ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইলে রাতের সংঘর্ষে ওসি, এসআই, এএসআই ও কন্সটেবলসহ অর্ধশতাধিক মানুষ আহত হয়েছে। গ্রামীণ রাস্তায় চলাচলে বাধা দেয়াকে কেন্দ্র করে গত বুধবার রাত ১১টার দিকে উপজেলার নোয়াগাঁও ইউনিয়নের কুচনি ও শাহবাজপুর ইউনিয়েনের বন্দের হাটি মুড়াহাটির লোকজনের মধ্যে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। সংঘর্ষের সঙ্গে জড়িত সন্দেহে পুলিশ ৭ জনকে গ্রেপ্তার করেছেন। এ ঘটনায় এসআই সুজন চন্দ্র মজুমদার বাদী হয়ে সরাইল থানায় মামলা করেছেন। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, স্থানীয় বিরোধ খুনের ঘটনাকে কেন্দ্র করে কুচনি গ্রামের লোকজন বুড্ডা গ্রামের লোকজনকে শাহবাজপুর-বুড্ডা সড়কে যাতায়তে বাধা দিয়ে আসছে গত ৮ বছর ধরে। এ ঘটনায় তাদের মধ্যে মাঝেমধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। একাধিকবার সংঘর্ষের ঘটনাও ঘটেছে। ঘটনার মুলে রয়েছেন মনু মিয়া, সামছু মিয়ার ছেলে রাকিব ও বুড্ডা গ্রামের মৃধার বাড়ি। মৃধার বাড়ির আত্মীয়-স্বজন রয়েছে শাহবাজপুরের বন্দের হাটি ও মুড়াহাটি এলাকায়। গত ১০-১২ দিন ধরে উভয়পক্ষের মধ্যে রাস্তা নিয়ে উত্তেজনা বিরাজ করছিল। মৃধার বাড়ির স্বজন বন্দের হাটির জনৈক বাসিন্দাকে গত বুধবার রাস্তা দিয়ে যেতে বাধা দেয়ায় সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়। বন্দেরহাটি মুড়াহাটির লোকজনের সঙ্গে কুচনি গ্রামের লোকজন রাত ১১টার দিকে দেশীয় অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। রাতের এই সংঘর্ষ এক সময় ভয়াবহ রূপ ধারণ করে। সরাইল থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে সংঘর্ষ নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করেন। প্রায় ২ ঘণ্টা পর রাত ১২টার দিকে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়। এ ঘটনায় সরাইল থানার ওসি মো. মনজুর কাদের ভূঁইয়া, জহিরুল ইসলাম তালুকদার (তদন্ত), এসআই ফারুক আহমেদ, এসআই সুলতান হোসেন, এএসআই ইউসুফ গাজী, আরেফিন জাহান, কন্সটেবল আমির হোসেন, মাসুদ রানা, শাহিনুর ইসলাম ও আজিমুল ইসলামসহ উভয়পক্ষের অর্ধশতাধিক ব্যক্তি আহত হয়েছে। হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়ে বাড়ির ফেরার পথে রাতেই পুলিশ তওফিক মিয়া (২৭), লিয়াকত মিয়া (৩৭), মামুন মিয়া (২৪), ইদন মিয়া (২৭) ও মিরাজ মিয়াকে (২৪) গ্রেপ্তার করেন। আর গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল ১১টার দিকে গ্রেপ্তারকৃত স্বজনকে দেখতে থানায় গেলে রুস্তম আলীকে (৩৮) গ্রেপ্তার করা হয়।
সরাইলে সংঘর্ষে ১১ পুলিশসহ অর্ধশতাধিক আহত, গ্রেপ্তার ৭
সরাইল (ব্রাহ্মণবাড়িয়া) প্রতিনিধি
৩ এপ্রিল (শুক্রবার), ২০২৬
লিংক কপি হয়েছে!
ফন্ট সাইজ:
100%
