ঢাকা-১৯ আসনে শান্তিপূর্ণভাবে ভোটগ্রহণ সম্পন্ন

ফন্ট সাইজ:

কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা ছাড়াই সুষ্ঠু এবং শান্তিপূর্ণভাবে শেষ হয়েছে সাভার-আশুলিয়া নিয়ে গঠিত ঢাকা-১৯ আসনের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট। সকাল সাড়ে ৭টা থেকে বিভিন্ন কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ শুরু হয়। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বাড়তে থাকে ভোটারদের উপস্থিতি। কেন্দ্রে আসা ভোটাররা সারিবদ্ধ হয়ে দাঁড়ান ভোট দিতে। অনেকে প্রথমবার ভোট দিতে এসে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন। ভোট দিতে আসেন বিভিন্ন বয়সের নারী-পুরুষ।
গতকাল সকাল ৮টায় রেডিও কলোনি মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজ কেন্দ্রে গিয়ে দেখা যায়, ভোট দেয়ার জন্য দীর্ঘ সারিতে দাঁড়িয়েছেন নারী ভোটাররা। মায়ের হাত ধরে ভোটকেন্দ্রে আসতে দেখা যায় শিশুদেরও। পাশের পুরুষ কেন্দ্রেও ভোটার উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। দুপুরে পুরুষ ভোটারদের উপস্থিতি আরও বৃদ্ধি পায়। রেডিও কলোনি মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজে নারী কেন্দ্রের প্রিজাইডিং অফিসার মোজাফফর হোসেন বলেন, সকাল থেকে ভোট দিতে এসেছেন নারীরা। সুষ্ঠুভাবে ভোটগ্রহণ করতে সব ধরনের ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। আশা করছি সকল ভোটাররা শান্তিপূর্ণভাবে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন। এর আগে সকাল সাড়ে ৭টায় আশুলিয়ার জিরাবো দেওয়ান ইদ্রিস কলেজে ভোট প্রদান করেন ঢাকা-১৯ আসনে বিএনপি’র প্রার্থী ডা. দেওয়ান মোহাম্মদ সালাউদ্দিন বাবু। সাভারের ব্যাংক কলোনি হ্যাপি আইলস ইন্টারন্যাশনাল স্কুল কেন্দ্রে ভোট দেন জামায়াত সমর্থিত ১১ দলীয় জোট এনসিপি’র প্রার্থী দিলশানা পারুল। বিকাল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত নিরবচ্ছিন্নভাবে চলে ভোটগ্রহণ। পোশাক শ্রমিক নাসরিন আক্তার বলেন, আমরা কারখানায় কাজ করি, সময় বের করা কঠিন। তবু ভোট দিতে এসেছি, কারণ আমাদের জীবনের সঙ্গে সংসদের সিদ্ধান্ত জড়িত। তার মতে, নিত্যপণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণ, শ্রমিকদের ন্যায্য মজুরি ও বাসাভাড়া নিয়ন্ত্রণে কার্যকর পদক্ষেপ চান তারা। শিল্পাঞ্চল হওয়ায় ঢাকা-১৯ আসনে শ্রমিক ভোট একটি বড় ফ্যাক্টর হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। কর্মী রফিকুল ইসলাম বলেন, আমরা চাই স্থিতিশীল পরিবেশ। আন্দোলন-সংঘাত হলে আমাদের কাজ বন্ধ হয়ে যায়।’ তিনি আরও বলেন, কর্মসংস্থান টেকসই রাখতে সরকার ও জনপ্রতিনিধিদের সমন্বিত উদ্যোগ দরকার।

নারী ভোটারদের উপস্থিতিও ছিল লক্ষণীয়। সাভার পৌর এলাকার গৃহিণী শারমিন সুলতানা বলেন, শান্তিপূর্ণভাবে ভোট দিতে পারছি, এটা ইতিবাচক দিক। আমরা চাই এলাকার নিরাপত্তা বাড়ুক, মাদক ও কিশোর গ্যাং দমন হোক।’ তার মতে, নারীদের জন্য স্বাস্থ্যসেবা ও কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়ানো প্রয়োজন। সাভার সরকারি কলেজের শিক্ষার্থী তরুণ ভোটার তানভীর হাসান বলেন, প্রথমবার ভোট দিচ্ছি। আমরা চাই যোগ্য ও সৎ নেতৃত্ব। শুধু পোস্টার-ব্যানার নয়, বাস্তব কাজের ভিত্তিতে ভোট দিচ্ছি।’ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারণা তরুণদের সিদ্ধান্তে প্রভাব ফেলেছে বলেও জানান তিনি। ভোটকেন্দ্রগুলোতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের পাশাপাশি আনসার ও প্রিজাইডিং কর্মকর্তাদের ব্যস্ততা দেখা গেছে। ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রগুলোতে অতিরিক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। সাভার উপজেলার সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম বলেন, জাতীয় নির্বাচন উপলক্ষে সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে। নির্বাচনে ৯ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট দায়িত্ব পালন করছেন। পাশাপাশি সেনাবাহিনী, র‌্যাব, বিজিবি, ৫০টি মোবাইল টিম, ডিবি পুলিশ, সাদা পোশাকের গোয়েন্দা, পুলিশের বিপুল পরিমাণ সদস্য মোতায়েন ছিল। সাভার উপজেলার শিমুলিয়া, ধামসোনা, ইয়ারপুর, আশুলিয়া, বিরুলিয়া, পাথালিয়া ও সাভার ইউনিয়ন, সাভার পৌরসভা ও সাভার সেনানিবাস নিয়ে গঠিত ঢাকা-১৯ আসনের ভোটার সংখ্যা ৭ লাখ ৪৭ হাজার ৭০ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ৩ লাখ ৭৯ হাজার ৮৮৯ জন, ৩ লাখ ৬৭ হাজার ১৬৫ জন নারী এবং তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার রয়েছে ১৩ জন। এ ছাড়াও পোস্টাল ব্যালটের জন্য নিবন্ধিত ৫ হাজার ৫১৫ জন ভোটারের মধ্যে ৪ হাজার ৭৪১ জন পুরুষ এবং নারী ৭৭৪ জন। ঢাকা-১৯ আসনে এবার ৮ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

এরা হলেন- বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) দেওয়ান মোহাম্মদ সালাউদ্দিন বাবু (ধানের শীষ), লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) চৌধুরী হাসান সারওয়ার্দী (ছাতা), জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দিলশানা পারুল (শাপলা কলি), ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মোহাম্মদ ফারুক খান (হাতপাখা), ন্যাশনাল পিপলস পার্টির মো. ইসরাফিল হোসেন সাভারী (আম), বাংলাদেশ মুসলিম লীগের মো. কামরুল (হারিকেন), জাতীয় পার্টির মো. বাহাদুর ইসলাম (লাঙ্গল) ও গণঅধিকার পরিষদের (জিওপি) শেখ শওকত হোসেন (ট্রাক)। এদের মধ্যে মূল লড়াই হবে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ডা. দেওয়ান মোহাম্মদ সালাউদ্দিন বাবুর সঙ্গে জামায়াত সমর্থিত ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী দিলশানা পারুলের।

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন