কক্সবাজারের উখিয়া-টেকনাফ সীমান্তে ইয়াবা উদ্ধারকে ঘিরে বিতর্ক নতুন নয়, বরং দীর্ঘদিনের এক গুরুতর অভিযোগ আবারো সামনে এসেছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে জব্দ হওয়া মাদকের পুরোটা প্রকাশ্যে দেখানো হয় না, বরং একটি অংশ গোপন রেখে দেয়ার অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, বছরের পর বছর ধরে একই ধরনের ঘটনা ঘটলেও কার্যকরভাবে তা বন্ধ করা যায়নি। গত ১লা এপ্রিল একটি ঘটনায় উখিয়া উপজেলার বালুখালী ফাঁড়িকে কেন্দ্র করে এমন অভিযোগ নতুন করে আলোচনায় আসে। স্থানীয় সূত্রগুলো জানায়, কক্সবাজার-টেকনাফ সড়কে একটি টমটম তল্লাশি করে ৫০ হাজার পিস ইয়াবা উদ্ধারের দাবি থাকলেও, পরে থানায় ভিডিওতে দেখানো হয় মাত্র ২০ হাজার পিস। এ ঘটনায় বালুখালী ফাঁড়ির ইনচার্জ আরমান আজাদের বিরুদ্ধে গরমিলের অভিযোগ উঠেছে। এ ছাড়া ঘটনাস্থলের সিসিটিভি ফুটেজ নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, পুরো ঘটনার ভিডিও ফুটেজ পরবর্তীতে গায়েব হয়ে যায়। তবে এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তাদের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও সচেতন মহলের ভাষ্য, অতীতেও ইয়াবা আত্মসাতের অভিযোগে উখিয়া-টেকনাফ এলাকার একাধিক ওসি, এসআইসহ বিভিন্ন পর্যায়ের পুলিশ সদস্যদের প্রত্যাহার করা হয়েছে। কিন্তু তারপরও অভিযোগ থামেনি। তাদের দাবি, ইয়াবা উদ্ধারের ঘটনায় অনেক সময় পুরো জব্দকৃত পরিমাণ দেখানো হয় না। আংশিক প্রদর্শন করে মামলা দেয়া হয়। আবার কখনো পাচারকারীদের সঙ্গে সমঝোতার মাধ্যমে ‘মালিকবিহীন পরিত্যক্ত’ ইয়াবা হিসেবে কিছু অংশ দেখিয়ে বাকিটা আড়ালে রেখে দেয়া হয়, এমন অভিযোগও রয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বিশ্লেষকদের মতে, সীমান্তবর্তী এই অঞ্চলে মাদক চোরাচালান দীর্ঘদিনের সমস্যা হলেও, যদি জব্দকৃত মাদক নিয়েই অনিয়মের অভিযোগ ওঠে, তাহলে তা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তোলে। এতে আইন প্রয়োগকারী সংস্থার ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হওয়ার পাশাপাশি অপরাধ চক্র আরও উৎসাহিত হতে পারে। এ বিষয়ে পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, এসব অভিযোগ নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করা জরুরি। অন্যথায় ‘রক্ষক যখন ভক্ষক’, এমন জনমত আরও শক্তিশালী হবে। সবমিলিয়ে উখিয়া-টেকনাফে ইয়াবা উদ্ধার কার্যক্রমের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা এখন বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, কঠোর নজরদারি ও স্বাধীন তদন্ত ছাড়া এই চক্র ভাঙা সম্ভব নয়।
উখিয়া-টেকনাফে ‘অদৃশ্য ইয়াবা’ জব্দের আড়ালে আত্মসাতের অভিযোগ, থামছে না বিতর্ক
স্টাফ রিপোর্টার, উখিয়া থেকে
৩ এপ্রিল (শুক্রবার), ২০২৬
লিংক কপি হয়েছে!
ফন্ট সাইজ:
100%
