মাগুরায় তেল সংকটে সেচ ব্যাহত, ধানের ফলন শঙ্কা

মাগুরায় তেল সংকটে সেচ ব্যাহত, ধানের ফলন শঙ্কা

ফন্ট সাইজ:

জ্বালানি তেলের তীব্র সংকটে মাগুরার চার উপজেলার কৃষকরা বিপাকে পড়েছেন। তেলের অভাবে চলতি ইরি বোরো মৌসুমে নিয়মিত সেচ দিতে পারছেন না কৃষকরা। ফলে জেলায় ধানের লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত না হওয়ার শঙ্কা দেখা দিয়েছে। জেলার কৃষি বিভাগ বলছে, চলতি মৌসুমে আবহাওয়া ও পরিবেশ ভালো থাকায় জেলায় ধানের বাম্পার ফলন হবে। কিন্তু বর্তমানে তেলের সংকট থাকায় ধানের অর্জিত লক্ষ্যমাত্রা না হওয়ার শঙ্কা দেখা দিয়েছে। এবার জেলায় ২৭ হাজার ৯০১ হেক্টর জমিতে ধানের চাষ হয়েছে। চলতি বছর ধানের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ১ লাখ ৭৯ হাজার ৬৮৯ টন চাল। মাগুরা সদরের ইউনিয়নের জগদল ইউনিয়নের আজমপুর গ্রামের কৃষক কবির হোসেন বলেন, দুই সপ্তাহ ধরে আমি ধানের জমিতে তেলের অভাবে সেচ দিতে পারছি না। এ বছর আমি পাঁচ বিঘা জমিতে ধানের চাষ করেছি। চাষের পরপর নিয়মিত ভাবেই সেচ দিয়ে আসছি। কিন্তু বর্তমানে জ্বালানি তেলের তীব্র সংকটের কারণে আমি ধানের জমিতে সেচ দিতে পারছি না। ফলে এ বছর ধানের কাক্সিক্ষত ফলন পাবো কিনা ভাবছি। ধান গাছ এখন অনেক বড় হয়ে গিয়েছে। কিছুদিনের মধ্যেই ধানের শীষ বের হবে। এখনই ধানের সেচ দেয়ার উপযুক্ত সময়। জ্বালানি তেলের তীব্র সংকটের কারণে আমি সেচ দিতে পারছি না প্রায় ১০ দিন। হাটে বাজারে কোথাও তেল পাচ্ছি না। মাগুরা সদরের নরসিংহাটি গ্রামের কৃষক জামিল হোসেন বলেন, মাগুরা শহরের পাম্পে গিয়েও মিলছে না তেল। শহরের সব পামগুলোই তেল না দেয়ার ফলে আমাদের সেচ কাজ চরমভাবে ব্যাহত হচ্ছে। মাঝে মাঝে দুই একটি পাম্পে তেল দিলেও লাইনে দাঁড়িয়ে থেকে আমরা তেল পাচ্ছি না। পামগুলোতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থেকেও মিলছে না তেল। মাগুরা সদরের চাউলিয়া ইউনিয়নের বালিয়াডাঙ্গা গ্রামের কৃষক নাজিম উদ্দিন বলেন, তেলের অভাবে চলতি মৌসুমের ধানের সেচ চরমভাবে ব্যাহত হচ্ছে। এবার আমি ৭ বিঘা জমিতে ধানের চাষ করেছি। তেল না পেয়ে আমি দুই সপ্তাহ সেচ দিতে পারছি না। এ বছর জ্বালানি তেলের সংকটে ধানের জমিতে আমাদের গ্রামের অনেক কৃষক সেচ দিতে না পেরে বিপাকে পড়েছেন। তেল না পেয়ে সেচ দিতে পারছেন না অনেকেই। তাই এ বছর ধানের ফলন শঙ্কিত হওয়ার আশঙ্কা। মাগুরা সদরের শ্রীরামপুরের কৃষক জিল্লুর রহমান বলেন, আমি এবার চার বিঘা জমিতে ধানের চাষ করেছি। তেলের তীব্র সংকটের কারণে চরমভাবে সেচ কার্য ব্যাহত হচ্ছে। ফলে ধানের আগামী মৌসুমে অর্জিত লক্ষ্যমাত্রা না হওয়ার শঙ্কায় আমরা খুবই হতাশ ও শঙ্কিত।


কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন