরের ফার্মেসিগুলোতে থেকেও ভ্যাকসিন পেতে বিড়ম্বনার শিকার হতে হয়েছে। সংশ্লিষ্ট আরেকটি সূত্র জানিয়েছে, প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর থেকে কুকুরসহ বেওয়ারিশ বিভিন্ন প্রাণীদের আগে যে ভ্যাকসিন দেয়া হতো, সেটিও দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ রয়েছে। ফলে সেটিও জনস্বাস্থ্যের ওপর ঝুঁকি তৈরি করছে। এ ছাড়া বৃহস্পতিবার রাতে উপজেলার নারান্দী ইউনিয়নের শালংকা সাধুরবাড়িতে কুকুরের কামড়ে আক্রান্ত হওয়ার পর একটি কুকুরকে এলাকাবাসী পিটিয়ে মেরে ফেলেছে। এদিকে এ ঘটনার পর কিশোরগঞ্জ-২ (কটিয়াদী-পাকুন্দিয়া) আসনের সংসদ সদস্য এডভোকেট মো. জালাল উদ্দীন এলাকাবাসীকে সতর্ক ও সাবধানে থাকার আহ্বান জানিয়ে আতঙ্কিত না হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন। তিনি জানান, হাসপাতালে কুকুরের কামড়ের ভ্যাকসিন নেই। তবু প্রশাসনের পক্ষ থেকে কুকুরের কামড়ের ভ্যাকসিন ক্রয় করে সকল রোগীকে ভ্যাকসিন দেয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় একটি কুকুর বাজারে ঢুকে পথচারী, দোকানি ও ক্রেতাদের কামড়াতে থাকে। এ সময় অনেকেই দিগ্বিদিক ছোটাছুটি করতে থাকেন। অল্প সময়ের মধ্যেই পুরো বাজার জুড়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। পৌরসভার সৈয়দগাঁও, উপজেলার পুলেরঘাট ও নারান্দীসহ বিভিন্ন এলাকায় পাগলা কুকুরে আক্রান্ত হওয়ার একই ঘটনা ঘটে। পাগলা কুকুরের কামড়ে বিপুলসংখ্যক মানুষ আক্রান্ত হওয়ার পর পাকুন্দিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ছুটে যান। পাকুন্দিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. নূর-এ-আলম খান জানান, গত বৃহস্পতিবার ৪৪ জনকে ও শুক্রবার সকালে ৩ জনকে পাকুন্দিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেয়া হয়েছে। এ ছাড়া গুরুতর আহত ৫ জনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য কিশোরগঞ্জ সদরে পাঠানো হয়েছে। হাসপাতালে ভ্যাকসিন সরবরাহ বন্ধ থাকলেও বাইরে থেকে ভ্যাকসিন এনে আক্রান্তদের চিকিৎসা নিশ্চিত করা হয়েছে।

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন