স্বপ্নের ইউরোপের আশায় ভূমধ্যসাগরে মৃত্যু হলো মুহিবুরের

স্বপ্নের ইউরোপের আশায় ভূমধ্যসাগরে মৃত্যু হলো মুহিবুরের

ফন্ট সাইজ:

স্বপ্নের দেশ ইউরোপে যেতে লিবিয়া থেকে সাগরপথে অবৈধভাবে গ্রিসে যাওয়ার সময় ভূমধ্যসাগরে মৃত্যু হয়েছে মুহিবুর রহমান (২০) নামে যুবকের। নিহত মুহিবুর সুনামগঞ্জের ছাতক উপজেলার ভাতগাঁও ইউনিয়নের গাগলাজুর গ্রামের নুরুল আমিনের ছেলে। তার মৃত্যুতে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উন্নত জীবনের আশায় দালাল চক্রের মাধ্যমে লিবিয়া হয়ে গ্রিসে যাওয়ার উদ্দেশ্যে যাত্রা করেন মুহিবুর। পরিবারের জমি বিক্রি ও ঋণ নিয়ে প্রায় ১৩ লাখ টাকার চুক্তিতে তিনি এই ঝুঁকিপূর্ণ পথে যাত্রা শুরু করেন। সাগরে একই নৌকায় থাকা সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর উপজেলার এক যুবক গ্রিসে পৌঁছে ফোনে জানান, দীর্ঘ সময় সাগরে ভেসে থাকার কারণে যাত্রীরা চরম দুর্ভোগে পড়েন। টানা কয়েকদিন অনাহারে থাকার ফলে দুর্বল হয়ে মুহিবুর মারা যান। পরে আরও কয়েকজনের মৃত্যু হয় বলে জানা গেছে। উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিদের বরাতে জানা যায়, দীর্ঘ সময় সাগরে ভেসে থাকায় মৃতদেহগুলো সংরক্ষণ করা সম্ভব হয়নি। দুর্গন্ধ ছড়াতে শুরু করলে সেগুলো সাগরেই ফেলে দেয়া হয়। ধারণা করা হচ্ছে, তার মরদেহও নিখোঁজ রয়েছে। গত বুধবার উপজেলার গাগলাজুর গ্রামে গিয়ে দেখা যায়, শোকাহত পরিবার ভেঙে পড়েছে। মা মহিমা বেগম অসুস্থ হয়ে শয্যাশায়ী, ছোট ভাই হাফিজুর রহমান বারবার অজ্ঞান হয়ে মূর্ছা গিয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন এবং বাবা নুরুল আমিন শোকে দিশাহারা হয়ে পড়েছেন। মুহিবুর পরিবারের বড় সন্তান ছিলেন। দেশে রাজমিস্ত্রির কাজ করে তার উপার্জনেই চলতো সংসার। স্থানীয়রা এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত দালাল চক্রের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানিয়েছেন। যাতে ভবিষ্যতে আর কোনো পরিবার এ ধরনের মর্মান্তিক ঘটনার শিকার না হয়। উল্লেখ্য, সাম্প্রতিক এই নৌকাডুবির ঘটনায় আরও কয়েকজন বাংলাদেশির মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে এবং একজন এখনো নিখোঁজ রয়েছেন।

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন