খুলনায় বিএনপি নেত্রীদের দৌড়ঝাঁপ

সংরক্ষিত আসনে এমপি প্রার্থী

খুলনায় বিএনপি নেত্রীদের দৌড়ঝাঁপ

ফন্ট সাইজ:

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সাধারণ আসনের ভোট শেষ হওয়ার পর থেকেই তৎপরতা শুরু হয়েছে নারী নেত্রীদের। নিজেদের রাজনৈতিক প্রোফাইল তৈরি করে যোগাযোগ ও দৌড়ঝাঁপ শুরু করেছেন দলীয় হাইকমান্ডের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে। তাদের টার্গেট জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত আসনের সংসদ সদস্য হওয়া। একই সঙ্গে খুলনা বিএনপি’র কাণ্ডারি জাতীয় নির্বাহী কমিটির ছাত্রবিষয়ক সম্পাদক হুইপ রকিবুল ইসলাম বকুলের কাছে নিজের বিগত দিনের আন্দোলন-সংগ্রামে অবদানের কথা উপস্থাপন করছেন। আর সংসদ অধিবেশন শুরু হতেই তাদের সেই তৎপরতা পৌঁছেছে চূড়ান্ত পর্বে। খুলনা-বাগেরহাট সংরক্ষিত আসনের জন্য বেশ কয়েকজন নেত্রীর নাম উঠে এসেছে, যারা বিভিন্ন ভাবে শীর্ষ নেতাদের মনোযোগ কাড়তে চেষ্টা করছেন। যাদের নাম আলোচনায় রয়েছে, তাদের মধ্যে আছেন- সাবেক এমপি, বিএনপি জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও খুলনা মহানগর মহিলা দলের আহ্বায়ক সৈয়দা নার্গিস আলী। তিনি এর আগে সংরক্ষিত আসনে এমপি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। ১৯৭৯ সালে তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এএসএম মোস্তাফিজুর রহমানের হাত ধরে বিএনপি’র রাজনীতিতে সম্পৃক্ত হন তিনি। পরে খুলনা, বাগেরহাট ও সাতক্ষীরা জেলায় মহিলাদল প্রতিষ্ঠার দায়িত্ব পান। এবারও মনোনয়ন পেতে তিনি কেন্দ্রীয় পর্যায়ে যোগাযোগ রক্ষা করছেন। বয়সের ভারে কিছুটা ন্যূব্জ। তবে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন তিনি। তালিকায় রয়েছেন খুলনা মহানগর বিএনপি’র সদ্য সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক সৈয়দা রেহানা আখতার। তিনি খুলনা জেলা বিএনপি’র সাবেক আহ্বায়ক খ্যাতিমান সাংবাদিক মরহুম সৈয়দ ঈসার সহধর্মিণী। দীর্ঘদিন ধরে দলীয় কর্মকাণ্ডে সক্রিয় রেহানা শিক্ষকতা পেশায় যুক্ত এবং বাংলাদেশ কিন্ডার গার্টেন এসোসিয়েশনের কেন্দ্রীয় কমিটির উপদেষ্টা। বুদ্ধিবৃত্তিক মহলে এবং রাজপথে উভয় জায়গায় দক্ষতা দেখিয়েছেন তিনি। ফলে দল তার এই অবদানের মূল্যায়ন করবে বলে আশাবাদী তার অনুসারীরা। খুলনার এক আলোচিত নারী নেত্রী নিঘাত সীমা। খুলনার রাজনৈতিক অঙ্গনে পরিচিত এই নেত্রী একাধিকবার কারাবরণ করেছেন। জাতীয়তাবাদী তাঁতী দলের খুলনা মহানগর আহ্বায়ক ছিলেন। ছিলেন নগর বিএনপি’র সদস্য। ওয়ান- ইলেভেনের সময় সক্রিয় ভূমিকা রেখেছেন। তৎকালীন