সুনামগঞ্জের ছাতক উপজেলার বিভিন্ন হাওরের ফসল রক্ষা বাঁধ নির্মাণ ও মেরামত কাজে ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। একটি প্রভাবশালী চক্র রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় বাঁধ নির্মাণ ও সংস্কারের নামে সরকারি অর্থ আত্মসাৎ করছে। জানা যায়, ছাতক উপজেলার একটি চক্র কৃষক ও ফসলের স্বার্থ উপেক্ষা করে পরিকল্পিতভাবে বাঁধ নির্মাণের অর্থ আত্মসাৎ করছে। উপজেলার বিভিন্ন হাওরে গঠিত ২৭টি পিআইসি (প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটি)’র মাধ্যমে অধিকাংশ প্রকল্পে নিম্নমানের কাজ করা হয়েছে। অল্প বৃষ্টিতেই অনেক বাঁধে ফাটল দেখা দিয়েছে, কোথাও ধসে পড়েছে। আবার কিছু প্রকল্পে পুরনো বাঁধের উপর সামান্য মাটি ফেলে নতুন কাজ দেখিয়ে বিল উত্তোলনের চেষ্টা করা হচ্ছে। সরজমিন দেখা গেছে, অনেক বাঁধে এখনো ড্রেসিংয়ের কাজ অসম্পূর্ণ রয়েছে। সাম্প্রতিক বৃষ্টিতে কিছু বাঁধের মাটি সরে গিয়ে বাঁধ দুর্বল হয়ে পড়েছে। ফলে অল্প বন্যাতেই বাঁধ ভেঙে হাওরে পানি প্রবেশ করে ফসলহানির আশঙ্কা করছেন কৃষকরা। স্থানীয় কৃষকরা জানান, প্রায় ১৫ লাখ টাকার একটি প্রকল্পে বাস্তবে ৪ থেকে ৫ লাখ টাকার বেশি কাজ হয়নি। একই ব্যক্তি একাধিক পিআইসিতে সভাপতি ও সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। এ ছাড়া, পিআইসি গঠন প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতার অভাব, মনিটরিং কমিটি গঠনে অনিয়ম, গণশুনানি না হওয়া এবং প্রয়োজনীয় প্রচার-প্রচারণার ঘাটতির কথাও জানিয়েছেন তারা। উপজেলার হাওর এলাকায় বর্তমানে ২৭টি প্রকল্পের কাজ চলমান রয়েছে। এর মধ্যে জাউয়াবাজার ও চরমহল্লা ইউনিয়নে পিআইসি’র সংখ্যা বেশি। স্থানীয়দের দাবি, ২৭টি প্রকল্পের মধ্যে দু’টি প্রকল্পের অস্তিত্ব খুঁজে পাওয়া যায়নি এবং অন্তত ২০টি প্রকল্পের কাজে ব্যাপক অনিয়ম হয়েছে। এ বিষয়ে ছাতক পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-সহকারী প্রকৌশলী সৈয়দুজ্জামান নাহিদ বলেন, বর্ধিত সময়ের মধ্যে প্রায় ৯৫ শতাংশ কাজ সম্পন্ন হয়েছে। তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ ভিত্তিহীন বলেও তিনি দাবি করেন। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ডিপ্লোমেসি চাকমা বলেন, আমি এখানে নতুন যোগদান করেছি। মনিটরিং কমিটি আগে গঠিত হয়েছে। এরপর থেকে আমি প্রকল্পগুলো পরিদর্শন করছি। কোথাও অনিয়ম পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।
ছাতকে ফসল রক্ষা বাঁধ নির্মাণে ব্যাপক অনিয়ম-দুর্নীতি
ছাতক (সুনামগঞ্জ) প্রতিনিধি
৩১ মার্চ (মঙ্গলবার), ২০২৬
লিংক কপি হয়েছে!
ফন্ট সাইজ:
100%
