‘নূর-৯৫ কস্তুরী জর্দা’ নকলের দায়ে ২ জনের কারাদণ্ড, তবুও বাজারে নকল পণ্য

ফন্ট সাইজ:

নেত্রকোণা জেলার পূর্বধলা উপজেলার একটি পরিচিত ব্র্যান্ড ‘নূর-৯৫ কস্তুরী জর্দা’-এর নাম, লোগো ও মোড়ক নকল করে নিম্নমানের পণ্য বাজারজাত করার দায়ে দুই ব্যবসায়ীকে কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড দিয়েছেন আদালত। তবে রায় কার্যকর ও আসামিরা আটক হলেও বাজারে এখনো নকল পণ্য পাওয়া যাচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী ব্যবসায়ীরা।
জানা যায়, মোহাম্মদ নুরউদ্দীন ফকির, পূর্বধলার হোগলা ইউনিয়নের ভরাকান্দা গ্রামের স্থায়ী বাসিন্দা ও এলাকার একজন প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ী। তিনি ২০১৬ সাল থেকে “নূর-৯৫ কস্তুরী জর্দা” নামে জর্দা উৎপাদন, সরবরাহ ও বাজারজাত করে আসছিলেন। তার প্রতিষ্ঠানের নামে বৈধ ট্রেড লাইসেন্স, বিআইএন নম্বর এবং শিল্প মন্ত্রণালয়ের অধীন পেটেন্ট, শিল্প নকশা ও ট্রেডমার্ক অধিদপ্তর থেকে নিবন্ধিত ট্রেডমার্ক সনদ রয়েছে। পাশাপাশি ফায়ার সার্ভিস লাইসেন্সসহ প্রয়োজনীয় সকল কাগজপত্র নিয়ে তিনি নিয়মিত কর প্রদান করে বৈধভাবে ব্যবসা পরিচালনা করে আসছিলেন। কিন্তু ময়মনসিংহের তারাকান্দা উপজেলার চারিয়া বাজারের খাইরুল ইসলাম এবং পূর্বধলার হোগলা বাজার এলাকার বাসিন্দা সাইন উদ্দীন ফকির নামের এক ব্যক্তি একই নাম, লোগো ও মোড়ক ব্যবহার করে নিম্নমানের জর্দা উৎপাদন ও বাজারজাত করে আসছিলেন। এতে ভোক্তারা বিভ্রান্ত হচ্ছিলেন এবং মূল ব্র্যান্ডের সুনাম ক্ষুণ্ন হচ্ছিল।
এ ঘটনায় ২০২১ সালে আসামিদের আইনি নোটিশ দেয়া হলে তারা দোষ স্বীকার করে ভবিষ্যতে এমন কাজ না করার আশ্বাস দেন। তবে পরবর্তীতে আবারো একই কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়েন বলে অভিযোগ ওঠে। সর্বশেষ ২০২৫ সালের ১লা ফেব্রুয়ারি নকল পণ্য বাজারে আসার বিষয়টি নিশ্চিত হলে প্রতারণা ও বিশ্বাসভঙ্গের অভিযোগে মামলা করা হয়। গত ৩রা মার্চ আদালত দুই আসামিকে ছয় মাসের সশ্রম কারাদণ্ড এবং এক লাখ টাকা করে অর্থদণ্ড দেন। অনাদায়ে আরও তিন মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ডের নির্দেশ দেয়া হয়।
রায়ের পর ১৮ই মার্চ সাইন উদ্দীন ফকিরকে পলাতক থাকা অবস্থায় ময়মনসিংহের ধোবাউড়া এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করে পূর্বধলা থানা পুলিশ। অপর আসামি খাইরুল ইসলাম ৩১শে মার্চ নেত্রকোণা আদালতে হাজিরা দিতে গেলে তাকেও আটক করা হয়।
এদিকে দণ্ড কার্যকরের পরও নকল পণ্যের কারবার বন্ধ হয়নি বলে অভিযোগ করেছেন মূল ব্র্যান্ডের স্বত্বাধিকারী নুরউদ্দীন ফকির। তিনি বলেন, গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিদের পরিবারের সদস্যরা এখনো একই নামে পণ্য বাজারজাত করছেন। বাজারে এখনো নকল ‘নূর-৯৫ কস্তুরী জর্দা’ পাওয়া যাচ্ছে। তিনি আরও বলেন, আমি বৈধ কাগজপত্র নিয়ে ব্যবসা পরিচালনা করছি। কিন্তু কিছু অসাধু ব্যবসায়ী হুবহু আমার ব্র্যান্ড নকল করে পণ্য বিক্রি করছে। একাধিকবার নিষেধ করলেও তারা তা মানেনি। নকল পণ্যের বিস্তার রোধে ভোক্তা অধিদপ্তরের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করে তিনি বলেন, ব্র্যান্ডের নাম ও লোগো ব্যবহার করে প্রতারণা বন্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেয়া প্রয়োজন।

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন