কুমিল্লার মেঘনা উপজেলায় সাব্বির হত্যার প্রতিবাদে মানববন্ধন কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার সকাল ১১টায় উপজেলা পরিষদ চত্বরে এলাকাবাসীর উদ্যোগে এ কর্মসূচি পালিত হয়। জানা যায়, গত ২৬শে মার্চ আলী শাহ্ ভাণ্ডারীর ওরশ উপলক্ষে আয়োজিত বাউল গানের মেলায় কিছু ব্যক্তি নারীদের উত্ত্যক্ত করলে স্থানীয় শাহ্ জালাল সাব্বির (২০), জিহাদ (২২)সহ কয়েকজন তা প্রতিহত করেন। এ ঘটনার জেরে পরদিন শুক্রবার (২৭শে মার্চ) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে লক্ষণখোলা বাজার এলাকায় পূর্ব-পরিকল্পিতভাবে হামলার শিকার হন তারা।
অভিযোগ রয়েছে, লক্ষণখোলা গ্রামের নাঈম, বাবুল মিয়া, জাহিদুল, কামাল মিয়া, সজীব, লিল মিয়া ও ফিরোজ মিয়াসহ অজ্ঞাত আরও কয়েকজন সন্ত্রাসী সিএনজিযোগে যাত্রী সাব্বির ও জিহাদদের গাড়ির গতিরোধ করে। পরে ধারালো অস্ত্র দিয়ে অতর্কিত হামলা চালিয়ে তাদের সিএনজি থেকে নামিয়ে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে ও পিটিয়ে গুরুতর জখম করে। স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে প্রথমে মেঘনা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এবং পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠান। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সাব্বির মারা যান। আহত জিহাদ বর্তমানে আইসিইউতে লাইফ সাপোর্টে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
মানববন্ধনে বক্তারা অভিযোগ করেন, কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যরা নির্মমভাবে সাব্বিরকে হত্যা করেছে এবং জিহাদকে গুরুতর আহত করেছে। তারা দ্রুত ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, জড়িতদের গ্রেপ্তার এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান। এ সময় বক্তারা প্রশাসনকে ৭২ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দেন। তারা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আসামিদের গ্রেপ্তার করা না হলে কঠোর আন্দোলন কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে, এমনকি হরতাল ডাকা হতে পারে। মানববন্ধনে স্থানীয় বাসিন্দা, স্বজন ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন। তারা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
প্রতিবাদ সভায় বক্তব্য রাখেন, উপজেলা বিএনপি’র সাবেক সভাপতি মো. রমিজ উদ্দিন লন্ডনী, উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক মো. সোলেসান, সদস্য সচিব জাকির মাহমুদ, স্থানীয় সমাজ সেবক মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম, মো. আওলাদ হোসেন, বাছির আলী, রুজিনা আক্তার রুজি, সোনিয়া আক্তার, মোসাম্মৎ হাসি আক্তারসহ অনেকে।