সময় সংস্কারপন্থি মান্নান ভূঁইয়া ও আশরাফ হোসেনের বিরুদ্ধে ঝাড়ু মিছিল করে তাদের খুলনায় অবাঞ্ছিত করেছিলেন। যা তখন গণমাধ্যমে ব্যাপক প্রচার হওয়া দেশ জুড়ে আলোচনা আসেন সীমা। মহিলা দল মহানগর আহ্বায়ক কমিটির ৫নং সদস্য সীমা। ২০০২ সালে সংরক্ষিত আসনে প্রার্থী হতে তৎপরতা চালিয়েছিলেন। তখন দলের শীর্ষ নেতাদের নজরে আসেন তিনি। এবারের আলোচনার রয়েছেন এ নেত্রী। তার অনুসারীদের দাবি সীমা দলের দুঃসময়ে মাঠ ছাড়েননি। তাকে এবার মূল্যায়ন করবে হাইকমান্ড। ছাত্র রাজনীতির মাঠ থেকে উঠে আসা আজিজা খানম এলিজার নামও রয়েছে আলোচনায়। স্বৈরশাসক এরশাদবিরোধী আন্দোলন থেকে রাজনৈতিক জীবনের সূচনা। সরকারি পাইওনিয়ার মহিলা কলেজের দুই দফা ভিপি তিনি। খুলনা মহানগর মহিলা দলের সভাপতির দায়িত্ব পালন করেছেন। নগর বিএনপি’র আহ্বায়ক কমিটির সদস্যও ছিলেন। কয়েক দফা রাজপথে হামলায় আহত হয়েছেন। পেশায় শিক্ষিকা এই নারী নেত্রী বিভিন্ন সমাজ সেবামূলক সংস্থার সঙ্গে জড়িত। তরুণ নেতৃত্বকে মূল্যায়ন করা হলে তার সম্ভাবনা রয়েছে মনে করছেন তার অনুসারীরা।
খুলনা সরকারি মহিলা কলেজের সাবেক দুইবারের ভিপি ফারজানা রশিদ লাবনী প্রার্থিতার দাবিদার। তিনি খুলনায় এবং রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রদলের রাজনীতিতে শীর্ষ পদে নেতৃত্ব দিয়েছেন। জাতীয়তাবাদী মহিলা দল কেন্দ্রীয় নির্বাহী সংসদের সহ সাংস্কৃতিক সম্পাদক ছিলেন। বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ‘লাবণ্য’র নির্বাহী পরিচালক হিসেবে কাজ করার পাশাপাশি সাংবাদিকতা করছেন, দেশের বেশ ক’টি শীর্ষ জাতীয় দৈনিকে কাজ করেছেন। পেশাজীবী সাংবাদিকদের শীর্ষ সংগঠন বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন-বিএফইউজে’র কাউন্সিলরও তিনি। ফলে সাংবাদিকদের সমাজের মাঝেও তার শক্ত অবস্থান রয়েছে। রাজপথের আন্দোলনে ও মামলার নিউজ কাভার করার সুবাদে বেগম খালেদা জিয়ার নৈকট্য লাভ করেন। ছাত্র রাজনীতিতে সক্রিয় ভূমিকার বিষয়টি সামনে এনে দলীয় মনোনয়ন পাওয়ার আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন তিনি। সব মিলিয়ে সংরক্ষিত নারী আসন নিয়ে খুলনায় চলছে প্রতিযোগিতা। শেষ পর্যন্ত দলীয় হাইকমান্ড কাকে মনোনয়ন দেয়- সেটিই এখন দেখার বিষয়। এ প্রসঙ্গে খুলনা মহানগর বিএনপি’র সভাপতি শফিকুল আলম মনা জানান-কয়েকজন নারী নেত্রী আমাদের কাছে প্রার্থী হওয়ার বিষয়ে তাদের আগ্রহের কথা জানিয়েছেন। তাদের বিগত দিনের আন্দোলন-সংগ্রামের অবদান ও যোগ্যতার মূল্যায়ন করে দলীয় হাইকমান্ড সিদ্ধান্ত নেবে।

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন