দল নিরপেক্ষ এবং পেশাদার কর্মকর্তাদের হয়রানি এবং আওয়ামীপন্থি কর্মকর্তাদের পুনর্বাসন কার্যক্রম শুরুর অভিযোগ উঠেছে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের বিরুদ্ধে। একটি রাজনৈতিক দলের আদর্শে বিশ্বাসী ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালক আবদুস সালাম খান নিজের পদ সুরক্ষিত রাখতে হঠাৎ অতি জামায়াতবিরোধী সাজার চেষ্টার অংশ হিসেবে এমনটি করছেন বলে ফাউন্ডেশন সূত্রে জানা গেছে। জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পর যেসব কর্মকর্তা কোণঠাসা ছিলেন, সমপ্রতি তাদের প্রধান কার্যালয়ের গুরুত্বপূর্ণ ও নীতিনির্ধারণী পদে পদায়ন করা হচ্ছে। সূত্র মতে, সোমবার এক অফিস আদেশে ইসলামিক ফাউন্ডেশন প্রধান কার্যালয়ে পদায়ন করা হয় স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদ (স্বাচিপ) নেতা ডা. বদরুল আহসানকে। ডা. বদরুল বেশ জুনিয়র কর্মকর্তা হওয়া সত্ত্বেও দাপটের সঙ্গে বিগত ১৫ বছর সিনিয়রদের ডিঙ্গিয়ে পরিচালক পদ দখলে রাখেন। এসময় তিনি ১৫০ কোটি টাকার তিনটি হাসপাতাল নির্মাণ প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক হিসেবে কাজ করেন। ৫ই আগস্ট শেখ হাসিনার পতনের পর তাকে ময়মনসিংহ সিরতা ইসলামিক মিশন হাসপাতালে পাঠানো হয়।
সোমবার এক আদেশে ডা. বদরুল আহসানকে ঢাকায় প্রধান কার্যালয়ে নীতি নির্ধারণী পর্যায়ে পদায়ন করে নির্দিষ্ট পদের এক পদ উপরে হালাল সনদ বিভাগের পরিচালক পদে পোস্টিং দেয়া হয়।
২০২৪ সালে জুলাই আন্দোলনকারীদের ওপর হামলা এবং আন্দোলনকারীদের পুলিশে ধরিয়ে দেয়ার অভিযোগে বায়তুল মোকাররম ইসলামিক ফাউন্ডেশন অফিস থেকে স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা আবুল কাশেমকে আন্দোলনকারীরা ধরে এনে রাস্তায় মারধর করে। এসময় বায়তুল মোকাররম মসজিদের মুসল্লিরা তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে প্রেরণ করে। রাজধানীর যাত্রাবাড়ী থানার জুলাই হত্যা মামলার এজাহারভুক্ত আসামি আবুল কাশেমকে রাজশাহী থেকে ঢাকায় ইসলামিক মিশনের উপ-পরিচালক পদে পদায়ন করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, এ ক্ষেত্রে বহু সিনিয়র কর্মকর্তাকে ডিঙিয়ে তাকে এ পদে বসানো হয়েছে। এর আগে একই পদে ঢাকায় তার পদায়নের একটি আদেশ জারি হলেও ধর্মমন্ত্রীর নির্দেশে তা বাতিল করা হয়। তবে মন্ত্রী বিদেশে থাকা অবস্থায় পুনরায় তার পদায়নের আদেশ জারি করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র দাবি করেছে। ইসলামিক ফাউন্ডেশনের বঙ্গবন্ধু পরিষদের যুগ্ম আহ্বায়ক ও ইসলামিক ফাউন্ডেশনের সহকারী পরিচালক মুস্তাফিজুর রহমানকে কিছুদিন আগে তার এক পদ উপরে ঢাকা বিভাগীয় কার্যালয়ের উপ-পরিচালক পদে পদায়ন করা হয়। এসময় বঙ্গবন্ধু পরিষদের সভাপতি মহিউদ্দিন মজুমদারকে সিলেট বিভাগে যাতায়াতে কষ্ট দেখে খুলনায় বিভাগীয় পরিচালক হিসেবে পদায়ন করা হয়। বঙ্গবন্ধু পরিষদের সেক্রেটারি সাইফুল ইসলামকে তার এক পদ উপরে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার উপ-পরিচালক পদে পদায়ন করা হয়। এদিকে বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ১৫ বছরে যেসব অনিয়ম এবং দুর্নীতির নিয়োগ সম্পন্ন হয়েছে সেসব বিষয়ে আদৌ কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করেননি মহাপরিচালক আব্দুস সালাম খান, বরং এই সময়ে এসে শূন্যপদে বর্তমান সরকারের আমলে বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে নিয়োগ না দিয়ে বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে নির্ধারণ করে দেয়া প্যানেল থেকে আওয়ামী ক্যাডার নিয়োগের অভিযোগ উঠেছে মহাপরিচালকের বিরুদ্ধে। ফাউন্ডেশন সূত্রে জানা গেছে, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে তোফায়েল আহমেদ নামের একজন কর্মচারীকে অপেক্ষমাণ তালিকা থেকে নিয়োগ দেয়া হয়েছে। বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ২০১০ সালে সিলেকশন কমিটি তাকে অপেক্ষমাণ তালিকায় রাখে। সিলেকশন কমিটির সুপারিশে বলা হয়েছে, এই অপেক্ষমাণ তালিকার মেয়াদ ২০১১ সালে শেষ হয়ে যাবে। সেই আওয়ামী লীগ আমলে প্রস্তুত করা এবং বর্তমানে মেয়াদ উত্তীর্ণ অপেক্ষমাণ তালিকা থেকে আওয়ামী ক্যাডার তোফায়েল আহমেদকে নিয়োগ দিয়েছেন মহাপরিচালক আব্দুস সালাম খান। আওয়ামীপন্থি কর্মকর্তাদের পুনর্বাসনের ক্ষেত্রে মো. মহিউদ্দিন নামক একজন পরিচালকের ভূমিকা মুখ্য বলে জানা গেছে। মহিউদ্দিন ১৯৯৯ সালে তৎকালীন আওয়ামী লীগ নেতা আমীর হোসেন আমুর তদবিরে ছাত্রলীগ কর্মী হিসেবে ইসলামিক ফাউন্ডেশনে যোগদান করেন বলে সূত্রে জানা গেছে। ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালক আবদুস সালাম খান বলেন, সরকারি নীতিমালার আলোকে কিছু কর্মকর্তাকে এখানে ওখানে বদলি করা হয়েছে। কাউকে পদোন্নতি দেয়া হয়নি। ডা. বদরুল আহসান অসুস্থ। মানবিক কারণে তাকে ঢাকায় বদলি করা হয়েছে। জুলাই হত্যাকাণ্ডের আসামি হলে আবুল কাশেমের চাকরি থাকার কথা নয়। বিষয়টা আমার জানা নেই। খতিয়ে দেখবো প্রমাণ পেলে ব্যবস্থা নেবো বলে জানান তিনি।
