সীতাকুণ্ডে পাহাড় কাটার প্রতিবাদ করায় ‘চাঁদাবাজি’র মামলা, আটক ২

সীতাকুণ্ডে পাহাড় কাটার প্রতিবাদ করায় ‘চাঁদাবাজি’র মামলা, আটক ২

ফন্ট সাইজ:

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে অবৈধভাবে পাহাড় কাটার প্রতিবাদ করায় স্থানীয় যুবকদের বিরুদ্ধে ‘চাঁদাবাজি’র মামলা দায়েরের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় দুই যুবককে আটক করেছে পুলিশ। এলাকাবাসীর দাবি, পরিবেশ রক্ষায় বাধা দেয়ায় তাদের হয়রানির শিকার হতে হচ্ছে।
জানা গেছে, উপজেলার ৯ নম্বর ভাটিয়ারী ইউনিয়নের বিএমএ এলাকার উত্তর পাশে দীর্ঘদিন ধরে একটি ইটভাটার জন্য অবৈধভাবে পাহাড় কাটা হচ্ছিলো।

অভিযোগ রয়েছে, চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের এক নেতার মালিকানাধীন ‘মীর গ্রুপ’ ব্রিকস ফিল্ডের ম্যানেজার তাজুল ইসলামের তত্ত্বাবধানে এ কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছিলো। পরিবেশ অধিদপ্তরের অনুমতি ছাড়াই অপরিকল্পিতভাবে পাহাড় কাটায় এলাকায় পরিবেশগত ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। স্থানীয়দের ভাষ্য, পাহাড় কাটার ফলে যেকোনো সময় ভূমিধস বা ভূমিকম্পে আশপাশের বসতবাড়িতে বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে। এ কারণে এলাকাবাসী একাধিকবার বাধা দিলেও কিছুদিন বন্ধ থাকার পর আবারো কাজ শুরু হয়। সর্বশেষ প্রতিবাদের জেরে ক্ষিপ্ত হয়ে ১৫-১৬ জন যুবকের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির মামলা দায়ের করা হয়। পরে পুলিশ অভিযান চালিয়ে কফিল ও ওয়াসিম নামে দুই যুবককে আটক করে। রোববার রাতে তাদের গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। স্থানীয়রা জানান, অতীতে প্রভাব খাটিয়ে পাহাড়ের খতিয়ান পরিবর্তন করে শিল্পকারখানা হিসেবে দেখানো হয়। এরপর থেকেই ধাপে ধাপে পাহাড় কেটে সমতল করার চেষ্টা চলছে। এলাকাবাসীর অভিযোগ, পাহাড় কাটার প্রতিবাদ করলে ভয়ভীতি দেখানো হয় এবং মিথ্যা মামলার হুমকি দেয়া হয়। প্রায় দেড় বছর আগে পরিবেশ অধিদপ্তর অভিযান চালিয়ে কিছু যন্ত্রপাতি জব্দ করে এবং একজনকে কারাদণ্ড দেয়। তবে এরপরও কার্যক্রম বন্ধ হয়নি। এদিকে বাড়বকুণ্ড এলাকায় পাহাড় থেকে মাটি কাটার দায়ে গত শনিবার সীতাকুণ্ড থানা পুলিশ মাটিবোঝাই তিনটি ট্রাক আটক করেছে। সীতাকুণ্ড থানার এসআই আবুল হোসেন জানান, রোববার রাতে কফিল ও ওয়াসিমকে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠানো হয়েছে। আটক কফিলের স্ত্রী জেমু আক্তার বলেন, আমার স্বামী পরিবেশ রক্ষার জন্য পাহাড় কাটার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করেছিলেন। এ কারণেই তার বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দেয়া হয়েছে।
এদিকে ঈদের কয়েকদিন আগে স্থানীয়দের অভিযোগের ভিত্তিতে ইটভাটায় সরজমিন যান সাংবাদিকরা। এ সময় অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে ইত্তেফাকের সীতাকুণ্ড প্রতিনিধি দিদারুল হোসেন টুটুলের সঙ্গে ইটভাটার ম্যানেজার তাজুল ইসলাম অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন এবং মামলা করার হুমকি দেন বলে অভিযোগ রয়েছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ফখরুল ইসলাম বলেন, অবৈধভাবে পাহাড় কাটা হলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে। পরিবেশ অধিদপ্তরের কর্মকর্তা মো. আশরাফ বলেন, আমরা ইতিপূর্বে অভিযান চালিয়ে কিছু যন্ত্রপাতি জব্দ করেছি এবং একজনকে জেল দিয়েছি। বিষয়টি আমাদের নজরদারিতে রয়েছে।

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন