নারায়ণগঞ্জে প্রতারণার মাধ্যমে আত্মসাৎ করা অর্থ ফেরতের দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী। গতকাল দুপুরে জেলা প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি জানান রাহাবার এগ্রোর স্বত্বাধিকারী ইসমাইল হোসেন রতন। তিনি জানান, ব্যবসার লেনদেনের একপর্যায়ে পাওনা টাকা দিতে টালবাহানা শুরু করেন অভিযুক্ত মহাদেব চন্দ্র সাধু। প্রায় ১৫ কোটি টাকা ফেরত না দেয়ায় গত বছরের ২১শে আগস্ট ফতুল্লা থানায় মামলা হয়। পরে মহাদেব চন্দ্র সাধু ও অন্যান্য আসামিরা তাদের অপরাধ স্বীকার করে আদালত থেকে এই মর্মে জামিন নেন, তারা অবিলম্বে ২ কোটি ৩০ লাখ টাকা পরিশোধ করবেন। বাকি টাকা ৩১শে ডিসেম্বরের মধ্যে বুঝিয়ে দেবেন। আদালতে প্রতিশ্রুত সেই টাকা এখনো ফেরত দেয়নি মহাদেব চন্দ্র ও তার সহযোগীরা। উল্টো মামলা ও হুমকি-ধমকি দিয়ে যাচ্ছে।
তার দাবি, অভিযুক্ত মহাদেব চন্দ্র সাধু দীর্ঘদিন ধরে রাহাবার এগ্রোসহ দেশের অসংখ্য ব্যবসায়ীর সঙ্গে প্রতারণা করে আসছেন। তার বিরুদ্ধে দেশের বিভিন্ন জেলায় প্রায় ১১৬টি মামলা রয়েছে। এর মধ্যে হত্যা, ধর্ষণ ও প্রতারণার মতো গুরুতর অপরাধের মামলা অন্তর্ভুক্ত। ইতিমধ্যে ১২-১৩টি মামলায় আদালত কর্তৃক সাজাপ্রাপ্ত আসামি মহাদেব। এত বিপুলসংখ্যক মামলা এবং সাজা থাকা সত্ত্বেও রহস্যজনকভাবে ধরাছোঁয়ার বাইরে রয়েছে। বহাল তবিয়তে তারা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছে। রতন জানান, পাওনা টাকা না দিয়ে উল্টো মহাদেব চন্দ্র সাধু মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানির কৌশল নিয়েছেন। গত ৬ই ফেব্রুয়ারি মহাদেব সাধু তার ভাগ্নে শুভাশীষ এবং চক্রের অন্যান্যরা মিলে খুলনা থেকে একটি ‘সাজানো অপহরণ নাটক’ মঞ্চস্থ করেন। এ ঘটনায় রাহাবার এগ্রোর স্বত্বাধিকারী ইসমাইল হোসেন রতনকে আসামি করে মিথ্যা মামলা দেয়া হয়। এ মামলায় তাকে ঈদের আগে ১০ দিন জেল খাটতে হয়েছে। জেল থেকে বের হওয়ার মাত্র দুইদিনের মাথায় ১৯শে মার্চ সাতক্ষীরা সদর থানায় তার বিরুদ্ধে আবারো একটি উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মিথ্যা মামলা দায়ের করা হয়। এমতাবস্থয় অবিলম্বে পাওনা টাকা ফেরত এবং প্রতারকের শাস্তি দাবি করেন তিনি।
প্রতারণার মাধ্যমে আত্মসাৎ করা অর্থ ফেরতের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন
স্টাফ রিপোর্টার, নারায়ণগঞ্জ থেকে
৩১ মার্চ (মঙ্গলবার), ২০২৬
লিংক কপি হয়েছে!
ফন্ট সাইজ:
100%
